ড. উইলিয়াম ক্যাম্পবেলের কথা কি মনে আছে? মেডিক্যাল সাইন্সের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী নোবেল বিজয়ী ক্যাম্পবেলকে অনেকেই চিনেন! হয়ত হঠাৎ করে মনে পড়বে না! তিনি বহু লেখাপড়া করে, তার মতে তিনি পবিত্র কোরআনের ১০ টি ভুল বের করেছেন! তার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সর্বদা সারা দুনিয়ার মুসলমানদের কে তিনি আহবান করতেন। মুসলমানদের পক্ষ হতে দৃশ্যমান কোন সাড়া না পাওয়ায় তিনি ভাবতে থাকেন যে, পবিত্র কোরআন আসলেই ভুলে ভরপুর! নতুবা মুসলমানেরা সাড়া দিচ্ছে না কেন!
ভারতের বোম্বের আরেক ডাক্তারের চোখে ক্যাম্পবেলের অহংবোধ নজরে পড়ে। তিনি ক্যাম্পবেলের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগ্রহ দেখান। ড. ক্যাম্পবেল শর্ত জুড়ে দেন। যিনি পরাজিত হবেন তিনি তার ধর্ম গ্রহণ করবেন এবং বিতর্কটি হতে হবে আমেরিকার শিকাগো শহরে! যেখানে ক্যাম্পবেল সাহেবের সুনাম-সুখ্যাতি, পরিচিত আছে। ভারতীয় ডাক্তার সেভাবেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, সেই ডাক্তার আর কেউ নয়, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী চিন্তাবিদ ‘ডাক্তার জাকির নায়েক’।
প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার এই বিতর্ক সারা দুনিয়ার বহু মানুষ উপভোগ করেছে। খ্রিষ্টান-মুসলিম নির্বিশেষে সবার নজর ছিল এই বিতর্ক অনুষ্ঠানের দিকে। জাকির নায়েকের এই বিতর্ক অনুষ্ঠান টি বহু ভাষায় ডাবিং করা হয়েছে। কোরআনের কোনই ভুল নাই! ড. জাকির একে একে সব কয়টি প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞান, আরবি ব্যাকরণ ও তদানীন্তন সমাজ ব্যবস্থার আলোকে পরিষ্কার করেছেন। এ ধরণের অব্যক্ত উত্তরের সব কটির সাথে ক্যাম্পবেল একাত্মতা করেছেন।
জাকির নায়েক সেই ঐতিহাসিক বিতর্কে বিজয়ী হন। ডাক্তার জাকির নায়েক সেই অনুষ্ঠানে উল্টো বাইবেলের দশটি ভুল তুলে ধরেন, আজ পর্যন্ত কোন খ্রিষ্টান সে সবের উত্তর দিতে পারেন নাই। ড. জাকির কোরআনকে সম্মান দিতে গিয়ে পুরো দুনিয়াতে সম্মানিত হয়ে যান। বাকিটা সকল পাঠকেরাই জানেন।
আমার আজকের কথা কিন্তু সেটা নয়। ডাক্তার জাকির নায়েক ক্যাম্পবেলের উত্তাপিত কোরআনের দশটি ভুলের আপত্তিটাই যে ভুল ছিল সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছেন। সারা দুনিয়া, মিডিয়া, অডিও, ভিডিও তার সাক্ষী!
বড় পরিতাপের বিষয়, আমাদের দেশের দুই জন পীর তাদের লাখো মুরিদের উপস্থিতিতে জাকির নায়েক কে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হিসেবে বদনাম আর অপবাদ দিয়ে ধুয়ে ফেলছেন যে, সে অনুষ্ঠানে জাকির নায়েক নাকি বলেছেন, কোরআনেই ভুল আছে! কেমন মারাত্মক ও ভ্রষ্ট অপবাদ! সম্মানিত পীরদের কাছেই যদি কাণ্ডজ্ঞানের অভাব হয়, তাহলে অনুসারীরা তো লিঙ্গ-জ্ঞানই হারিয়ে ফেলবে। আমার দুটো কৌতূহলী প্রশ্ন আছে পাঠকদের নিকট,
১. জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এই দুই পীর কিভাবে পেয়েছেন?
২. নিশ্চয়ই অনুসারী কেউ বলে দিয়েছেন, তাঁরা তা বিনা শর্তে বিশ্বাস করেছেন?
৩. পীর যদি শোনা কথার তথ্যে ওয়াজ করেন, তাহলে তাঁদের নসিহত কি নিরাপদ?
৪. পীর হয়ে কারো বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া, নিন্দা করা কি জায়েজ?
৫. খবরের সত্যতা যাচাই না করা পীরদের জন্য দোষনীয় নয়, ব্যাপার খানা কি এমন?
৬. তাহলে তো, ক্যাম্পবেল কোরআনের যে দোষ দিয়েছে, পীরগন তা বিশ্বাস করেছেন!
৭. পীরেরা ভুল স্বীকার করলে কি হাশরের ময়দানে অনুসারীদের উপকার করার সুযোগ হারাবেন?
৮. কোরআনে বলা আছে, ‘যাচাই ব্যতীত শোনা কথা প্রচারকারী মিথ্যুক’! ওনারা কি তাই নয়?
৯. নিজেরা মিথ্যুক হলে, এতগুলো মুরিদকে বিভ্রান্ত করার দোষ কি ঘাড়ে নিবেন না।
১০. মনে হচ্ছে, পীর-মুরিদ, দর্শক আমরা সবাই যেন জাহান্নামে যাবার প্রতিযোগিতায় নেমেছি!
তাই আসুন বিবাদ না বাড়িয়ে, আমরা একে অপরকে মূল্যায়ন করি। একজন মানুষের অনেক দোষের মধ্য একটি ভাল গুন থাকলে, রাসুল (সাঃ) সে ব্যক্তিকে সে ভাল গুনের নাম ধরেই মানুষকে আহবান করতেন। আমরা মানুষের ভাল গুনের সন্ধান করি, তাকে মূল্যায়ন করি তাহলে মানুষের ভিতরের লুকায়িত চিত্ত উৎফুল্ল হবে এবং নিজেকে তৈরি করবে। মুসলিম জ্ঞানীদের এসব কাণ্ডহীন চরিত্র অমুসলিমেরা চিত্ত ভরে উপভোগ করে। এতে আল্লাহর কোন রহম ও কল্যাণ থাকেনা।

Discussion about this post