তসবিহ দানা বৃত্তান্ত!

তসবিহ সংক্রান্ত কথাবার্তা

তসবিহ দানা বৃত্তান্ত! যেভাবে মুসলিম সমাজে ঢুকে পড়ল! ইসলাম ধর্ম আগমনের বহু আগে থেকেই দুনিয়াতে তসবিহ মালার প্রচলন ছিল। তবে জাতি ও ধর্ম হিসেবে ভিন্ন নামে, ভিন্ন উপসর্গে। যেমন,

হিন্দু ধর্মের তসবিহ এর মত বিকল্প ব্যবহার আছে

হিন্দুধর্মে ১০৮ টি দানার মাধ্যমে বানানো হয়, ‘জপমালা’। হিন্দু ধার্মিকেরা ওটা গলায়, কাঁধে লটকিয়ে সংরক্ষণ করেন। এটি একটি প্রাচীন একটি রীতি। বৌদ্ধ ধর্মেও মন্ত্র জপ করার জন্য এর ব্যবহার দেখা যায়।

খ্রীষ্টান ধর্মেও তসবিহ এর বিকল্প ব্যবহার আছে

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের মধ্যে ৫৯ টি দানার মাধ্যমে ‘রোজারি’ জপমালার প্রচলন আছে। ১০টি ছোট দানার পরে একটি বড় দানা এবং শুরুতে ১টি ক্রুশ, সেটার পাশে আরো ২টি দানার সমন্বয়ে এটা গঠিত।

ইসলাম ধর্মেও তসবিহ এর বিকল্প ব্যবহার আছে

মুসলিম সমাজে ১০০টি দানার সাহায্যে তসবিহ এর ব্যবহার আছে। ৩৩ টির পরে একটি বড় দানা এবং সবশেষে একটি লম্বা মুকুট। গণনার সুবিধার্থে এমন তসবিহের প্রচলন ঢুকে পরে মুসলিম সমাজে। ব্যবসায়ীরা পাথর টুকরাকে মসৃণ ও আকর্ষণীয় করে তসবিহ ছড়া বাজারে ছাড়ে। সৌন্দর্যের কারণে তসবিহ অনেকে সংগ্রহ করতে আগ্রহী হয়। কেউ মসজিদ, দরগাহ ও খানকায় দান করে।

তবে সুফি-সাধকেরা তাদের মত করে, নানা জিকির আবিষ্কার করে এবং অনুসারীদের মধ্যে প্রসার ঘটায়। সেটা মনে রাখার সুবিধার্থে দানাদার তসবিহ মুসলিম সমাজে আসন গেঁড়ে বসে। কখনও তসবিহ কে খোদপরস্তি, ধার্মিক, মুত্তাকী বুঝানোর নিদর্শন হিসেবে তসবিহ ব্যবহার করা হয়। যদিও এটার সাথে পৌত্তলিক প্রথার সাথে সামঞ্জস্য আছে।

রাসুল (সাঃ) আঙ্গুলের গিঁট গুনে তসবিহ এর ব্যবহার করতেন

রসুলুল্লাহ (সাঃ) সাধারণত নিজের ডান হাতের আঙুলের গিঁট ব্যবহার করে তসবিহ বা জিকির গণনা করতেন। হাদিসে এসেছে, তিনি আঙুলে গণনা করা উপদেশ দিয়েছিলেন, কারণ কিয়ামতের দিন এই আঙুল গুলোকেও কথা বলার শক্তি দেওয়া হবে এবং তারা সাক্ষ্য দেবে (সুনানে তিরমিজি)।

কিছু বর্ণনা অনুযায়ী, উম্মুল মোমেনিন সাফিয়া (রাঃ) এবং আবু হুরায়রা (রাঃ) ছোট পাথর বা খেজুরের বিচি দিয়ে তসবিহের ন্যায় জিকির গণনা করতেন। এটি দেখে রাসুল (সাঃ) সরাসরি নিষেধ করেননি, তবে আঙুলে গণনার তসবিহ প্রথায় আলাদা একটি শ্রেষ্ঠত্ব আছে, সেটা হাদিসের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *