জুসের দোকানে বসা, মোটা দেহের এক সুখী ব্যক্তির, চরম বেজার চেহারা দেখে বুঝেছিলাম; কোন গণ্ডগোল হয়েছে! ভাবছিলাম এ ধরনের বিরস বদনের ক্রেতা দেখলে অন্য ক্রেতারা দোকানের আশে পাশেও যাবেনা। উল্টো দোকানদারের ব্যবসা লাটে উঠার কারণ হয় কিনা। তিতা করল্লা ও চাহিদার বিবর্তন
আরো পড়তে পারেন…
- কালোজিরা : নিয়ত করে খেলে যে বিচি রোগ সাড়ায়
- কৌতূহলী উদ্ভিদ বিস্ফোরক শসা
- খয়েরী গাছের ইতিকথা
না, না, ভুল দেখেছিলাম! বিল দেবার সময় বুঝেছিলাম, জুসের মিষ্টি ভাব কমের কারণে তিনি পেরেশান হন নাই! বরং তিতা করলার জুসের প্রভাবে, তেতো মুখের জ্বালায় তিনি মুখ বেজার করেছিলেন। টাকা দিয়ে কিল খাওয়ার দৃশ্যের মত লাগল ব্যাপার খানা। কিছুকাল আগে থেকেই তিতা করলার শরবতের রমরমা প্রচারের ধকল এখনও বাজারে আছে।
অনেকে বলে থাকেন, ডায়াবেটিসের জন্য নাকি বেজায় উপকারী। ব্যাপারটি এখনও শতভাগ প্রমাণিত হয়নি। ওটা ডায়াবেটিস ভাল করেনা কিন্তু রক্ত থেকে চিনি কমিয়ে ফেলার ক্ষমতা আছে। এই কারণেই হয়ত ওভাবে বলা হয়। তবে এই প্রচারণার ফলে তিতা করলার বাজার চাঙ্গা হবার সুযোগ হয়েছে।
তিতা করলা খুবই পরিচিত একটি সবজি। ইংরেজিতে ওটাকে Bitter Gourd কেউ কেউ Bitter Melon বলে থাকে। তিতা করলা দারুণ উপাদেয় সবজি। বয়স না বাড়া পর্যন্ত এই সবজির মজা বুঝা যায় না। চল্লিশের পর থেকেই জিহ্বার নিউরন কণাগুলো দুর্বল হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সেলগুলো মরতে শুরু করে। তখন মুখের স্বাদ কমতে থাকে।
মূলত নিউরন সেল গুলোই খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করে। তিতা করলার তেতো স্বভাব নিউরন সেল গুলোকে কিছুটা সতেজ ও সজীব করে তুলে। ফলে মুখে কিছুটা স্বাদ ফিরে আসে। এই কারণে সবজির কাতারে তিতা করলার একটি সম্মান জনক অবস্থান আছে। তিতা করল্লা ও চাহিদার বিবর্তন
সবজি হিসেবে তিতা করলার সম্মান যতই থাকুক না কেন, মেজবান-শাদীর আইটেমে তিতা করলা রাখা হয় না! কেননা ওটা ওখানে মানানসই নয়। ধনী-বিত্তশালীদের মেহমানদারীর আইটেম হিসেবে তিতা করলা এখন অপাংতেয়।
তবে সৌখিন এক ব্যক্তিকে তিতা করলার ভিতরে ইলিশ মাছের কিমা ঢুকিয়ে যত্ন করে রান্না করতে দেখেছিলাম। বড় জোড় তিতা ইলিশ ভাজি বলা যেত! কিন্তু তাতে না ইলিশের টেস্ট ছিল, আর না তিতা করলার।
তাই বলে ব্যবসায়ীরা তো আর হাত গুটি মেরে বসে থাকতে পারে না। তারাও চরম ধান্ধা-বাজ, কিভাবে ওটাকে বাজার জাত করা যায়। অতঃপর সফলতার মুখ দেখা মিলেছে। অবশেষে তিতা করলার চায়ের প্যাকেটও বাজারে এসে গেছে। সৌখিন মানুষেরা দেদারচে কিনছে। সুদৃশ্য প্যাকেটের প্রতি কিছু মানুষের আস্তা-বিশ্বাস প্রবল। অনেকেই দামের দিকেও তাকায় না। নানা বানীতে ভরপুর প্যাকেটের শরীর।
উপসংহারে একটি কথা বলা যায়, তিতা করলার গুন নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তিতা করলার শরবতের যে গুন, চায়ের গুণাবলীও প্রায় একই লিখা হয়েছে। যদিও এমনটি হওয়া প্রশ্ন-সাপেক্ষ বৈকি। কোন কিছু শুকালে তার গুণাবলী কাঁচার মত আর থাকে না। তা ছাড়া ওটাতে কিছুটা ক্যামিকেলের সংমিশ্রণও ঘটাতে হয়। তাই সবার উচিত অন্যকে দেখেই বাজার করা অনুচিত। নিজে কিছু জেনে শুনে লেখাপড়া করেই গ্রহণ করা উচিত।


Discussion about this post