বাঙ্গালী জাতিকে বুঝিয়ে শাসন করা কঠিন। এরা সৎ মানুষকে অকেজো, অকমর্ণ্য ও ভিতু ভাবে এবং ঠকবাজ, কঠোর ও নির্দয় মানুষকে ভোট দিয়ে নেতা বানাতে গৌরববোধ করে!
দিল্লীর সুলতান ‘গিয়াসউদ্দীন বলবন’ (১২৬৬–১২৮৭) তার অধীনস্থ বাংলার শাসক ‘মুগিসউদ্দীন তুগরল’ কে লিখে পাঠান যে, “বাংলার জনগন স্বভাবগতভাবে শাসক বিদ্রোহী। হয়ত তোমাকে তাদের কথা মেনে তাদের মধ্যে হারিয়ে যেতে হবে, নয়ত তারা তোমাকে হত্যা করবে। এই সমস্যা উত্তরণে সেখানকার মানুষদের জীবনকে সদা টানা-টানির মধ্যে আবদ্ধ রাখতে হবে! তাদেরকে না খাইয়ে মারাও যাবে না, আবার সম্পদ সঞ্চয় করে সুখী জীবন দানও করা যাবে না! তারা যদি কোনভাবে সম্পদ সঞ্চয় করতে পারে, তাহলে সেটা দিয়ে রাজবিদ্রোহ সংগঠিত করবে।” [তারিখে ফিরোজশাহী – বক্তব্য সংকলিত]
এই মাত্র কিছুদিন আগেই শেখ হাসিনার শাসন গেল। ‘দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ আছে, জিনিষ পত্র ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই’ এমন কথা বলার অপরাধে তাদের সবাইকে জেলে ঢুকিয়েছে। কঠোর সাজা দিয়ে জনগনের মুখ বন্ধ করেছে! ঢাকায় বিশ্বসেরা এক উলঙ্গ নর্তকী নেচে-গেয়ে গেল। যে বা যারা মুখ খুলতে গেছে; জেলে পাঠিয়েছে বাকীদের দমন করেছে। আন্দোলন করবে দুরের কথা, প্রতিবাদ মিছিল বের করলেই, গুলি আর বোমা মেরে দমিয়ে দিয়েছে। এমন নীরব শান্ত পরিবেশ দেখে হাসিনা আর তার দল আওয়ামীলীগ গাইতে থাকে, ‘আহা! মানুষ এখন কত সুখে’।
ইতিহাসের বিচারে দেখা যায়, এই অঞ্চলে যে যত বড় উৎপীড়ক, তার আমল তত বেশী স্টাবল হয়েছে। আর এভাবে কোন শাসক স্টাবল হওয়া মানে তার পতন সন্নিকটে বুঝা যায়। ছয়মাস আগের আওয়ামী শাসনকে দেখেছি এভাবেই পতন হতে। আমাদের দেশে ইতিহাসে প্রচুর বিদ্রোহ ঘটার নজীর আছে। শুধুমাত্র মাছ খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশাল পাল বংশের শাসকের বিরুদ্ধে আরেক ভাই জনগণকে নিয়ে বিদ্রোহ করে স্বীয় বংশের পতন ঘটায়। মহীপাল রামপালেরা বেঁচে আছে নামে কিন্তু পতন হয়েছে বিদ্রোহে।
চিত্রের ভিডিও নিয়ে কোন মন্তব্য নাই, আপনারাই জেনে নিবেন। একজন ডাক্তার উচ্চ শিক্ষিত। তারা নিশ্চয়ই জানেন ইউনুস সরকার কিভাবে ক্ষমতায় এসেছেন এবং তাদের রাজগণ্ডী কতটুকু সীমাবদ্ধ। বিগত ১৫ বছর ধরে, জেলে যাবার ভয়ে বলতে পারিনি, আমাদের পেটে খানা নাই। আর এরা সেই সরকার পতনের ছয় মাস পড়েই রাস্তায় নেমেছে, নানাবিধ দাবী দাওয়া নিয়ে। ছয়মাসের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে ১৭০ টি ছোট-বড় বিদ্রোহ ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। এই জাতীকে শাসন করতে হলে ইউনুস সাহেবকে সুলতান বলবনের ওসিয়তের প্রতি নজর দিতে হবে।


Discussion about this post