Tipu vai
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি
No Result
View All Result
নজরুল ইসলাম টিপু
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি
No Result
View All Result
নজরুল ইসলাম টিপু
No Result
View All Result

বক্সীর হাটের পানের খিলি

ডিসেম্বর ৬, ২০১৫
in রম্য রচনা
5 min read
0
শেয়ার করুন
        
‘যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম, বক্সীর হাটের পানের খিলি তারে বানাই খাবাইতাম’। এটি চট্টগ্রামের একটি জনপ্রিয় গানের কলি।
সবাই বক্সীর হাটের পানের খিলি না খেলেও মহেশখালীর পান যিনি খেয়েছেন, তিনি জীবনেও পানের কথা ভুলে না! পান প্রেমীদের ভাষায় মহেশখালীর পান তো পান নয়, তা যেন গাছে ধরা মিষ্টি, শুধু টেনে টেনে ছিঁড়ে খাওয়া।
দ্বীপের ভূমি মহেশখালী থেকে সাত সকালে পানি পথে চট্টগ্রাম শহরের বক্সীর হাটে তাজা পান পৌঁছে যায় ও সারা দেশে রপ্তানি হয়। অধুনা শহুরে নাগরিকদের কাছে বক্সীর হাট হয়ত অপরিচিত নাম কিন্তু ব্রিটিশ থেকে শুরু করে দীর্ঘ বছর এটি চট্টগ্রাম শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল স্থান ছিল। 

পানের পরিচিতি

মানুষের হৃদয়ের আকৃতির মত পান পাতার আকার। হিন্দু পুরাণে দাবী করা হয়েছে শ্রী কৃষ্ণ নিয়মিত পান খেতেন। মুসলমানদের কেউ কেউ দাবী করেন, পান নাকি বেহেশত থেকে এসেছে, সে জন্য তার এত কদর!
মধ্যযুগীয় কবি আলাওল তার পুঁথি সাহিত্যে পানের সুনাম করেছেন এভাবে, ‘অধর রাতুল কৈল তাম্বূল রসে’। পানের আরেক নাম তাম্বূল; পানের পিকের রং তামাটে। রঙের দিকে খেয়াল রেখে সংস্কৃত তাম্র থেকে তাম্বূল শব্দটি এসেছে। তাই সংস্কৃত ভাষায় পানকে তাম্বূল বলা হয়। 
বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়েদের কাছে পানের তেমন কদর নাই। তাদের আগ্রহ গিয়ে আছড়ে পড়েছে বিদেশীদের রূচিবোধের প্রতি।
বিদেশীরা যেটা খায় এরাও চোখ বন্ধ করে সেটা খেতে চায়। তা মন্দ হউক কিংবা ভাল, উত্তেজক কিংবা মাতাল কারক; কোন বাচ-বিচার করেনা! যেহেতু বিদেশীদের কাছে পছন্দ, ফলে তাদেরও পছন্দ হওয়া উচিত। 
আগের দিনের মেয়েরা, পছন্দের ছেলেকে পানের খিলি খাইয়ে, তার ভাল লাগার কথা জানান দিত।
পানে অসম্ভব চুন মিশিয়ে ছেলেদের মুখ ঘা করে বুঝিয়ে দিত, তুমি পছন্দের মানুষ নও। একই ভাবে ছেলেরাও এই পদ্ধতি অনুসরণ করত। তবে মেয়েরা ছেলেদের দেওয়া পান খাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করত।
বর্তমানের মত ‘ইভ টিজিং’ এর মত লাম্পট্য সংস্কৃতি দেশে ছিলনা। তাই কোন মেয়ে, কোন ছেলেকে পান খাওয়ানোকে মুরুব্বীরা তেমন দৃষ্টিকটু মনে করতেন না।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও পানের নানা গুণের কথা রয়েছে। আয়ুর্বেদ সাহিত্যে পানের কথা বলতে গিয়ে এভাবে বলা হয়েছে; ‘মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে, মুখ বিশুদ্ধ রাখতে, মুখের বিশ্রী গন্ধ দূর করতে পান এক মহৌষধ’।
এক সময় হিন্দু বিধবাদের জন্য পান নিষিদ্ধ ছিল। যেহেতু পান আনন্দের প্রতীক, সেহেতু বিধবারা এটা চিবানোর অনুমতি পেতেন না। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তার এক কবিতায় লিখেছেন, ‘এই সিন্ধুর টিপ, সিংহল দ্বীপ, কাঞ্চন-ময় দেশ, ওই চন্দন যার অঙ্গের বাস, তাম্বূল-বন কেশ’। 
ধারনা করা হয়, মালয়েশিয়াতে পৃথিবীর প্রথম পান চাষের সূচনা হয়। এরপরই পানের চাষ শুরু হয় ভারতবর্ষে। পৃথিবীতে পানের জাতের সংখ্যা প্রায় ১০০ টির মত। আমাদের দেশে ১০-১২ প্রজাতির পান পাওয়া যায়।
ভেষজ চিকিৎসায় অনেকভাবে পানের ব্যবহার আছে। পান পাতায় ৭টি শিরা থাকে; এজন্য পানকে সপ্তশিরাও বলা হয়। পান অত্যন্ত নরম, রসালো বলে সহজেই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় ও সহজে পচন ধরে।
বছরে একটি পানের লতা সাধারণত ১২-১৩ হাত লম্বা হয়। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই পান জন্মে, তবে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী দ্বীপ মহেশখালীর পানের সুনাম সবচেয়ে বেশী।

