পরিচিত এক ব্যক্তি হজ্বে যাবার আগে ফোনে যোগাযোগ হল। উদ্দেশ্য তার জন্যে দোয়া চাওয়া। তাকে জানালাম আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা ও হজ্জে যাবার আগে, আমাদের দোয়ার চেয়েও আপনার বড় কাজ হল নিকট প্রতিবেশীর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
যার সাথে খারাপ আচরণ করেছিলেন, সেটা মনে করুন এবং তার নিকট থেকে দোয়া নিয়ে আসুন। আপনার নিকট প্রতিবেশী যদি আপনার আচরণের মনোকষ্ট হৃদয়ে লালন করে থাকেন, সাড়ে তিন হাজার মাইলের হজ্জ যাত্রা অনেকটা মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
তিনি এখন বয়োবৃদ্ধ! আগের মত চলতে ফিরতে পারেন না। ফোন করেছিলাম কান্না করছেন। তিনি ভাবছেন তার সন্তানেরা অবহেলা করছেন এবং অন্তত একজনের দেনাটা ফিরিয়ে দেওয়া অতীব জরুরী।
পরিমাণে সামান্য হলেও এই পরিমাণ টাকাটা সন্তানেরা দিতে অনাগ্রহী। কোন একটি মাধ্যমে থেকে তার জন্য এই টাকাটা সংগ্রহ করে দেওয়া যায় কিনা প্রশ্ন করলেন? অধিকন্তু পাওনাদার বেঁচে নেই। নিঃসন্তান ভদ্রলোকের বিধবা স্ত্রী দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন।
পুনরায় সেই প্রশ্নটি আবারো করলাম। মানুষেরা আপনাকে গোঁয়ার, দুর্ব্যবহার কারী হিসেবে চিনতেন। তাদের কারো সাথে বোঝাপড়া হয়েছে? ভদ্রলোক শিশুর মত কান্না জুড়ে দিলেন।
এখন তার অতীতের সেই হারানো চরিত্রের কথা মনে পড়ে। হাটতে পারেন না বলে ক্ষমা চাইতে সবার ঘরে যেতে পারেন না। আবার খবর দিলেও কেউ আসেনা। এখন শুধু আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা ছাড়া কি উপায় আছে।
বললাম, বৃদ্ধ বয়সে মানুষের কাজ থাকেনা। আপনি যেহেতু তেমন একটি সময় পেয়ে গেছেন, তাহলে ভাগ্যবানই বলতে হয়। বিছানায় শুয়ে শুয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে, কান্না করলে তিনি ইচ্ছা করলে আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং ক্ষমা অর্জন করাটা সম্ভব।
কিন্তু বান্দার যে হক আপনার সাথে রয়ে গেল সেটার কি করলেন? সকল মানুষ এটার জন্যই হাশরের ময়দানে ফেঁসে যাবেন। হজে যাবার আগেই তো কথাটি আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছিলাম। আল্লাহ আপনাকে সময় ও সুযোগ দিয়েছিল কিন্তু কাজে লাগান নাই।
আল্লাহর সাথে বোঝাপড়া করার জন্য যথেষ্ট সময় আপনি পেলেন কিন্তু বান্দার সাথে বোঝাপড়া করতে ব্যর্থ হলেন। দুনিয়াটা এমনই। যখন গায়ে বল থাকে, পটেকে টাকা থাকে এবং গলায় জোড় থাকে তখন নিজেকে হাতির মত ক্ষমতাবান মনে হয়। বয়স শেষে সবাই চরম দুর্বল ও অসহায়।


Discussion about this post