ধৈর্য্য মানবজীবনের সবচেয়ে বড় গুন। ধৈর্যগুন অর্জনের জন্য পরিবেশ ও প্রচেষ্টার বিকল্প নাই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে বলেছেন, ধৈর্যশীলেরা সফলকাম, ধের্যশীলেরাই মহাভাগ্যবান ইত্যাদি। ধৈর্যের এই গুন অর্জনে পরিবেশ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। সকল মানব শিশুই ধৈর্যের মৌলিক উপাত্ত নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। পিতা-মাতাকেই সেটা পাইয়ে দিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে হয়।
শিশুরা মসজিদে গেলে দুষ্টামী করে, কিছু মুরুব্বীরা ধমক দেয় যাতে করে আর মসজিদে না আসে। অনেক সময় পিতা-দাদাকেও দু’কথা শুনিয়ে দেয়। এগুলো নিয়ে অনেক লিখা আছে, কথা আছে, মাসয়ালা আছে। এসব আলোচনার জন্য আলেম সমাজ আছে। আমার লিখার বিষয় মসজিদে শিশুর দুষ্টামী হলেও তাত্ত্বিক বিষয় ভিন্ন। মসজিদে শিশু গিয়ে দুষ্টামি করে বটে কিন্তু এটাতে শিশু মানবজীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ গুন তথা ধৈর্য শিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হয়। শিশু অবস্থায় মসজিদে না গেলে মানবশিশু এটা আর কোথাও অর্জন করতে পারে না।
দেড় বছরের একটি শিশু যখন মসজিদের যায় তখন নিশ্চুপ অবস্থায় তাকে বেশ কিছু সময় ধৈর্য ধরে বসে থাকতে হয়। এই বয়সি শিশুরা সর্বদা কথা বলতে চাইলেও মসজিদে না বলে বসে থাকার চেষ্টা করে। দুপুরে সে যখন দাদা-বাবার সাথে মসজিদে যায় তখন প্রায় বিশ মিনিট সময় না খেলে, না বলে নিরবে বসে থাকার অভ্যাস আয়ত্ব করতে হয়। জুমার দিনে কথনও আধা ঘন্টা কখনও এক ঘন্টার বেশী চুপ থাকতে হয়। সে বুঝতে শিখে এখন কান্না করা যাবেনা, খেলা যাবেনা, কথা বলা যাবেনা, ঈমামের কথা না বুঝলেও তাকে চুপটি মেরে বসে থাকতে হবে। রমজানে এই অভ্যাস আরো দীর্ঘ হয়। এই অর্জন পরিবেশের কারণে হয়। মসজিদ মুখী একটি শিশু যেভাবে ধৈর্য অর্জন করতে পারে অন্য কোন শিশু এই গুন অর্জন করতে পারেন না।
একই পরিবেশের দুটো শিশু যার একজন মসজিদে গিয়েছে আরেকজন যায় নি একই বয়সি এমন দুটো শিশুকে পাশাপাশি রেখে আচরণ লক্ষ্য করুন। নির্ঘাত দেখা যাবে, যে শিশুটি মসজিদে যায় তার আচরন ও ধৈর্যসীমা অন্য শিশুটির চেয়ে বেশী।এই জমানায় মাঠ-ময়দানের স্বল্পতার দরুন শিশুরা খেলতে পারে না, মিশতে পারে না। কোন কোন পরিবেশে শিশুদের প্রায় বন্দীর মত জীবন লাভ করে ভিন্নতর ধৈর্যের শিক্ষা পায়। বদ্ধ পরিবেশের মধ্যে আবদ্ধ থেকে ধৈর্যশীল হওয়া আর স্বাধীন ভাবে বিচরণ করে ধৈর্যশীলতা অর্জন করার মাঝে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। সুতরাং শিশুকালে মসজিদের যাবার মাধ্যমে যে স্থিতীশীল অভ্যাস গড়ে উঠে সেটার সুফল শিশু এবং তার অভিভাবক চিরজীবন পেয়ে থাকে।

Discussion about this post