পানের সামাজিক মর্যাদা

যারা পানে আসক্ত, তারা পানের জন্য বেজায় পাগল হয়, এই পাগলামিতে কদাচিৎ মান হারাতেও দ্বিধা করেনা! পান খেলেই মুখ লাল হয়ে যায়।
যারা পান খায়, তাদের হ্যাঁচ্ছো দেবার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ সেই হ্যাঁচ্ছো যদি নিজের গায়ের পাঞ্জাবীতে পরে, তাহলে পৃথিবীর রঙ্গিন ভৌগলিক মানচিত্র নিজের সাদা পোশাকেই ভেসে উঠবে!
তখন পানের ছিটার লাল রঙ্গের ছোট ছোপ ছোপ কফের কণাকে মনে হবে, ইন্দোনেশিয়ার তের হাজার দ্বীপের একটি অংশ বিশেষ! নিজের কফ কণা নিজের পোশাকে পড়লে ভিন্ন কথা কিন্তু অন্যের গায়ে পড়লে তো বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হতে পারে। 
এক সময় বিড়ি-সিগারেট ছোটদের জন্য নিষিদ্ধ বস্তু ছিলনা বড়জোর দৃষ্টিকটু ছিল। কিন্তু পান দৃষ্টিকটুর পর্যায়েও ছিলনা। বরং ছোটদেরকে পান খেতে দেখে মুরুব্বীরা খুশীই হত।
কারণ ছোটদের যদি পানে আসক্তি আসে, তাহলে এই ছোটরা যখন বড় হবে তখন বাজারের ফর্দের মধ্যে যথারীতি পানের নামও থাকবে। সেই ফাঁকে বুড়োদের উপকার হবে।
গ্রামে যখন নতুন বউ আনা হত, শাশুড়ি প্রথমে বউকে পান দিয়ে বরণ করে নিতেন। এটা কোন পানের মহত্মের কারণে নয়, বুড়ো বয়সে নিজেদের সমস্যা দূর করার লক্ষ্যেই এমন আদর আপ্যায়ন হত। 
যে সমস্ত স্বামী বউয়ের পানের পিছনে খরচ করতে চাইতেন না, তারা নানা অজুহাত তুলতেন। বলতেন, মুখখানা বুলবুলির পাছার মত লাল দেখায় বলেই তিনি পান খাওয়া পছন্দ করেন না।
উল্লেখ্য, দৃষ্টিনন্দন বুলবুলির মাথার ঝুঁটি ও পায়ু পথের চারিদিকে লাল পালকের বাহার আছে, যার কারণে তাকে অপূর্ব সুন্দর দেখায়।
একসময় গ্রামাঞ্চলের বিয়েতে পান দিয়ে আপ্যায়ন না করলে, চরম সমালোচিত হবার ভয় থাকত। কোরমা-বিরিয়ানি না খাওয়ালেও অত ভয় হতনা।
বেয়াই বেয়াইনকে আপ্যায়ন করত পান দিয়ে। শুরুতে চা কিংবা ঠাণ্ডা পানীয় পরিবেশনের পরেই পানের অবস্থান। আর মেহমানের বিদায় হত পান প্রদানের মাধ্যমে।
যাত্রা পথে সমস্যা না হবার জন্য কয়েক খিলি পান সাথে দেওয়া হত। বৃদ্ধ স্বামী মারা গেলে, বুড়ি বিলাপ করত, হায়! স্বামীকে শেষবারের মত এক খিলি পান খাওয়াতে পারলাম না! 
কবিয়াল, কাওয়াল, গায়ক সবার কাজে জোস আসার জন্য, গায়কের জন্য প্রচুর পানের খিলি তৈরি থাকত।
