জান্নাতি মহিলার পরিচয়

টিপুভাই ডট কম ব্লগের ছবি, নজরুল ইসলা টিপু - tipuvai.com
আত্বা ইবনু আবু রাবাহ্‌ (রাঃ) বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন: আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতি মহিলা দেখাব না? আমি বললাম: অবশ্যই! তখন তিনি বললেন, 
এই কালো বর্ণের মহিলাটি, নবী (সাঃ) -এর নিকট এসেছিলেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই এবং এ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান প্রকাশ হয়ে পড়ে। সুতরাং আমার রোগ ভাল হবার জন্য আপনি আমার পক্ষে আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করুন। 
নবী (সাঃ) বললেন, তুমি যদি চাও ধৈর্য ধারণ করতে পার; এতে তোমার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর তুমি যদি চাও, তাহলে আমি আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করি, যেন তোমাকে আরোগ্য দান করেন! 
মহিলাটি বললেন, তাহলে আমি ধৈর্য ধারণই করব। তবে, ঐ অবস্থায় যাতে আমার লজ্জাস্থান প্রকাশ হয়ে না পড়ে, সে জন্য আপনি আল্লাহর নিকট আমার পক্ষে দু’আ করুন। নবী (সাঃ) তাঁর জন্য দু’আ করলেন।
‘আত্বা (রহ:) হতে বর্ণিত যে, তিনি সেই উম্মে যুফার (রাঃ) নামে দীর্ঘ দেহী কৃষ্ণকায় এই মহিলা সাহাবীকে কা’বার গিলাফ ধরা অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন। 
সহিহ বুখারী ৫৬৫২
মূলত ইসলামে ধৈর্যের গুরুত্ব অনেক বেশী। রোগ-যাতনায় ধৈর্য ধরলে আপাত শান্তি পাওয়া যায় আর ধৈর্য না ধরলে রোগ তো কমে না বরং মাত্রাগুণ বেড়ে যায়। পরকালে বিশ্বাসীরা তো এই রোগের কারণেই মুক্তি পেয়ে যাবে। হাশরের ময়দানের প্রথম অনুভূতি হবে প্রচণ্ড খিদে ও পিপাসার্থ হওয়া। যারা দুনিয়াবি জীবনে বেশী খেয়েছে তারা ততোধিক ক্ষুধার তাড়না নিয়ে ময়দানে হাজির হবে। যারা দুনিয়াতে খাবার থেকে বঞ্চিত থেকেছে তারা সেই কষ্ট সেখানে পাবেনা। এটাই হল বিচারের সমতা। তাই ধৈর্য হল মানবিক জীবনে সবচেয়ে বড় গুন। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ধৈর্যশীলেরাই পরবর্তীতে ভাগ্যবান হয়, আর ভাগ্যবানেরাই মর্যাদা প্রাপ্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *