দুনিয়াতে কেউ কাউকে প্রতিষ্ঠিত করিয়ে দিতে পারে না। আবার কেউ প্রতিষ্ঠিত করার পিছনে ভূমিকা রাখলেও, সে তার মূল্য বুঝবে না। পিতা যদি স্বীয় পকেটের টাকা দিয়ে, তার সন্তানকে একটি দামি গাড়ি কিনে দেয়; সন্তান সেটার যথাযথ মূল্যায়ন নাও করতে পারে। অধিকন্তু গাড়ি অযত্ন-অবহেলার মুখে পড়বে! প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মূল অন্তরায়
আরো পড়তে পারেন…
- নিজের পায়ে দাঁড়ানো
- মানুষ কিভাবে সৃষ্টির সেরা
- মানুষ যখন নিজেই শয়তান হয়
অন্যদিকে ছেলে যদি নিজের আয়ের টাকায় একটি ‘সাইকেল’ কিনে। তাহলে সেটাকে সে খুবই যত্নের সাথে রাখবে! নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করবে! কেননা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গুরুত্ব বুঝার জন্য নিজের শরীরের ঘাম ও মগজের খাটুনির দরকার হয়।
প্রবাসে একটি কথা আছে, “বাপের ভিটা বন্দক কিংবা মায়ের গহনা বিক্রি না করা অবধি কাউকে প্রবাসে এনো না”। মায়ের হাতের তোলা খাওয়া, দেশীয় নাদুস নুদুস বেকারেরা বিদেশের হাড় ভাঙ্গা শ্রমের চেহারা দেখা মাত্রই পুনরায় স্বদেশে ফিরে যেতে চায়। বদান্যতা দেখানো দূরে থাক, উল্টো যিনি প্রবাসের মুখ দেখিয়েছে, তাকেই ঘায়েল করে বসে! এখানে তারাই রুখতে বাধ্য হয়, যারা বাড়ি ভিটা বন্দক রেখেছে।
তাই প্রতিষ্ঠিত হতে হলে, শতভাগ নিজেকেই চেষ্টা করতে হয়। প্রতিষ্ঠা পাবার মত করে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। এর কোন বিকল্প নেই। নতুবা মানুষ অন্যের কর্মকে খুব সহজ মনে করবে। সে কাজ নিজে করতে গিয়ে, পদে পদে ভুল করবে এবং পিতার গচ্ছিত সম্পদের বিনাশ ঘটাবে।
বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোধগম্য করতে, উপমা হিসেবে একজন ঝাল মুড়ি বিক্রেতার জীবনকে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মূল অন্তরায়
চলার পথে অনেকেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা, চা বিক্রেতা কিংবা ঘরে বানানো নাস্তার ছোট্ট দোকান দারের জীবন দেখতে পাই। বিশাল শহরের দশ বর্গফুটের একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে, তারা সর্বদা ক্রেতা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটায়।
একজন দর্শকের দৃষ্টিতে দেখা যাবে, চা বিক্রেতা প্রতিজন ক্রেতা থেকে গড়ে দশ টাকা আয় করে। এভাবে প্রতিদিন দুই’শ ক্রেতা থেকে দুই হাজার এবং মাস শেষে ষাট হাজার টাকা আয় করে থাকে! এভাবে ভাবাটা খুবই সোজা। ভিতরে গেলে দেখা যাবে, তাদের জীবন চাকা অত সহজে ঘুরে না। যেভাবে ভাবা হয়েছিল। সেখানেও সমস্যা আছে, লড়াই আছে।
আগ্রহী কেউ কৌতূহলী হয়ে ঘরে বানানো নাস্তা নিয়ে রাস্তার কোনায় একদিন দাড়িয়ে দেখুন তো! কিংবা কল্পনায় ভাবুন আপনি সত্যিই এমন একটি ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন। এই ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে তাহলে কি দেখা যেতে পারে?