সবারই জানা কথা, জাতীয় কবি নজরুল পান খেতে না পারলে তা গানের জোস উঠত না।
বাপের বাড়ীতে যাওয়ার কালে বুড়ি চলার পথে যদি আছাড় খেত, তখন মনে পড়ত, হায়!
“আছাড় যখন খেয়েছিই, তাহলে এক খিলি পানও খেয়ে নিই”
মেহমান দারী করার কিছুই না থাকলে, এক খিলি পানই ইজ্জত ও সম্ভ্রম রক্ষার্থে যথেষ্ট হত। বাংলার সংস্কৃতিতে এটাই একমাত্র বিলাসী খাদ্য দ্রব্য যা নারী-পুরুষ সবার কাছে সমানভাবে লোভনীয় ও সমাদৃত। 
মোগল সম্রাট আকবর ও জাহাঙ্গীরের কাছে হুক্কা খুব প্রিয় হলেও সম্রাজ্ঞী নূর জাহানের কারণে শাহী মহলে পান খুব সমাদৃত হয়।
রৌপ্য নির্মিত, স্বর্ণ খচিত বিভিন্ন পানদানী শাহী মহলের অন্দর মহলে শোভা পেত। সম্রাজ্ঞী নূর জাহানের কারণেই ভারত বর্ষে পানের কদর বেড়ে যায়। পান দানি, চুন দানি, নুন দানি, সুরমা দানি এ সব মোগল হেরেমেরই ঐতিহ্য। 
পান পাতা খেলেই মুখ লাল হয়না, মুখ গাঢ় লাল করতে চাইলে চুন খাওয়া জরুরী। পান-চুনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণেই তা গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করে। চুনের রং দেখতে দইয়ের মত নিরীহ হলেও, খালি মুখে চুন লাগলে ভব-জগত অতিষ্ঠ হয়।
দইয়ের জন্ম দুধ থেকে হলেও, চুনের জন্ম শামুকের খোলস থেকে। শামুকের মাংস খেতে মানুষের শরীর রি রি করলেও, শামুক চূর্ণ মুখে পুরে পান খেতে পেরে, পান প্রেমীরা তৃপ্তি-বোধ করে!
“চুন ছাড়া যে পান উপাদেয় নয়, কিংবা চুন ছাড়া পান খেলে মুখ রঙ্গিন হয়না; এটা পৃথিবীর কোন শামুক বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিল আজও অনুৎঘাটিত রয়েছে!”
প্রত্যেকটি কাজের যেহেতু মান আছে, শ্রেণী বিন্যাস আছে। পান খাওয়াতেও আছে সে রকমের শ্রেণী বিন্যাস।
যারা দীর্ঘদিন শুধু পানের সাথে সুপারি ও চুন মিশ্রিত করে খান; তারা এক পর্যায়ে, এক ধরনের, একই মজার পান খেয়ে আর তৃপ্ত হতে পারেন না। সে জন্য তারা পানের মাঝে আরো চমক আশা করে। তাই পানের মান বাড়াতে সাথে একটু ‘খয়ের’ যোগ করে খান!
খয়ের হল পানের মসল্লা, যা সুখকর ঘ্রাণ সৃষ্টি করে এবং স্বাদে ভিন্নতা এনে দেয়। একদা পান দোকানদার পানের মধ্যে খয়ের লাগানো নিয়ে, ক্রেতাকে প্রশ্ন করেছিলেন। 
‘ভাই আপনি খয়ের খান?’ নতুন ক্রেতা খয়ের সম্পর্কে জানতেন না তাই তিনি কিছু না ভেবেই উত্তর দিলেন, ‘না ভাই আমার নাম মতলব খান।’ 

