ছায়া থেকে হঠাৎ করে আলোতে বের হলে আমাদের চোখ ঝলসে উঠে। উপস্থিত সিদ্ধান্তে মানুষ নিজের হাতখানা কপালে ধরে চোখের উপর ছায়া ফেলে সামনের জিনিষটি সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করে। কিংবা দূরের জিনিষটা সম্পর্কে অবহিত হয়। নিশ্চয়ই ব্যাপারটি আপনাদের অনেকের জীবনে ঘটেছে! আলোর পরিবর্তনে কপালে হাত
না, আমি বিষয়টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেবার জন্য উল্লেখ করিনি। মার্কিন গবেষক Ellis Silver তার একটি ব্যতিক্রম ধর্মী ব্যাখ্যা দিয়েছেন! যা জানলে আমাদের অনেকের কাছেই আশ্চর্য লাগবে।
আমাদের এই অভিজ্ঞতা আছে যে, ঘর থেকে উজ্জ্বল আলোতে বের হওয়া মাত্রই, চোখ আলোতে ছানাবড়া হয়ে উঠে। আমরা কিছুই দেখতে পাই না। আবার ঘরে ফিরে আসলে আগের মত দেখতে পাই। মানব জীবনের এই সমস্যা লাগব করতে, মানুষ রৌদ্রজ্জ্বল দিনে, কপালের উপরের দিকে চোখের উপরে যাতে ছায়া পড়ে, সেজন্য বারান্দা ওয়ালা টুপি ব্যবহার করে।
এতে করে চলার পথ মন্থর হয়। মূলত সূর্য থেকে নির্গত আলফা ভায়োলেট রশ্মির এটার পিছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
মার্কিন গবেষকের প্রশ্ন হল, তাহলে এই সমস্যাটা অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে হয় না কেন?
একটি শিকারি পাখী কিংবা প্রাণী অন্ধকার থেকে ধাবিত হয়ে যদি রৌদ্রের মধ্যে ঢুকে পড়ে কিংবা তার উল্টোটা ঘটে; তাদের ক্ষেত্রে এই সময়ে কোন সমস্যা হয় না! মানুষের মত এই সমস্যা যদি তাদের জীবনেও হতো, তাহলে তারা এই পরিবেশে শিকার ধরতে ব্যর্থ হত কিন্তু তাদের এই সমস্যাটি মোটেই হয় না!
মানুষ ব্যতীত অন্যান্য সকল জীবের চোখের উপরে একটি অদৃশ্য স্বচ্ছ পর্দা থাকে। যা সূর্যের আলফা ভায়োলেট রশ্মি প্রতিরোধ করে এবং তাদেরকে এই ধরনের পরিবেশে বহাল তবিয়তে চলাফেরা করতে সাহায্য করে। এই কথাটি সে সব প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যারা আলো-ছায়া-অন্ধকারে শিকার ধরে জীবন ধারণ করে। আর মানুষের জীবনটাও এমনি।
যদিও হাঁস, মাছ, উট, কাঠঠোকরা, মেরু-ভল্লুক সহ অসংখ্য প্রাণীর চোখের উপরে একটি পর্দা এমনিতেই দেখা যায়। কেননা,
– হাঁসকে পানির ভিতরে চোখে দেখার দরকার হয়,
– বালি ঝড়ের ভিতরে উটের পথ চেনার দরকার হয়,
– গাছ কাটার সময় গাছের টুকরার আঘাত থেকে বাচতে কাঠ ঠোকরার চোখে পর্দার দরকার হয়
– প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বাতাসে চোখ নষ্ট হওয়া থেকে মেরু ভল্লুকের চোখে পর্দা দারুণ কাজ দেয়।
কোটি কোটি বছর ধরে, পৃথিবীতে বসবাসের কারণে এসব প্রাণীদের ‘জিনের’ মধ্যে বিষয়টি সেট হয়ে গেছে। তাই তারা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে এসব বৈসাদৃশ্য জন্মগত-ভাবেই মানুষ থেকে ভিন্ন আকারে পেয়েছে।
মার্কিন গবেষকের মূল্যায়ন, মানুষ পৃথিবীতে এসেছে বেশী সময় হয়নি। তাই তারা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ার মত দৈহিক যন্ত্রপাতি আজো পায় নি। কিংবা, মানুষকে আদৌ পৃথিবীতেই সৃষ্টি করা হয়নি। যার কারণে তার কাছে এসব উপাদানের অভাব রয়েছে।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ তো এই কথাই বলে যে, মানুষকে অন্যত্র (জান্নাতে) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেখানে বসবাস করানো হয়েছে। দুনিয়া সম্পর্কে শিখানো হয়েছে। তারপরেই আদম ও হাওয়া (আ) কে স্ব-শরীরে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।
ফলে, পৃথিবীতে মানুষকে চলতে হলে, বাচতে হল, শিখতে হয়, অভিজ্ঞতা অর্জন করতে, বয়োজ্যেষ্ঠদের পরামর্শ নিতে হয় এবং আত্মরক্ষা ও প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।
এই সব লিখাগুলো ধারাবাহিকভাবে চলতে পারে….


Discussion about this post