আল্লাহ ও দ্বীনের প্রতি ভালবাসার কারণে ইয়েমেনে হামলা শুরু হয়নি। আবার নিজেরা যে মিসাইল হামলা রুখে দিচ্ছি তাও কোন আল্লাহর ভালবাসার কারণে নয়। পাশ্চাত্যে তৈরী এসব এটার্ক এন্টি মিসাইলের লক্ষ্য কিভাবে শিয়াদের নিক্ষিপ্ত মিসাইল কে ঘায়েল করা হয়। সুনিপুন আঘাত হানার দৃশ্য তারাই চুলছেড়া বিশ্লেষন করে মজা পায়। শতভাগ সফল মিসাইলের তালিকা বানায়। শুধুমাত্র খেলার আকাশটা মুসলমানদের! তাও আবার কাবার আকাশ। ভয়ানক সেনসেটিভ জোন। কায়দা মত একটি হামলা বহু বনী আদমের রক্ত শিরায় শিরায় উৎলে উঠবে। এটা করা শিয়াদের পক্ষে সম্ভব হবে না, সে রিস্ক ভয়ঙ্কর হবে। কিন্তু কাবায় হামলা হবে! এটা শুনতে আমরা অভ্যস্ত হচ্ছি। এটা দ্বারা আমাদের শিরা মাপা হচ্ছে। ইহুদিরা সে সুযোগ নেবেই। এত টান টান উত্তেজনার পরও, এটার সাথে ঈমান, তাকওয়া, কাবার ভালবাসার কোনই সম্পর্ক নেই। এসবই হচ্ছে চেয়ারম্যানের চেয়ার রক্ষার্থে।
এক ভাই মক্কার দিকে লক্ষ্য করে শিয়াদের মিসাইল হামলার ব্যাপারটি দিয়ে নিজেদের মস্ত ঈমানদার আবার তার তালিকা মতে ভিন্ন কাউকে মস্ত বেঈমানদার হিসেবে চিত্রিত করেছেন। বাকি সব ঘুমন্ত মুসলমানের ভোতা ইমানকে কাতুকুতু দিয়ে চাঙ্গা করার ব্যর্থ চেষ্টায় ব্যস্ত আছেন! মনে হচ্ছে তিনিও আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে চিত্তের সন্তুষ্টির প্রতিই নজর দিয়েছেন বেশী করে। সে কারণে তাঁর মত তেজ নিয়ে, অন্য মুসলমানেরা নিজেদের মধ্যে কেন একে অপরকে হুলাক্রমন করছেনা! সেটা নিয়ে গোস্বা প্রকাশ করেছেন! তার নিজের ঈমানী থার্মোমিটারে অন্যদের ঈমান যে একেবারে তলানিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে, কলমের আঁচড়ে সেটা উল্লেখ করাই তার পোষ্টের মূল লক্ষ্য।
শিয়াদের কর্মকাণ্ড অবশ্যই নিন্দনীয়, আজীবন বর্জনীয়! কিন্তু আমাদের সুন্নিরা এমন কি মহান ঈর্ষণীয় আমল করে ফেলল, যার কারণে আল্লাহ তাঁর রহমতের পানি দিয়ে আমাদের ভিজিয়ে, চুবিয়ে একাকার করে দিবেন!
অথচ এখানে ঈমানের প্রথম দাবী ও একমাত্র দাবী হচ্ছে যুদ্ধ বন্ধ করো এবং তা আজই, এখুনি। কে শিয়া আর কে সুন্নি সে বিবেচনা পড়ে হবে। সাধারণ অসহায় মানুষ এসব বুঝে না। দুনিয়াতে শিয়াদের সংখ্যা বাড়ানোর পিছনে, আমাদের সুন্নিদের অদূরদর্শীতা, গোঁড়ামি ও আরব জাতীয়তাবাদের প্রভাব কম নয়। সে কথা না হয় আজ তোলা হলনা। তবে এ কথাটি তোলা একেবারে বেমানান নয় যে, সুন্নিদের সাথে আল্লাহ আছে, রাসুল আছে, কোরআন আছে, হাদিস আছে, ইতিহাস আছে, সাহাবীদের অবদান আছে, অর্থকড়িও আছে, দুনিয়াতে সমর্থনও আছে। এতকিছু থাকার পরও শিয়াদের প্রভাব কিভাবে দিনে দিনে এত বাড়ে! সে প্রশ্ন দিয়ে নিজেদের বিবেক কে তো প্রশ্ন করা যায়।
আবরাহা কাবা ধ্বংসে এগিয়ে এসেছিল কিন্তু কাবার নিকটেও আসতে পারেনি। আল্লাহ আবাবিল দিয়ে সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলেন। ঠিক তার পঁচানব্বই বছর পরে অত্যাচারী হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কাবার চারিদিকে মিনজানিক বসিয়ে, পাথর টুকরা নিক্ষেপ করে কাবা‘কে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল! সেদিন আবাবিল আসেনি! রাসুল (সা) এর বহু সাহাবী তখনও জীবিত ছিল। এখনও যদি কাবা আক্রান্ত হয়, আবাবিল আসবে না, আল্লাহর সাহায্য আসবেনা। যতক্ষণ পর্যন্ত না নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ কমিয়ে না আনি। বিভেদ ভুলে ঐক্য না হই, আর নিজেরা ঘৃণা মিশ্রিত ওয়াজ নসিহত হতে দূরত্ব না বাড়াই। আপনার আমার ঈমান যখন আত্ম-বিচার করবে না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে না অধিকন্তু কাণ্ড দেখার কাজে মত্ত হয়ে পড়বে। তখন পবিত্র কাবার ইজ্জত এর চেয়েও করুন হতে পারে। যা হয়েছিল মুসলমান হাজ্জাজের হাতে! আমার-আপনার দুশ্চিন্তা হবার কথা, আল্লাহ কোন কারণে আমাদেরকে মরিচ বাটার মত কাদা-ভর্তা না বানিয়ে এখনও নাদুস-নুদুস করে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

Discussion about this post