পানের প্রতি ভালবাসা

এটা নিয়ে হাসাহাসি হলেও যারা পানের সাথে খয়ের খান, তারাও এক পর্যায়ে পানের স্বাদকে আরো কড়া করার জন্য সাথে জর্দা যোগ করেন।
জিহ্বা যখন ভোঁতা হবার উপক্রম হয়, তখন পান প্রেমীরা সরাসরি পানের সাথে সাদা পাতা, তথা তামাক পাতা যোগ করে!
এই তামাক পাতা আগুনে পুড়িয়ে বিড়ি বানিয়ে পান করা বিপদজনক হলেও, পান প্রেমীরা সরাসরি এই বিষাক্ত পাতাকে চিবিয়ে, মুচড়িয়ে পানের সাথে অনায়াসে গিলে ফেলে!
ক্ষতিকারক নিকোটিন সরাসরি পেটে গেলেও পান প্রেমীদের এটা নিয়ে ভয় পায় না, তাদের সোজা দম্ভোক্তি,
“সাদা পাতার চেয়েও শামুকের চুন গুড়া আরো বিষাক্ত, যার পেটে এ দুটো আছে; তাদের ঘর্ষণে বিষ পানি হবেই!”
অর্থকড়ি সামগ্রী হিসেবে পান
পান বাংলাদেশের অর্থকড়ি ফসলের একটি, পান উৎপাদকেরা বছরে কোটি কোটি টাকা পান থেকে উপার্জন করেন।
সে জন্য দেশে পান মালিক সমিতি ও পান বিক্রেতা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মুদির দোকান পান-বিড়ির উপর নির্ভর করেই চালু হয়।
দেশে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশী বলে, পান-বিড়ির দোকানের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশী। তাছাড়া পান বিড়ি না থাকলে যত বড় মুদি দোকানদার হোক না কেন, তার ব্যবসা লাটে উঠবেই।
তাই দেশের মানুষের এ ধরনের পান প্রীতির কারণে, পান এখন আন্তর্জাতিক দুনিয়াতে রপ্তানির সম্মান পেয়েছে!
প্রতি বছর লাখ লাখ ডলারের পান বাহিরের দুনিয়াতে যায়, তবে এই পান বাহিরের দুনিয়ার মানুষ মনের সুখে খায় এমন নয়।
বাংলাদেশীরা প্রবাসে যাওয়ার সময় পৈত্রিক পান খাওয়ার অভ্যাসও সাথে নিয়ে যায়। ফলে তারা যেখানে যায়, সেখানেই পানের প্রেমে মজনু হয়ে থাকে। তাই বহির্বিশ্বে পান রপ্তানি হলেও তার ক্রেতা কিন্তু বাংলাদেশীরাই।
পান দেশের জন্য রপ্তানি যোগ্য পণ্য হলেও, পৃথিবীর বহু-দেশে পানের উপর রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা!
মধ্য প্রাচ্যের কয়েকটি দেশে পান সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। তাই বলে পান প্রেমীরা পান না খেয়ে তো আর বসে থাকতে পারেন না।
অবৈধ পথে, চোরাই পথে পানের বিপণন চলছেই। সবজির সাথে, বরফ দেওয়া মাছের সাথে, এমনকি দেহের রানের সাথে বেঁধে পান আসছেই। বিদেশের এয়ারপোর্টে কাস্টমস কর্মকর্তার পান বাহক কাউকে সন্দেহ হলে, কখনও জনসম্মুখে প্রায়ই উলঙ্গ করেই পান ও রান তল্লাশি উভয়টা চালায়। 
এভাবেই পান ঢুকে পড়েছে আরব আমিরাতের বাজারে। যেহেতু পান বিক্রি এদেশে প্রকাশ্য নয়, সেহেতু এখানে পান বিক্রির নিত্য নতুন প্রক্রিয়াও বের করে চলেছেন অভিজ্ঞ পান বাজার-কারী গবেষকেরা।
যারা পানের ক্রেতা, তাদের পান ক্রয়ে কিছু হালকা প্রশিক্ষণের দরকার হয় এবং কিছু সাংকেতিক কোড রপ্ত করতে হয়। যারা সাংকেতিক কোডে অভ্যস্ত একমাত্র তারাই মন ভরে পান খেতে পারে, নতুবা বেশী টাকা হাওয়া হবার সম্ভাবনা আছে।
পৃথিবীর সেরা কসমোপলিটান শহর আবুধাবি ও দুবাই পরিষ্কার-পরিছন্নতার জন্য দুনিয়ায় বিখ্যাত। বিলিয়ন ডলারে নির্মিত নয়নাভিরাম ভবনের করুণ দশা করতে একজন পান প্রেমীর একটি পিকই যথেষ্ট!
বাস্তবে তা হচ্ছেও! তাই আরব দেশে যারা পান বিক্রি করে তাদের জন্য শাস্তি মূলক ব্যবস্থা আছে। যারা পানের খাদক তাদের জন্যও শাস্তি, নগদ জরিমানার ব্যবস্থা আছে।
তারপরও পান প্রেমীরা নাছোড়বান্দা! প্রতিজ্ঞা করেই পান খেয়ে চলে। শোনা যাচ্ছে, বিশ্রী তিক্ততার কারণে, ইউরোপের বাজারেও পানের উপর নির্মম নিষেধাজ্ঞা চালু হয়েছে।

