একজন সফল যোগ্য নেতা হতে জন্যে দশটি গুনাবলীর দরকার। সফল নেতার দশ গুনাবলী
১. যোগাযোগ রক্ষা ও কথা শোনার দক্ষতা (Communication and Listening Skills)
নিজের লক্ষ্য, ভিশন ও প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারা। মাঝপথে যাতে আবার আরেকজনকে অনুবাদ করে দিতে না হয়। অধস্তনদের সকল ধরনের কথা প্রতিক্রিয়া সহ্য করার মত দক্ষতা অর্জন। সক্রিয়ভাবে সবার কথা শোনার দক্ষতা রাখা। ফলে অন্যর মতামত বোধগম্য হওয়া এবং মূল্য দিতে সহজ হয়।
২. সততা ও নৈতিকতা (Integrity and Ethics)
ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখলেই যে কোন নেতা আস্থা অর্জন করতে পারে। নেতার প্রভাব খাটিয়ে অধীনস্থ, আত্মীয়, অনুগতদের প্রতি সমবেদনা দেখিয়ে সুযোগ করে দেবার চেয়েও, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নে সততা দেখাতে পারা এবং কড়া নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যেন নিজের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
৩. সংবেদনশীল বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence)
আবেগের গভীরতা নির্ণয় করতে পারা এবং তা সঠিকভাবে পরিচালনা করা। সহানুভূতি (Empathy) দেখানো।
শক্তিশালী নেতৃত্বের জন্য সংবেদনশীল বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন, যা নিজের পাশাপাশি অন্যদের আবেগকে চিনতে ও বুঝতে সহায়তা করে। নেতৃত্ব দিতে নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও বুঝতে হবে। ফলে সবার কাছ থেকে সেরা কাজটা আদায় করা সহজ হয়।
৪. সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা (Decision-making Skills)
তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারা। এতে করে ঝুঁকি মোকাবেলা করার সাহস বাড়তে থাকে। একগুঁয়েমি ভাব, একদেশদর্শী স্বভাব, সবজান্তা মনোভাব, একক সিদ্ধান্ত বলবতের আচরণ নেতার জীবনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি করে। সফল নেতার দশ গুনাবলী
৫. দূরদর্শিতা (Prudence)
একজন নেতার চলমান ঘটনা প্রবাহ মোকাবেলা ও দলকে নিরাপদ রাখার জন্যে দূরদর্শিতা হল অন্যতম গুন। দেড়, দুই কিংবা তিন দশকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে যোগ্য থাকা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে দল ও দেশকে দিক নির্দেশনা দিতে পারা। তাকে হতে হয় পঞ্চাশ বছর পরে সম্ভাব্য কি হবে, সেটা আজকের দিনের আয়না দিয়ে দেখা। সাথে সাথে চলমান পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে, যথাযথ সমাধান নেওয়ার ক্ষমতা থাকা (Adaptability)।
৬. দায়িত্ববোধ ও ভুল স্বীকারের যোগ্যতা (Sense of Responsibility, Ability to admit Mistakes)
ভুল মানুষেরই হয়, ভুল স্বীকার করা দুর্বল নেতৃত্বের লক্ষণ নয়। নেতার ভুল স্বীকারে অধস্তন আশ্বস্ত হয় ও সুবিধাবাদীরা জোট পাকাতে সমস্যা হয়। আবার নেতারা ভুল স্বীকার না করে উপেক্ষা করলে; সহকর্মীদের আস্তা ও ভরসা হরায় এবং পরিণতিতে সম্মানও কমে যায়। সাফল্য-ব্যর্থতার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া। একই সাথে দলের অন্যান্য সদস্যদের কাজের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৭. অনুপ্রেরণা দেওয়ার ক্ষমতা (Ability to Inspire)
সদস্যদের মধ্যে উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করা। চলমান বিশ্বের প্রতিটি অগ্রগতি সম্পর্কে সজাগ, সতর্ক ও তথ্যজ্ঞানে সমৃদ্ধ থাকা। কর্মীরা এই বিষয়ে নেতাকে পরামর্শ দিতে আসলে যেন বুঝতে পারে, তাদের নেতা এ বিষয়ে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল। এতে কর্মীদের মনে প্রবল আত্মবিশ্বাস জন্মে। ফলে দল ও কর্মী-বাহিনী চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও আশাবাদী অবস্থানে থাকতে পারে।
৮. নতুনত্ব ও সৃজনশীলতা, শিক্ষা ও উন্নয়ন (Innovation, Creativity, Learning and Development)
সমাজ সদা নতুনত্বের দিকে ধাবিত, জনগণ সদা নতুন সৃষ্ট উপাদানের একটি চলমান অংশ হয়ে যায়। তাই এসব সমস্যা সমাধানে নেতাকেও উদ্ভাবনী চিন্তার অধিকারী হতে হয়। নিত্য সৃষ্টিশীল সমস্যাকে উপেক্ষা করলে সদা দ্বন্দ্বের মধ্যে আবদ্ধ থাকতে হয়। তাই পরিবর্তনকে সুযোগ হিসেবে দেখার মানসিকতা থাকতে হয় এবং নতুনত্বকে মোকাবেলা করার জন্যে বহু বৈচিত্র্যের কর্মী-বাহিনী সহযোগিতা রাখতে হয়। এসবের আঞ্জাম দিতে দলের সদস্যদের দক্ষতা বিকাশে শিক্ষামূলক সহায়তার মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট রাখা।
৯. নেতৃত্বের উদাহরণ স্থাপন (Lead by Example)
নিজের কাজের মাধ্যমে দল ও কর্মী-বাহিনীতে আদর্শ স্থাপন করা। অর্জিত সাফল্যে দলের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া। অবদান রাখা বিগত নেতাদের যথাযথ সম্মান ও দলের হয়ে নির্যাতিত নেতা, কর্মী-বাহিনীকে সদা সম্মান সহকারে স্মরণ করা। নেতার মূল্যায়ন-হীনতার ব্যত্যয় হলে সুসময়ে বিরাট কর্মী-বাহিনী পায় বটে, অসময়ে নেতারা একাকী হয়ে পড়ে।
১০. ধৈর্য ও স্থিতিস্থাপকতা (Patience and Resilience)
নেতাদের জন্যে সবচেয়ে বড় গুণাবলী হলে ধৈর্য। সকল ধরনের চাপ ও ব্যর্থতায় অটল অনড় থাকার মত হিম্মত ও দৃঢ়তা থাকতে হয়। বিপদ আসবেই, এটাই নিয়তি! এই বিষয় মাথায় রেখে, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যে অধ্যবসায়ী হওয়া। নেতাদেরও আবেগ আছে, তারও পিতা-পুত্র স্বজন থাকে, সেখানেই তার কান্না মানায়। তাই বলে কর্মীদের সামনে এক ফোটা চোখের পানি বিসর্জনে একশত কিংবা এক হাজার কিংবা এক লাখ কর্মীর মনোবলকে থামিয়ে দিতে পারে।
Discussion about this post