পরহেজগার শব্দটি ফারসি থেকে আগত। যার অর্থ পাপ থেকে বেঁচে চলা। অন্যকথায় ধর্মবিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকা। মিথ্যাচার, অসৎকার্যে সাবধানতা অবলম্বন কারী। সেই পরহেজগার মানুষটি
পবিত্র কোরআনে ‘মুত্তাকী’ বলে সৎ মানুষের একটি পরিচিতি আছে। আরবি ভাষার ‘মুত্তাকী’ শব্দটিকে ফারসি ‘পরহেজগার’ শব্দ দ্বারা চিত্রায়িত করা হয়। বাংলা ভাষায় এমন কোন শব্দ নেই, যা প্রয়োগ করে ‘মুত্তাকী’ শব্দের অর্থ করা যায়।
আরো পড়তে পারেন…
- মানুষ হিসেবে আমরা কেমন
- নলের পানি যবে শুকিয়ে যাবে
- এবাদতে প্রদর্শনেচ্ছা ও শয়তানের প্ররোচনা
আমার ছোটকালে দেখা একজন সুফি ব্যক্তির কথা মনে আছে। সবার কাছে গ্রহণীয় সম্মানী এই মানুষটিকে পরহেজগার ব্যক্তি হিসেবে সম্মান করতেন।
লোকমুখে অধিক প্রশংসা শুনার কারণে আমার ছোট্ট মনে খায়েশ জাগে যে, পরিণত বয়সে আমিও একজন পরহেজগার মানুষ হব। সম্মানিত মানুষটির চরিত্র অভ্যাস আজো আমার মনে আছে।
তিনি তসবিহ পড়ে পড়ে, রাস্তার ডান পাশ দিয়ে হাঁটতেন। মোলায়েম স্বরে হাসি মুখে সম্ভাষণ জানাতেন; অপ্রয়োজনে কথা বলতেন না।
মসজিদে নামাজ পড়ে এক কদম অপেক্ষা না করেই নিজের কাজে চলে যেতেন। মসজিদে প্রদেয় সামাজিক ভাবে ধার্যের টাকাটা চাওয়া মাত্রই দিয়ে দিতেন। তার পক্ষ থেকে কারো অনিষ্ট হতো না।
কেউ তাঁকে বিচারে ডাকলে সেই ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলতেন। জমি-জমা ভাগ করা সংক্রান্ত সামাজিক কাজে ডাকলে করজোড়ে ক্ষমা চাইতেন। ঝগড়া-বিবাদ তো নিজে করতেন না, গ্যাঞ্জাম বাড়ার ভয়ে অন্যের বিবাদ থামাতেও ভূমিকা রাখতেন না।
রাস্তায় কারো গালাগালি শুনলে, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ বলে নিজের দু’কান চেপে ধরে সড়ে পড়তেন। রাস্তায় শিশুরা বাজে খেলায় মত্ত হলে, তিনি তাদের কিছু বলতেন না। তবে চাচা মামাদের কানে তুলতেন।
পরিণত বয়সে বুঝতে পারলাম যে, তিনি পরহেজগারি শব্দটিকে পদে পদে কাজে লাগিয়েছেন। পরহেজ করতে গিয়ে তিনি কখনও লম্বাকে লম্বা বলা ও গোলাকারকে গোল বলা থেকেও বিরত থাকতেন।
তার জীবন থেকে শিখেছিলাম যে, “কাদায় বসবাস করেও, বাইন মাছের মত নিজের গায়ে কাদা না লাগানোর নামই পরহেজগারি”। দুনিয়াবি গ্যাঞ্জাম আর ঝামেলাকে এড়িয়ে চলার মাঝেই বুঝি সার্থকতা!
সেই কারণে তাঁকে সুফি সাহেব হিসেবেও ডাকা হত। আমাদের দেশে এমন মানুষের দেখা দেশের সর্বত্র পাওয়া যাবে। আরবি বুঝার পর থেকে বুঝলাম যে, ফারসির ‘পরহেজগার’ আর আরবির ‘মুত্তাকীর’ মাঝে আকাশ পাতাল ব্যবধান।


Discussion about this post