পানের সাথে দাঁতের সম্পর্ক

খালি পানে যথেষ্ট পরিমাণ ভেষজ উপাদান বিদ্যমান। প্রচুর ক্লোরোফিলে ভরা প্রতিটি পানের কোষ। মুখের দুর্গন্ধ দূর, হজমে উপকার, একাকীত্ব নিবারণে পানের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।
ওদিকে উইকিপিডিয়া জানিয়েছে চুন, সুপারি, জর্দা মিশ্রিত পানে মুখে ও গলায় ক্যান্সার হয়। মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য পান খাওয়া হলেও, যথা সময়ে মুখ পরিষ্কার না করার কারণে মুখের পচা পানই নতুন দুর্গন্ধের কারণ হয়!
বয়স বাড়ার সাথে সাথে দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় হয়, এতে মুখ ঠিক মত পরিষ্কার না করার কারণে মুখের পচন ও খাদ্য কণার পচন দুটোই যোগ হয়। বয়সের সাথে সাথে মুখের দুর্গন্ধও পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে।
সেজন্য মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কেউ জিরা, কেউ মিন্ট, কেউ ঝাঁঝালো-রসালো জিনিষ মুখে রাখেন, সাথে সাথে মুখও পরিষ্কার রাখেন। পান মুখের দুর্গন্ধ রোধে কার্যকরী হলেও, যারা পান খায় তারা কিন্তু এই উদ্দেশ্যে পান খায়না, খায় নিতান্ত নেশার ঝোঁকে। আর নেশার ঝোঁক হলেই ইসলামে তা নিষিদ্ধ।
যত কথা বলাই হোক না কেন, পানের একটি স্থায়ী সম্মান অন্তত এশিয়ার বেশ কিছু দেশে আছেই। কিছু দেশে পানের বদনাম আছে বটে, তা কিন্তু মোটেও পানের কারণে নয়।
এই বদনাম যারা পান খায়, সে সব পান প্রেমীদের বদ অভ্যাসের কারণেই হয়েছে। পরিচিত এক ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন পরে রাস্তায় দেখা! লম্বা সালাম দেবার পরও তিনি কোন উত্তর না দিয়ে, ইশারায় একটু থামতে বললেন!
অতঃপর রাস্তার পাশের বালিময় একটি নিরাপদ জায়গা খোঁজ করে, তাতে একগাল লাল পিক ছুঁড়ে, সটান দাঁড়িয়ে বললেন, ‘ওয়ালাইকুম সালাম’! তখনই বুঝলাম, এতক্ষণ তিনি গাল ভরে পানের রসালো থুথু জমিয়ে রাস্তায় চলাচল করছিলেন!

