ইউক্যালিপটাস বরফ জমা ভিজা মাটির উদ্ভিদ। আল্লাহ তাকে নরম ও ভিজা মাটিকে ধরে রাখার যোগ্যতা দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। ইউক্যালিপটাসের পানি শোষণ ক্ষমতা বিস্ময়কর। দৈনিক কম পক্ষে ৭০ লিটার। মাটি থেকে পানি শুষে বাতাসে মিশিয়ে দেবার এক আজব কারখানা।
ফলে ইউক্যালিপটাস মাটির গাঁথুনিকে করে তুলে শক্ত ও মজবুত। তাকে টিকে থাকতে প্রতিদিন,অনেক পানির দরকার হয় তাই সে তার শিকড়কে ছড়িয়ে দেয় আশ-পাশের চারিদিকে।
ইউক্যালিপটাস এর চরিত্রে আসে হিংসার ভাব! ছোট-খাট লতা গুল্ম যাতে তার পানি প্রাপ্তিতে ভাগ বসাতে না পারে সে জন্য সে মাটিতে ছড়িয়ে দেয় এক ধরণের ঝাঁঝালো তৈল।
ফলে অন্যরা ইউক্যালিপটাস এর পাশে বসবাস করতে পারে না। ইউক্যালিপটাস এর তৈল তার পাতায় সৃষ্টি হয়। ফলে এই গাছের পাতা কটু যুক্ত। তাই আমাদের দেশের সকল কীট-পতঙ্গ থেকে শুরু করে কোন প্রাণীই এটা খেতে পারে না।
ইউক্যালিপটাস গাছ যে পরিমাণ পানি খায়, সে পরিমাণ গ্যাস বাতাসে ছড়াতে থাকে। এই গ্যাস কিছুটা ভারী ও দাহ্য প্রকৃতির এবং তা গুমোট বেধে বসে থাকে।
ফলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের অভাবে, ইউক্যালিপটাসের বাগানে অন্য কোন উদ্ভিদ জন্মাতে পারেনা। কদাচিৎ একটি ইউক্যালিপটাস গাছ অন্যের গা ঘেঁষে আছড়ে পড়লে বিপদ ঘটে।
দুই গাছের মারাত্মক ঘষায় স্ফুলিঙ্গ বেরিয়ে পড়ে, এতে মুহূর্তে বনে আগুন ধরে যায়। দাহ্য ক্ষমতা বেশী হবার কারণে বনে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্যালিপটাস আমাদের জলবায়ু, পরিবেশ, কৃষি, কোনটির জন্যই উপকারী নয়। বরং চরম অপকারী। আল্লাহ যে গাছ যে ভূখণ্ডে সৃষ্টি করেছেন, সে গাছ খাওয়ার জন্য সে পরিবেশ উপযোগী প্রাণীও সৃষ্টি করেছেন। যাতে করে তাদের জন্মের গতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ইংরেজিতে একটি কথা Sloth (শ্লথ) তথা বাংলায় ‘অলস’। ইউক্যালিপটাসের লিকলিকে পাতা মুচড়িয়ে খায় ‘কোয়ালা’ নামক প্রাণী। এরা চরম অলস প্রকৃতির। সারাদিন ঘুমায়, চারদিন লাগে তার পেটের খাদ্য হজম হতে। চার মিটার যায়গা পাড়ি দিতে সারাদিন ব্যয় করে ফেলে।
ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা কোন প্রাণী খায় না, যাও একটা প্রাণী খায় তাকেও চরম অলস করে তুলে। তাই মানুষের গতিহীন কাজকে Sloth গতি বলে বা অলস গতি বলা হয়ে থাকে।
কোয়ালার আরেকটি প্রজাতি আছে, তারাও চরম অলস তাই সে প্রাণীটির নামই রাখা হয়েছে ‘শ্লথ’ হিসেবে। দেখতে দুটো প্রাণীই প্রায় কাছাকাছি, ভিন দেশের জলবায়ুতে জন্ম বলে নাম খাদ্যের তারতম্য হয়েছে।
উপরের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন থেকে আমরা বুঝতে পারছি ইউক্যালিপটাস গাছ বাংলাদেশের জন্য মোটেও উপকারী নয়। দেখতে সুন্দর, গাছের নিচে পরিষ্কার ঝরঝরে থাকে। তাড়াতাড়ি লম্বা হয় বলে, মানুষ এটার চাষ করে কিন্তু প্রকৃতির সর্বনাশ করে।
ইউক্যালিপটাস গাছের মরা কাণ্ডকেও মাটি সহজে পচাতে পারেনা। তাই এটি বিদ্যুতের খুঁটি হিসেবে বেশী ব্যবহৃত হয়। মরা কাঠেও ঝাঁঝালো বিষ থাকে, তাই চাষির ক্ষেতের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। ইঁদুরের মত সারাক্ষণ কর্মজীবী প্রাণীও এর কাঠ থেকে এড়িয়ে চলে। উইপোকা ভুলেও কাছে ভিড়ে না। এই গাছের পচা কাণ্ডও সার হিসেবে ব্যবহার হয়না। সেখান থেকে কেঁচো পালাতে বাধ্য হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের তৈল সমৃদ্ধ এলাকা থেকে এই গাছ প্রায় আড়াই যুগ আগেই বিনষ্ট করা হয়েছে। আমাদের দেশে মানুষ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণে ইউক্যালিপটাস কে লালন করা হয়।
এই কাজ আর নয়। দেশকে সবুজ ও ক্ষেত-খামারে ভরে দিতে চাইলে এই জাতীয় গাছ উচ্ছেদ করা দরকার। ইউক্যালিপটাস গাছের পাতার ন্যায় দেখতে, অ্যাকাশিয়া গাছের ক্ষতিও প্রায় কাছাকাছি। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
এই কাজের সচেতনতার জন্য মসজিদ হল উত্তম স্থান। ঈমাম সাহেব এই কাজে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। বহু বছর আগে, এক এলাকায় এই গাছের প্রচুর আবাদ দেখে শঙ্কিত হয়ে মসজিদের ইমাম সাহেবকে বলে জুমার নামাজে দুটো কথা বলতে চেয়েছিলাম। ইসলাম ও মুসলমানদের জুময়ার নামাজের সাথে গাছের কি সম্পর্ক এই জিনিষটি তিনি বুঝতে পারেন নি বলে আমাকে কথা বলার অনুমতি দেননি!
তারপরও বলি মসজিদই হল এই প্রচারণার মূল স্থান। কেননা এখন মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলিয়েছে। তাই সমাজ পরিবর্তন করতে চাইলে আজ এখুনি চরম সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা নিজেরা যেভাবে পরিবেশ বরবাদ করেছি। আজই যদি দেশের সকল ইউক্যালিপটাস কাটা হয় সে মাটি ঠিক হতেও কমপক্ষে চার বছর লেগে যাবে।



Discussion about this post