মানব শিশু জন্ম নেবার সাথে সাথেই, সার্বক্ষণিক তার সাথে থাকার জন্য একজন শয়তানকে নিয়োগ করা হয়। এই শয়তান প্রতিদিন ইবলিশের কাছে তার দৈনন্দিন কাজের বর্ণনা দিয়ে আসে। সাধারণত মানুষের চেয়ে জীন ও শয়তানেরা বেশী হায়াত পায়। তাই একটি মানব শিশুর জন্ম থেকে লেগে থাকা শয়তান, সেই মানুষটির পুরো জীবন তার সাথে লেগে থেকে, তার জীবনের সমুদয় কাজকর্ম দেখা ও মুখস্থ রাখার সুযোগ পেয়ে যায়। পরবর্তীতে এই স্মৃতি দিয়েই শয়তান মানুষকে পথহারা করতে চায়। অন্যদিকে সাথে থাকা এই শয়তান, মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত রিজিক থেকে খাবে, তার সাথে তার ঘরে থাকবে, এমনকি স্ত্রী-সন্তানদের সাথে বিছানায়ও ঘুমাবে! (এ বিষয়টি পরের ট্রপিকে থাকবে ইনশায়াল্লাহ)
জীন ও শয়তানেরা মানুষের হাতে উপার্জিত খাদ্যের উপরই বেঁচে থাকে। মানব শিশু যে সব খাদ্য আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া শুরু করে, সেগুলো মুহূর্তেই ফেরেশতারা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে নেয়, এটা ফেরেশতাদের দায়িত্ব। এখান থেকে নিয়োগ-কৃত শয়তান কোন কিছু খেতে পারেনা, সে উপোষ থাকতে বাধ্য হয়। আর যারা খাদ্যে আল্লাহর নাম নেয় না, সেসব খাদ্যে শয়তান ভাগ বসায়, এভাবেই তারা জীবন ধারণ করে। ফলে মোত্তাকিদের সাথের শয়তান দুর্বল, কায়-ক্লেশে ক্ষীণ হয়ে পড়ে এবং মোত্তাকি ব্যক্তির উপর ভীষণ ক্ষিপ্ত মেজাজে থাকে। প্রতি মুহূর্তে তার সর্বনাশ করার জন্য সে তিরিক্ষি মেজাজে ওৎ পেতে থাকে।
মুমিন নামাজে দাঁড়ালে সেই শয়তান এমন কথা তার মনে স্মরণ করিয়ে দেয়, যা বিগত ত্রিশ বছরেও মনে আসেনি। এই কাজটি শয়তান খুবই দক্ষ হাতে করতে পারে কেননা জীবনের শুরু থেকেই সে এই মুমিনের সাথে ছিল তার সমুদয় কাজ-কারবার নিজ চোখে অবলোকন করেছিল। যখনই সে আল্লাহর ধ্যানে নিজেকে সন্নিবেশ করে, তখনই সে পুরানো হাস্যপদ, চিত্ত বিনোদন মূলক স্মৃতি মনে করিয়ে শয়তান নামাজি ব্যক্তির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজে লেগে যায়। নাছোড়বান্দা দৃঢ় মুমিন বরাবর বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনঃ মেরামতে নিজেকে নিবিষ্ট করে।
এখান থেকে মুমিন ব্যক্তি মুত্তাকী হবার সুযোগ পায়। কেননা অতীতের কিছু গুনাহ যোগ্য স্মৃতিই শয়তান মানুষের মানষপটে তুলে ধরে। হুশিয়ার মুমিন সে সব গুনাহের কথা মনে করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ারও সুযোগ ঘটে যায়। মানুষের এই প্রচেষ্টাকে আল্লাহ খুবই ভালবাসেন এবং মুমিনের মন-মগজ কে এভাবে ঝালাই করে তাকে খাঁটি মানুষে পরিণত করে।

Discussion about this post