দেখবেন, শুরুর দিনেই খেল-খেলিয়ে উঠবে পাশের চায়ের দোকান দার। যে আপনাকে কয়দিন আগেও কাস্টমার হিসেবে শ্রদ্ধা করত, লম্বা সালাম দিত। আজ সে তাচ্ছিল্যের স্বরে ধমক মেরে বলবে, নতুন উপদ্রব জায়গা না পেয়ে, বুঝি এখানে মরতে দাঁড়িয়েছে! এখুনি ভাগ এখান থেকে। অযাচিত ব্যবহারে নতুন বিক্রেতা হিসেবে হয়ত ভাববেন, তার দোকানের কাছে না দাঁড়িয়ে, দোকানের কোনায় দাঁড়ানো হউক।
যথারীতি চায়ের দোকানদার গায়ে পড়ে সেখানেও গিয়েও ঝগড়া বাধাতে চাইবে। এভাবে ঈশান, বায়ু, অগ্নি, নৈরত করে এলাকার যে কোন দোকানের কোনাতেই দা দাঁড়ানো হউক না কেন। একই ব্যবহার জুটবে। এমনকি যে পার্কে সদা পাদচারণা ছিল, তার আশেপাশে দাঁড়ালেও; চা-দোকানদারের সাথে, মুদির দোকানি, বেকারি ওয়ালা যোগ হয়ে নতুন ব্যবসায়ীকে এলাকা ছাড়া করতে চাইবে। নুতবা গায়ের জোরে নানা বাহানায় ক্ষতি করে হলেও সে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করবে।
কেননা, ঘরে বানানো নাস্তা খেলে একজন পথিক আর চায়ের দোকানে যাবে না। কলার জন্য মুদির দোকানে ঢুঁ-মারবে না। এর উপস্থিতিতে তাদের ক্রেতা কমে যাবার ভয়ে থাকবে। দৃশ্যত এটি একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং ছোট্ট এক টুকরা জায়গার দরকার হয়। কিন্তু কাজে নামলেই বুঝা যাবে, কত শত রকমের বাধা বারে বারে তার আয়ে বিপত্তি ঘটাচ্ছে। তখনই বুঝা যাবে পৃথিবীতে দাঁড়ানোর মত একটি জায়গার কত অভাব।
যারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে সময় নিয়ে, ঠাণ্ডা মস্তকে অটল ভাবে মোকাবেলা করতে পারবে। তারাই এক পর্যায়ে জিতে যাবে। মাথা গরম করা, কথায় কথায় হাত তোলা ব্যক্তিরা প্রথম দিনেই ময়দান ছাড়তে হয়। প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন দেখবে এই আর মচকানো যাবে না। তখন তারা আর বিরোধিতা না করে, তাদের সিন্ডিকেটে জড়িত হবার আমন্ত্রণ জানাবে! পৃথিবীর সকল প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই এভাবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।
কাজে না নামলে, সকল কাজই তুচ্ছ ও সহজ বলে মনে হবে বরং নিজেকে ওদের চেয়ে জ্ঞানী বলে মনে হবে। কাজটিকে অতি সহজ মনে করে, হুট করে কাজে নেমে পড়লে। পিতার জমি বিক্রির টাকায় ব্যবসা দিয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়া তো দূরে থাক। দেখা যাবে পায়ের ব্যথা দূর হবার অনেক আগেই, পকেট থেকে পূঁজি দূর হয়ে গেছে!
সে জন্য সকল কাজের আগেই ভেবে রাখতে হবে। নিজেকে অনুশীলন করতে হবে। নিজের প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য জন জায়গা ফাঁকা করে দিবে না। নিজেকে যায়গা করে নিতে হয়। কেউ যদি উপহার হিসেবে একটি জায়গা করেও্ দেয়। পরিবেশ ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে, সে জায়গাও হাতছাড়া হবে।
তাই, মানব জীবনে যেটাকেই লক্ষ্য বানানো হউক না কেন, হুট করে যেন সেটাতে কাজে না লেগে পড়ে। আগে থেকেই এ সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করাটা জরুরী। নতুবা বড় কাজ তো বটেই, উপরে বর্ণিত ক্ষুদ্র একটি কাজে হাত দিলেও, প্রতিষ্ঠা পাওয়া দূরের কথা নিজেকেই দেউলিয়া হতে হবে।


Discussion about this post