পুলিশ : আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছ সাদিক? (সাদিক মানে বন্ধু)
সাদিক : আলহামদুলিল্লাহ, ভাল আছি (চেহারায় বিস্ময়-আতঙ্ক)।
পুলিশ : কি নাম তোমার?
সাদিক : করিম।
পুলিশ : লা হাউলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। করিম কখনও মানুষের নাম হতে পারে না! এটা আল্লাহর নাম (করিম অর্থ সু-মহান দাতা)। বলো, “আমার নাম আবদুল করিম” (আবদুল – গোলাম)।
সাদিক : নায়াম, আনা আবদুল করিম ( হ্যাঁ, ঠিক আছে আমি আবদুল করিম) এটা বলে খুব মজবুত ভাবে উভয়ে হ্যান্ড স্যাক করল।
পুলিশ : (হাত ধরা অবস্থায়) তুমি কি টেনশনে আছ?
আ করিম: না কোন টেনশন নাই।
পুলিশ : তুমি কি অসুস্থ? কাজ-কাম আছে?
আ করিম : আলহামদুলিল্লাহ আমি ভাল আছি, মাশায়াল্লাহ কাজও আছে।
পুলিশ : মনে হচ্ছে, বাবা-মায়ের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে? তারা কেমন আছে?
আ করিম : না কিছুই হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ তারা ভাল আছে।
পুলিশ : বউয়ের সাথে কি ঝগড়া হয়েছে? বউ ঠিক আছে?
আ করিম : নাউজুবিল্লাহ! কোন ঝগড়া হয়নি। বউয়ের সাথে সব ঠিক আছে।
পুলিশ : ঠিক মত গন্তব্যে পৌছতে পারবে তো?
আ করিম : ইনশায়াল্লাহ।
পুলিশ : এটা কি তোমার গাড়ী? সুন্দর গাড়ী! মনে হয় তুমি এটাকে খুব ভালবাস! তাই পরিষ্কার রেখেছ!
আ করিম : জ্বি, আলহামদুলিল্লাহ, এটা আমারই গাড়ি। এক অভাগা মিসকিনের গাড়ী।
পুলিশ : এই পৃথিবীতে সবাই মিসকিন। আমিও মিসকিন। তোমার আইডি কার্ড ও গাড়ির লাইসেন্স টি দেখতে চাই। পুলিশ কার্ডগুলো হাতে নিয়ে বললেন,
পুলিশ: তাহলে তুমি পরিপূর্ণ সুস্থ ও ঠিক আছ?
আ করিম : ছোবহানাল্লাহ! হ্যাঁ, আমি ভাল ও সুস্থ আছি!
আ করিম : ছোবহানাল্লাহ! হ্যাঁ, আমি ভাল ও সুস্থ আছি!
পুলিশ : আধা কিলোমিটার আগে, তুমি যেভাবে মটর সাইকেলটিকে ওভার-টেক করেছ, তুমি কি অনুধাবন করতে পার, কি মারাত্মক ভুলটাই না তুমি করেছ! এতক্ষণে তো তার বিবি বিধবা হয়ে যেত, সন্তানেরা এতিম হত!
আ করিম : আমি এই কাজের জন্য দুঃখিত কিন্তু ভুলটা মটর সাইকেল ওয়ালার ছিল, আমার নয়।
পুলিশ: তার ভুলের জন্য তাকে জরিমানা করা হবে কিন্তু তুমিও অবহেলায় গাড়ী চালাচ্ছিলে, চারিদিকে নজর রাখা তোমারও দায়িত্ব।
আ করিম : আমি দুঃখিত আর কোনদিন এমনটি হবে না।
পুলিশ : আমিও দুঃখিত! আর কোনদিন যাতে আমার সাথে তোমার এভাবে দেখা না হয়! তবে, আমি আইনের কাছে দায়বদ্ধ! তাই তোমাকে পাঁচ শত দেরহাম (প্রায় সাড়ে এগার হাজার টাকা) জরিমানা করতে বাধ্য হলাম।
আ করিম : স্যার আর কোনদিন এ ধরনের ভুল করব না! আমাকে কি মাফ করা যায় না!
পুলিশ : খুবই উত্তম চিন্তা, আর ভুল না করলে, এর পর থেকে আর কোনদিন জরিমানা খাবে না। আর আমি তো মাফ করতে পারব না কেননা আমার উপরে যিনি আছেন তিনি আমাকে মাফ করবেন না। তুমি বরং আদালতে যেতে পার; বিচারক হয়ত মাফ করতেও পারেন!
আ করিম : কি হইতে কি হইয়া গেল! এই চিন্তায় কিংকর্তব্য-বিমুঢ় হয়ে ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়ার মত করে তাকিয়ে রইল।
পুলিশ : তুমি ভাল থেক, ধৈর্য ধরে ঠিক মত গাড়ী চালাবে, মাথা ঠাণ্ডা রাখবে, ঝগড়া করবে না তাহলে জীবনেও কোনদিন জরিমানা খাবে না।
মায়াসসালাম….
মায়াসসালাম….


Discussion about this post