পানের নেতিবাচক দিক

মুখে পানের পিক থাকাবস্থায় কেউ কথা বললে, পানের পিক মিশ্রিত থুথুর কণা বরাবরই নিক্ষিপ্ত হতে থাকে।
পান প্রেমিক ব্যক্তি, কোন সমাবেশের বিশেষ অথিতি হয়ে মাইকে বক্তব্য দিলে, পরবর্তী বক্তার জন্য সে মাইক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়।
কেননা ততক্ষণে পুরো মাইকের জালিটাই পান-থুথুর কাদায় আবদ্ধ হয়ে শব্দ কম্পন ঢুকার রাস্তাটাই বন্ধ হয়ে যায়!
দামী টাইলস, রঙ্গিন দেওয়ালে, বিদ্যুতের খুঁটিতে, গাছের গোরায়, গাড়ীর টায়ারে, ভবনের সিঁড়িতে সর্বত্রই পান পিকের কদাকার অভ্যাসের নমুনা দেখা যায়।
তার সাথে যদি যোগ হয় আঠালো কফ! এক সপ্তাহ লাগে শুকাতে আর এক বছর লাগে দাগ মুছতে!
এসব মানুষের কদাকার অভ্যাস রুখতে, আমাদের দেশে অফিস আদালতে, বালির পাত্র রাখা হয়। যাতে করে তারা তাদের থুথুর গোস্বা এসব পাত্রের সাথে করতে পারে।
বাংলাদেশের মানুষ পান প্রেমীদের জন্য এই সম্মানের ব্যবস্থা করলেও বিদেশে এটা নাই। তাই তারা কদাকার দাগ নির্মূলের জন্য পানই নিষিদ্ধ করেছে।
সে জন্য মধ্য প্রাচ্য ও ইউরোপে পানকে ঘৃণার সহিত গ্রহণ করা হয়। পান ব্যবহার কারীদের অসুন্দর শিষ্টাচারের জন্য উপকারী পান পাতাকে আজ দুনিয়ার দুয়ারে দুয়ারে নিষিদ্ধের গ্লানি বয়ে বেড়াচ্ছে!

উপসংহার 

রাসুল (সাঃ) দাঁত পরিষ্কার ও মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে যথেষ্ট হুশিয়ার হতে তাকিদ দিয়েছেন। তিনি নিজেও কম করে দৈনিক ৫ বারের বেশী দাঁত পরিষ্কার করতেন। পরিষ্কার পরিছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ বলেছেন। তিনি বলেছেন,
“আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্ট না হত, তাহলে দৈনিক ৫ বার দাঁত মাজাকে বাধ্যতামূলক করে দিতাম”
আরো বলেছেন,
“মুখে দুর্গন্ধযুক্ত মানুষের পাশে কল্যাণের ফেরেশতা পর্যন্ত কাছে আসেনা”
মুখের গন্ধের অধিক সতর্কতা হিসেবে নিজে কখনও কাঁচা পিয়াজ খান নাই। তাঁর জীবনের অন্তিম শয়ানে, শেষ কাজটুকু করেছিলেন দাঁত মাজার মাধ্যমে; তিনি মৃত্যুর বিছানার, মৃত্যু দূতের সাথে সাক্ষাতের আশায় শায়িত অবস্থায় দাঁত মেজেছেন।
তারপর মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে এই ধরা ত্যাগ করেছেন। মুখের সৌন্দর্য ও দুর্গন্ধ গত ব্যাপারটি কতটুকু গুরুত্বের বিবেচনা রাখে একবাক্যে বুঝার জন্য এই দৃষ্টান্তই যথেষ্ট।
তাই যারা পান খায়, তাদের আরো সচেতন ও সজাগ হওয়া উচিত। এতে পানের মর্যাদা ও গুরুত্ব রক্ষা হয়, হাজার হাজার মানুষ পান চাষে জড়িত, তারাও উপকৃত হবে। হয়ত এর ভাল দিকের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নতুন প্রজন্মও অচিরে পান প্রিয় হয়ে উঠবে।
Tags: সামাজিক
Previous Post

কোটিপতি এছাক আলী

Next Post

আচানক! এক দরবেশের আগমন

Discussion about this post

নতুন লেখা

  • জ্বালানী তেল যেভাবে তৈরি হয়
  • শাহ পদবীটা বিরাট অদ্ভুত
  • তীর তথা ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে বলিয়ান হতে স্বয়ং রাসুল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন।
  • তসবিহ দানা বৃত্তান্ত!
  • হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী দেওবন্দি ও বেরেলভী আকিদার সূত্রপাত

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় লেখা

No Content Available

নজরুল ইসলাম টিপু

লেখক পরিচিতি । গাছের ছায়া । DraftingCare

Facebook Twitter Linkedin
© 2020 Nazrul Islam Tipu. Developed by Al-Mamun.
No Result
View All Result
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি

© 2020 Nazrul Islam Tipu. Developed by Al-Mamun.