আগামী কাল সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ইয়াওমুল আরাফা’। এটি আরবি শব্দ যার অর্থ ‘আরাফার দিন’। সারা বিশ্ব এটাকে হজ্জের দিন হিসেবে চিনে থাকে। দুনিয়ার সকল প্রান্ত থেকে আগত হাজিরা এদিন আরাফার ময়দানে একত্রিত হয়। তারা নিজেদের পাপ সমূহ ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে। আল্লাহ তাদের হাতগুলোকে ফিরিয়ে দেন না। ক্ষমাপ্রাপ্ত হাজিদেরকে নিষ্পাপ শিশুদের সাথে তুলনা করা হয়। তাই এটি মুসলমানদের অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ দিন। শ্রেষ্ঠতম কল্যাণের দিন ইয়াওমুল আরাফা
আরো পড়তে পারেন…
- ইসলামী চেতনায় ভাস্কর্যের অবস্থান
- ইসলামপন্থী ভাণ্ডারীদের কাণ্ডারি যখন রমেশ শীল
- সুন্নিয়তের হালত: ইসলাম যখন গানের চাদরে আবদ্ধ
যারা হজে যেতে পারেন নি, তাদের জন্য রাসুল (সা) সুখবর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে তা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহকে ক্ষমা করিয়ে দেবে।” মুসলিম: ১১৬২)”। আরব দেশে এই দিনে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং ছোট-বড় সবাই রোজা পালন করে।
এটি বড় মহিমান্বিত দিনের একটি। লাইলাতুল কদরের রাত্রে যেভাবে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল, এই পবিত্র দিনে কোরআনের পরিপূর্ণতা ঘোষণা করা হয়। সে কারনে দিনটির মর্যাদা অন্য সকল দিনের চেয়ে উঁচু ও ব্যতিক্রম। এ দিনে আরো ঘোষণা করা হয়, পবিত্র কোরআন পরিপূর্ণ হয়েছে, মানব জীবন পরিচালনায় আর কিছুর ঘাটতি নেই। যে এর নির্দেশনা মেনে চলবে, সে পৃথিবীতে পথভ্রষ্ট হবেনা।
এই ঘোষণার কথা শুনে ইয়াহুদিরা ওমর (রা) কাছে গিয়ে আফসোস করে বলেছিল, “হায়, এমন একটি কথা যদি তাদের কিতাব তাওরাতে থাকত, তাহলে তারা এটাকেই ঈদের দিন পালন করতেন”। ওমর (রা) বলেন, হ্যাঁ! এটা মুসলমানদের ও ইদের দিন।
আরাফার দিনের কার্যক্রম পুরাটাই এবাদত কেন্দ্রিক। রাসুল (সা) এদিনের সারা সময় তসবিহ পাঠ করেছেন। তার পরদিন থেকেই কোরবানির পর্যায় শুরু হয়। এই কোরবানীতেই মানুষ সর্বোচ্চ আর্থিক ত্যাগ করে থাকে এবং গরীর দুঃখিদের সাথে আহার্য্য বিনিময় করে।
আরাফা শব্দের অর্থ জানা, বুঝা, পরিচিতি লাভ, মিলিত হওয়া। এই দিনটি মানব জাতির জন্য অনন্য এক ঐতিহাসিক দিন। পৃথিবীর দু’টি ভিন্ন স্থানে আদম ও হাওয়া (আ) কে জান্নাত থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বহু বছর পরে তাঁরা এই আরাফার মাঠে দু’জন একত্রে মিলিত হবার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন। এই ময়দানের আশে পাশেই তাঁরা দুনিয়ার জীবন যাপন শুরু করেছিলেন।
আরাফার প্রান্তরে জাবালে রহমতের এর পাদদেশে দাড়িয়ে রাসুল (সা) বিদায় হজ্জের ভাষণ দিয়েছিলেন। জাবাল আরবী শব্দ যার অর্থ পাহাড়। নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণের অপরাধে, জান্নাত থেকে বিতাড়িত হবার অনুশোচনা করে, আদম ও হাওয়া (আ) দু’জনই বহু বছর ধরে, এখানে বসেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। লজ্জা, আত্মগ্লানি আর অপরাধ বোধের কষ্টে, তাঁরা সত্তর বছর পর্যন্ত আসমান পানে মুখ তুলে তাকায় নি! অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করেছিলেন।
আরাফার ময়দান সৌদি আরবে অবস্থিত। সেই ময়দান নির্দিষ্ট এবং হাজিদের হাজির হবার দিনটিও নির্দিষ্ট। তাই এ সংক্রান্ত এবাদতটি সরাসরি হাজিদের উপস্থিতির সাথে জড়িত এবং পৃথিবীর একটি দিনের সাথে সম্পর্কিত। সৌদি আরবের স্থানীয় সময়, চন্দ্র মাসের ৯ ই জিলহজ্জ আরাফার দিন। শ্রেষ্ঠতম কল্যাণের দিন ইয়াওমুল আরাফা
এই দিনটির সাথে আমাদের আদি পিতা আদম (আ) এর সাথে সম্পর্কিত। এই ময়দান মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম (আঃ) এর সাথেও সম্পর্কিত এমনকি সর্বশেষ নবী, শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা) এর জীবনের সাথেও সম্পর্কিত। তাই চলুন আমরা সে দিনটিকে শ্রদ্ধার সাথে পালন করি এবং যথাসম্ভব চেষ্টা করি একটি রোজা রাখতে ও মহান আল্লাহ পবিত্রতা ঘোষণা করতে।


Discussion about this post