তীর তথা ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে বলিয়ান হতে স্বয়ং রাসুল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন। ইরান সেই একটি পয়েন্টেই দুনিয়ার শক্তিধর দুটো রাষ্ট্রকে কুপোকাত করে ছাড়ছে।
মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে, সুরা আনফালের ৬০ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে, রাসুল (সাঃ) তিনবার একটি কথা বললেন। সেটা হল,
“…তোমরা শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযানে সাধ্যমতো শক্তি সঞ্চয় কর। মনে রেখ, প্রকৃত শক্তি হলো তীর নিক্ষেপে। শোন! প্রকৃত শক্তি হলো তীরের মধ্যে! তোমরা শোন! প্রকৃত শক্তি হলো তীর নিক্ষেপে… (মুসলিম, আবু দাউদ)
প্রাচীন কালে যুদ্ধ হত, তলোয়ার বল্লম দিয়ে। ফলে যুদ্ধ করার জন্য কাছাকাছি যেতে হতো। এতে প্রচুর সৈন্য আহত হত, মারা যেত। তীর হল এমন এক অস্ত্র, যা দিয়ে দূর থেকেই শত্রুকে কুপোকাত করা যায়। কম ক্ষতির মাধ্যমে দূর থেকেই শত্রুকে লক্ষ্যভেদ করা যায় বলেই, রাসুল (সাঃ) তার উম্মত কে তীরের বিদ্যায় পারদর্শী হতে নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমান যুগের যুদ্ধ বিদ্যায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে বন্দুকের কার্তুজ (তীরের বিকল্প) দিয়ে শুরু হয়ে, রাইফেলের গুলি, অতঃপর ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন সবই রাসুল (সাঃ) তীর সমতুল্য নির্দেশনাকে সঠিক ও সত্য বলে প্রমাণ করে। তীর আর ক্ষেপণাস্ত্র ধারণার মধ্যে ন্যুনতম কোন তফাৎ নেই। রাসুল (সাঃ) এই অস্ত্রকেই প্রবল শক্তির সাথে তুলনা করেছিলেন।
দীর্ঘ বছর ধরে ইরানকে তার নিজের ভূখণ্ডে আবদ্ধ করে রেখেছে পুরো দুনিয়া। সে তার আবদ্ধ ভূখণ্ডে অবরুদ্ধ হয়েই, দুনিয়ার চারিদিকে তীর সুলভ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেই শত্রু পক্ষের শহরে-নগরে মূর্তিমান গজব হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
আত্মরক্ষার জন্যে ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণা, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি, ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় ও সংরক্ষণ কোনটাই অবৈধ নয়। তবুও অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলো এই বিষয়ে গবেষণায় যথেষ্ট পিছিয়ে কিংবা অনাগ্রহী থেকেছে। তারা অন্যের ক্ষেপণাস্ত্র কিনে, নিজের স্টোরের ওজন বাড়িয়েছে, অন্যের উপর নির্ভরতার মধ্যেই নিজেদের নিরাপত্তা খুঁজে ফিরেছে। কিন্তু বৈধ উপায়ে নিজেরদের সক্ষমতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর দিকে মোটেও নজর দেয় নাই।
একজন মুসলিম হিসেবে, আরব দেশের হয়ে; ইরানকে যতই দোষারোপ করি না কেন! ইরান তো রাসুল (সাঃ) দেখানো শক্তির পদাঙ্ক অনুসরণ করেই এগিয়েছে। সে তার শত্রুকে দমন করবেই। সেই শত্রু যদি আমিও হই, হা হুতাশ করা ছাড়া করণীয় নেই। কেননা, একই ভাবে দুনিয়ার তাবৎ ইসলাম বিরোধী শক্তিও একই পথ অনুসরণ করেছে। কই আমরা তো তাদের দোষারোপ করছি না। অথচ রাসুল (সাঃ) পরিষ্কার গাইড লাইন দেওয়া ছিল; যেটা আমরা সাহস, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবে করতে পারি নাই।
সমাজ বিজ্ঞানী ও দার্শনিক ইবনে খলদুন বলেছেন,
“শক্তিশালী ও দক্ষ জাতিই দুনিয়াকেই শাসন করবে, এটাই মানুষের খলিফা হবার যথার্থতা ও সার্থকতা বহন করে”
এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্যে রাসুল (সাঃ) এর উপদেশ ও সতর্কবাণী গুলো পড়লে শরীরের লোম শিউরে উঠবে। এক হাদিসে ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণাকে বিরাট সওয়াব তো বটেই, এমনকি জান্নাতে যাবার অন্যতম সোপান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা একটি তীর (পড়ুন ক্ষেপণাস্ত্র) এর কারণে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন: ১. এর নির্মাতা, যে সওয়াবের আশায় তা তৈরি করে। ২. নিক্ষেপকারী এবং ৩. যে এটি নিক্ষেপকারীকে এগিয়ে দেয় (সাহায্যকারী)” আবু দাউদ, তিরমিজি
যুদ্ধের অন্যতম চালিকা শক্তি হল যুদ্ধ সরঞ্জাম বাহনের জন্যে ড্রাইভিং জানা! সেটা ট্যাংক, লরি, সাঁজোয়া যান কিংবা উড়ো জাহাজের পাইলট হওয়া। এ গুলো যুদ্ধ প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম। সাথে যদি শক্ত আর্টিলারি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থাকে যুদ্ধের ময়দান তার অনুকূলে থাকে। এমন ক্ষেত্রেও রাসুল (সাঃ) কি বলেছেন, শুনলে আশ্চর্য লাগে। তিনি বলেছেন,
“তোমরা তীর নিক্ষেপ করা এবং ঘোড়ায় চড়া শেখো। তবে তোমাদের তীর নিক্ষেপ করা শেখাটা আমার কাছে ঘোড়ায় চড়া শেখার চেয়ে বেশি প্রিয়।” ইবনে মাজাহ
ইরান বনাম মার্কিন ইসরায়েল যুদ্ধের শেষ পরিণতি কি হবে জানিনা। তবে এই যুদ্ধের সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হবে, আরব রাষ্ট্রগুলো। ওরা কোন-পক্ষের হয়েই যুদ্ধ করেনি। না নিজেদের যুদ্ধে দক্ষ করেছে, না অস্ত্র উৎপাদন করতে পেরেছে, না গবেষক তৈরি করতে পেরেছে, না মুসলিম দেশের গরীব কিন্তু মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি দিয়ে, নিজেদের পক্ষে নিয়োজিত করতে পেরেছে। চূড়ান্ত হাহাকার, চরম জিল্লতি, লাঞ্ছনা আর অপমান তাদের জন্যে দরজার সামনে ওঁৎ-পেতে আছে।


Discussion about this post