ঘটনার পিছনের রহস্য ছিল, সমুদ্রের গভীর তলে বসে থেকে, অত দূর থেকে ছোড়া একটি মিসাইল যথাসময়ে, নিখুঁত লক্ষ্যস্থলে আঘাত করে কিনা সেটাই পরীক্ষা করা। সঠিকভাবে ঘটনাস্থলে আঘাত না করলেও চিন্তার কি আছে! পরীক্ষা তো পরীক্ষাই, ফলাফল দুটোই হতে পারে। এক্ষেত্রে পরীক্ষা ব্যর্থ হলে তো মুসলমানই মরবে। এভাবে নিজেদের অস্ত্রের শান, ধার, গতি, ধ্বংস ক্ষমতা সবই পরীক্ষা চলছে মজলুম মুসলমানের প্রাণ দিয়ে। সিরিয়ার দিকে চোখ দিলে তো বেকুপ এটা বুঝতে পারে। সকল পরাশক্তি যুদ্ধ করছে, সিরিয়া নামক ভূ-খণ্ডে। এই পলিসিতে কে মরছে সেটা বড় কথা নয়, বরং কে জিতেছে সেটাই মুখ্য বিষয়।
একজন মুসলিম শিশুর কান্নার দৃশ্য দেখে আমাদের কলিজায় চিন চিন করে উঠে কিন্তু অন্যেরা তখন খুশিতে আহ্লাদিত হয়। তারা শিশুর চেহারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিরিখ খরে, ফসফরাস বোমা মানব দেহে কেমন বীভৎস ক্রিয়া করেছে! তারা পরীক্ষা করতে চায় একটি গ্যাস বোমার আক্রমণে একজন মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে মাটিতে কতবার তড়পাতে থাকে! তারাই আজ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব আছে। সাদ্দাম
এই চিন্তা মাথায় রেখে অস্ত্র ব্যবসায়ী আর সমর বিধেরা সারা দুনিয়ার যুদ্ধ লাগাচ্ছে। পরিতাপের বিষয় হল এসব যুদ্ধে ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, মুসলিম দেশগুলো জড়িয়ে পড়েছে। সামনের দিনগুলোতে আরো ভয়াবহ প্রাণঘাতী যুদ্ধ অপেক্ষা করছে এবং এ সবের পরীক্ষার ক্ষেত্র কিন্তু মুসলিম দুনিয়া। ভিন দেশের অস্ত্র দিয়ে আমরা একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করতে লড়তে থাকব। আমাদের মাতৃভূমি ছোট্ট দেশটিও এ সম্ভাবনা থেকে মুক্ত নয়। এখানকার মুসলমানেরা চিন্তা-চেতনায় শতধা বিভক্ত, এটাই পরাশক্তির পূঁজি। আমরা অকর্মণ্য, অলস ও পরশ্রীকাতর জাতি। তাই আমাদের কারো দরকার নাই, তবে পরীক্ষার জন্য গিনিপিগের মত দারুণ উপকরণ হতে পারি। বার্মার মুসলমানদের আমরা জায়গা দিতে পেরেছি কিন্তু আমাদের জন্য সারা দুনিয়ার কোথাও জায়গা হবেনা।

Discussion about this post