উম্মুল মোমেনীন মাইমুনা (রাঃ) কুরাঈশ বংশের হাওয়াজিন গোত্রের বিখ্যাত ব্যক্তি হারিস ইবেন হাযনের কন্যা ছিলেন। তার প্রকৃত নাম ছিল ‘বাররাহ’। (উইকির তথ্য মতে ‘মায়মুনা, নামটি রাসুল (সা) নিজে থেকে দিয়েছিলেন)। তিনি ছিলেন বিশ্বনবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা আব্বাস (রাঃ) এর স্ত্রীর বোন এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জেনারেল খালিদ ইবনে ওলীদের (রাঃ) এর ফুফু। তার প্রথম বিয়ে হয়েছিল মাসউদ ইবনে আমরের সাথে। কিন্তু সেখানে তার বনিবনা হয়নি। এরপর তাঁর বিয়ে হয় আবু রাহামের সাথে। আবু রাহাম কিছু দিন পরেই ইন্তেকাল করেন। তখন থেকেই তিনি নিজের পিতার সংসারেই ছিলেন।
দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার জীবন আল্লাহর নবীর জন্য উৎসর্গ করলাম, আমি আল্লাহর নবীর খেদমতে আমার জীবন অতিবাহিত করতে ইচ্ছুক’ । বিশ্বনবী (সাঃ) হোদায়বিয়া সন্ধির পরের বছর যখন মক্কায় ওমরা করতে এলেন, সে সময় রাসুল (সাঃ) এর চাচা আব্বাস (রাঃ) এর প্রচেষ্টায় নবী (সাঃ) বাররাহ ওরফে মাইমুনা (রাঃ) কে বিয়ে করতে রাজী হন। মক্কা নগরী থেকে প্রায় দশ মাইল দূরে, শরাফ নামক স্থানে, নবী (সাঃ) এর সাথে তার বিয়ে হয় এবং বিয়ে স্বয়ং আব্বাস (রাঃ) পড়িয়েছিলেন।
সে সময়ে ইসলামের একজন পণ্ডিত হিসাবে তার সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্যক্তিজীবনে তিনি প্রচুর দান করতেন। গরীব আত্মীয়দের প্রতি তার মমতা ছিল অধিক। আয়েশা (রাঃ) তার সম্পর্কে বলতেন, “আমাদের মধ্যে তিনি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশী ভয় করতেন এবং আত্মীয়দের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতেন”।
আরো পড়ুন…
- উম্মুল মোমেনীন মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ)
- উম্মুল মোমেনীন উম্মে সালমা (রাঃ)
- উম্মুল মোমেনীন জোয়াইরিয়া (রাঃ)
অভাবীদের দান করতে করতে গিয়ে একদা তিনি বিরাট অঙ্কের অর্থ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এই ঋণ আপনি পরিশোধ করবেন কি করে?
উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা পোষণ করে, আল্লাহ তাকে সে ব্যবস্থা করে দেন।
মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই মক্কা নগরীর অদূরে যে পল্লীতে তাদের বিয়ে হয়েছিল, সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। রাসুল (সাঃ) এর ইন্তেকালের পরে কিছুদিন তিনি মদিনায় থাকলেও, শেষ বয়সে তিনি মক্কার সেই পল্লীতে ফিরে এসেছিলেন, যেখানে তিনি রাসুল (সা) এর সাথে প্রথম সাক্ষাত পেয়েছিলেন। অতীত স্মৃতি আঁকড়ে ধরে, সেখানেই তিনি এবাদত গুজার করতেন। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাদের বিয়ের সময় রাসুল (সাঃ) এর বয়স ছিল ৫৮ বছর এবং মাইমুনা (রা) এর বয়স ৩০ এর কোটায়। তিনি যখন মারা যান তখন তার বয়স প্রায় ৮০ বছরের মত।
তার নামাজে জানাযার ইমামতি করেছিলেন প্রখ্যাত সাহাবী তারই বোন পো, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং তিনিই তাঁকে কবরে নামিয়ে শুইয়ে দিয়েছিলেন। এই আবুদল্লাহ ইবনে আব্বাস যখন শিশু বয়সে খালার কাছে বেড়াতে যেতেন, তখন রাসুল (সা) এর একান্ত এবাদত ও পারিবারিক জীবনকে কাছে থেকে নিজ চক্ষে দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি বহু হাদিসে এসব বর্ণনা করেছেন তাছাড়া এই হাদিসের সবগুলোই খুবই মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তার খালাম্মার লাশ বহনকারীদের বারবার সতর্ক করছিলেন এই বলে যে, ‘লোকসকল তোমরা সাবধান! এটা আল্লাহর রাসুলের স্ত্রীর লাশ। বেয়াদবী যেন না হয়, বেশী নড়াচড়া করো না এবং যত্ম ও ইজ্জতের সহিত লাশ নিয়ে চলো।
মিশরীয় লেখক মাহবুব মুজাচ্ছাম আল হোদয়াবী কর্তৃক রচিত বিশ্বনবী থেকে সংকলিত…

Discussion about this post