নূহ (আঃ) কে তাকিদ দেওয়া হয়েছিল যে, ‘বন্যা সৃষ্টির আগেই যেন প্রাণীকুল থেকে এক জোড়া করে প্রাণীযুগল সংগ্রহ করে রাখে’। আরো তাকিদ দেওয়া হয়েছিল যে, ‘বন্যা পরবর্তী সময়ে খাদ্য শস্য উৎপাদনের জন্য ফসলের বীজও জোগাড় করে রাখে’। আঙ্গুর নিয়ে নবীর সাথে শয়তানের বিবাদ
আল্লাহর এই নির্দেশের পরে, বিরাটকায় একটি জাহাজ তৈরি করা, প্রাণী সংগ্রহ করা, খাদ্য-শস্য মজুদ করার মত বিশাল একটি কর্মযজ্ঞে জড়িত হয়ে পড়েছিলেন নুহ (আঃ)!
এটি কোন সাধারণ কাজ ছিলনা। প্রায় সকল মানুষের অসহযোগিতা! কাজের মাঝে ব্যাঘাত সৃষ্টি! এসব কাজ নিজে পথে-ঘাটে মানুষের হাসি-ঠাট্টা-উপহাস! বখাটে ছেলেদের কর্তৃক তাঁর সংগৃহীত সরঞ্জাম বিনষ্ট করা! সর্বোপরি নিজের বাড়িতে আসলে পর ঝগড়াটে স্ত্রীর অসৌজন্য মূলক বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তিনি উপরের বিরাট কাজের আঞ্জাম দিয়েছিলেন!
সতর্কতার সহিত তালিকা বানানোর পরও, জাহাজে উঠে তালিকার সাথে যখন জিনিষ পত্রের হিসাব করতে বসলেন তখন দেখলেন, মানব জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ফল তথা আঙ্গুর সংগ্রহ করা হয়নি! নতুন করে আঙ্গুর সংগ্রহ করার সময়, ততক্ষণে আর ছিল না! নূহ (আঃ) সাথীদের মধ্যে যাকে এই দায়িত্ব দিয়েছিলেন, এই ভুল কিভাবে হল বলে তিনি কৈফিয়ত তালাশ করলেন!
আরো পড়তে পারেন,
- উত্তম নিয়তের বাস্তব উদাহরণ!
- নাস্তিকতার জন্ম ও নৈতিকতার অবক্ষয়
- মৃত্যু সংবাদ শোনা ও ইন্নালিল্লাহ পাঠ
আগেকার একটি ঘটনার মাধ্যমে, শয়তান আগে থেকেই জাহাজে থাকার অনুমতি পেয়েছিল। সে নূহ (আঃ) এর এই পেরেশানি দেখে বলল, ‘আমি নিজ দায়িত্বে, নিজের জন্য সেই গুরুত্বপূর্ন আঙ্গুর সাথে এনেছি’!
নুহ (আঃ) বললেন, ‘সেগুলো আমাকে দিয়ে দাও’।
শয়তান বলল, ‘এটা তো আমারই সংগ্রহ করা জিনিষ, সেটার মালিক তো আপনি নন’!
নুহ (আঃ) বললেন, ‘তুমি যেহেতু আমার বানানো জাহাজে আশ্রয় নিয়েছ, তাহলে তোমার আনিত আঙ্গুরের হকদার ও আমি’।
ঐ মুহূর্তে সেখানে একজন ফেরেশতা হাজির হন, ‘শয়তান ফেরেশতার কাছে বিচার দিলে পরে, ফেরেশতা নূহ (আঃ) কে বললেন, ‘আপনি পুরোটা চাইতে পারেন না, কেননা এটা আনা আপনার দায়িত্ব ছিল কিন্তু আপনি আনতে ব্যর্থ হয়েছেন’।
নুহ (আঃ) বললেন, তাহলে অর্ধেক দাও, ‘শয়তান এতেও আপত্তি জানায়! শয়তান বলল, আপনি সুবিচার করার জন্যই পৃথিবীতে এসেছেন, কোনমতেই আপনি অর্ধেক দাবী করতে পারেন না’! ফেরেশতা উভয়ের কথা শুনে বললেন, হে নবী, আপনি অর্ধেকও চাইতে পারেন না!
নুহ (আঃ) বললেন, ‘তা’হলে তিন ভাগের এক ভাগ দাও! এবার ফেরেশতা শয়তানকে লক্ষ্য করে বলল, এতটুকু তিনি চাইতে পারেন। কেননা তিনি তোমাকে বিনা শর্তে তার জাহাজে থাকতে দিয়েছেন, এটাতে তোমার কোন কৃতিত্ব নাই’।
শয়তান মন খারাপ করে আনিত আঙ্গুরের তিন ভাগের এক ভাগ নূহ (আঃ) সংগ্রহ শালায় জমা দিলেন!
এবার ফেরেশতা নুহ (আঃ) কে বললেন, আঙ্গুর নিয়ে নবীর সাথে শয়তানের বিবাদ
– হে আল্লাহর নবী, আপনার উম্মতেরা এই আঙ্গুরের, তিনটা দিকের একটা অন্যতম দিক ব্যবহার করে স্বীয় প্রয়োজন মেটাবে। (অর্থাৎ আঙ্গুর শুকিয়ে অসময়ে খাওয়ার জন্য সংরক্ষণ করবে)
– আর শয়তান তার অনুসারীদের আঙ্গুরের বাকী দুইটি দিকের লোভ লাগিয়ে মানব সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করবে। (অর্থাৎ মাদকতার জন্য কাঁচা আঙ্গুরকে পচিয়ে তার নির্যাস পান করাবে এবং মদ বানিয়ে তার তেজ বাড়ার জন্য দীর্ঘ বছর সংরক্ষণ করে রাখবে)
বস্তুত:
মানব জাতিকে রক্ষা করার জন্য একজন নবী, প্রাণান্তকর চেষ্টা-সাধনা করে, সব কিছু জোগাড় করার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন!
আর মানব জাতিকে ধ্বংস করার জন্য শয়তান, সেই জিনিষটিই রক্ষা করেছে যেটা দিয়ে তার অস্ত্রের কাজ হবে!
প্রকৃত মানুষ সর্বদা গড়ার কাজে নিয়োজিত থাকে, গঠন মূলক কাজ করে, নৈতিক ও কল্যাণ মূলক কাজে লেগে থাকে।
শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত মানুষ, সর্বদা ধ্বংস, ভাঙ্গন, অনৈতিক কাজে ব্যস্ত থাকে; সকল অনৈতিক কাজই শয়তানের সৃষ্টি।
তথ্য সূত্র: আল্লামা জালাল উদ্দিন সূয়তী (রহঃ) ‘জ্বীন‘ নামক গ্রন্থ থেকে ঘটনাটি সংকলিত।


Discussion about this post