– মির্জা গোলাম আহমেদএই মতবাদের প্রবর্তক। কাদিয়ানী
– বর্তমান ভারতের অন্যতম প্রদেশ পাঞ্জাবের গুরুদাশ পুরের কাদিয়ান নামক স্থানে ১৮৩৫ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
– যৌবনের শুরুতে ব্রিটিশ পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কেরানী পদে চাকুরী করেছেন বলে কথা আছে।
– ভারতের কাদিয়ান নামক স্থান থেকে এই মতবাদের উদ্ভব হয়েছে বলেই, একে ‘কাদিয়ানী’ মতবাদ বলে।
– কাদিয়ানী প্রচলিত ধর্মমতের অনুসারীদের আহমদিয়া জামাত বলে।
– আহমদিয়া জামায়াতের ধর্ম প্রচারকে ‘আহমদিয়াত‘ বলা হয়।
– ১৯০৮ সালে মৃত্যুর মধ্যদিয়ে বংশ পরম্পরায় তাঁর ছেলেরাই এই জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছিলেন।
– তার বড় ছেলে মির্জা বশিরুদ্দিনের ভূমিকা এই ধর্মমতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
– পঞ্চম খলিফা হিসেবে মির্জা মাসরূর বেগ বর্তমানে এই জামাতের প্রধান দায়িত্বে আছেন।
– এই সংগঠনের প্রধান কার্যালয় ব্রিটেনে এবং এই ধর্মমত প্রচারে ব্রিটিশ সরকার খুবই সহযোগিতা দিয়ে থাকে।
– ফলে বিবিসি‘র মত টেলিভিশন চ্যানেল থেকে কাদিয়ানী দেরকে ইসলাম প্রচারের নামে তাদের কর্মকাণ্ড প্রচারের সুযোগ করে দেয়।
সারা বিশ্বে ও বাংলাদেশে তাদের অবস্থান (উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে )
– সারা বিশ্বের ২৬০ টি স্থানে এই মতবাদ চালু আছে এবং বর্তমানে সর্বমোট অনুসারীর সংখ্যা ১০ মিলিয়ন তথা প্রায় ১ কোটি।
– বাংলাদেশের ১০৩টি শাখায় তাদের কার্যক্রম চলে এবং ৪২৫ স্থানে তাদের নিজেদের মত সমাজ প্রচলিত আছে।
– তাদের বার্ষিক জলসায় ১০ হাজারের মত গুন গ্রাহি উপস্থিত হয়।
কাদিয়ানী মতবাদের মুল উৎস
– গোলাম আহমেদ নিজেকে একজন ওহী প্রাপ্ত নতুন নবী হিসেবে দাবী করেন।
– তার কাছে একটি আসমানি কিতাবও এসেছে বলে ঘোষণা করেন।
– সেই কিতাবের নামও কিন্তু ‘কোরআন শরীফ‘!
– যার আয়াত সংখ্যা ১০ হাজারের উপরে!
তাঁর দাবী
– তিনি কখনও নিজেকে ঈসা মসীহের প্রতিরূপ বলে দাবী করেন।
– কখনও তার প্রতি আসা আসমানি ওহীকে ‘সফিহা‘ বলে প্রচার করেন।
– তিনি নিজেকে প্রত্যাশিত ইমাম মাহদী বলেই দাবী করেন
– যার আগমনের অপেক্ষায় মুসলমানেরা অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন।
– তিনি তার নবুয়তি পাওয়ায় ব্যাখ্যায় বলেন, একদা রাতের স্বপ্নে তিনি নিজেকে নারীর আকৃতিতে দেখতে পান, স্বয়ং খোদা তার সাথে মিলিত হয়ে পড়েন এতে খোদায়ী নুর, তার দেহে প্রবেশ করে! এভাবেই তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হয়েছেন বলে দাবী করেন।
কাদিয়ানী মতবাদের সাথে খ্রিষ্টীয় ধারণার সামঞ্জস্যতা:
– খ্রিষ্টানেরা বিশ্বাস করে ঈসা (আ) শুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এবং দুনিয়াতে তাঁকে কবরও দেওয়া হয়েছে। সে বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম রবিবারে তিনি কবর থেকে উঠে কয়েকজন সাথীদেরতে দেখা দিয়ে আসমানে অদৃশ্য হয়ে যান। মোদ্দা কথা তিনি মারা গিয়েছেন।
– কাদিয়ানীদের দাবীও খ্রীষ্টানদের মত। ঈসা (আ) আসলেই মারা গিয়েছেন এবং তিনি আর কোনদিন আবার দুনিয়াতে ফিরে আসবেন না। খ্রীষ্টানদের সাথে এখানে মতের মিল হয়ে যায়।
ইসলাম ধর্মের সাথে অ-সামঞ্জস্যতা যেখানে
– ইসলাম ধর্ম মতে ঈসা (আ) মারা যান নাই। তাঁকে আল্লাহ তার কুদরতে শত্রুদের থেকে রক্ষা করে, সম্মানিত স্থানে তার মত করে লুকিয়ে রেখেছেন। পৃথিবীর অন্তিম সময়ে তিনি আবার দুনিয়াতে আসবেন।
– তখন ঈসা (আ) ইমাম মাহদী তথা এক সত্যপন্থী নেতাকে সাহায্যকারী হিসেবে পাবেন। ঈমাম মাহদীও ঈসা (আ) সাথে লড়বেন।
– ওদিকে গোলাম আহমেদ কাদিয়ানী দাবী করেন যে, তিনিই সেই প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদি। মুসলমানের যার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।
– কিন্তু ইসলাম ধর্মমতে ইমাম মাহদির জীবদ্দশায় তো ঈসা (আ) দুনিয়ার আসার কথা। কাদিয়ানীর সাথে এখানেই প্রথম দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়।
– কেননা গোলাম আহমেদ নিজেকে ইমাম মাহদি হবার জন্য, ঈসা (আ) এখনও জীবিত এবং তিনি আবার ফিরে আসবেন এমন কথা স্বীকার করলে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
– তাই তিনি মুসলমানদের ঈসা (আ) বিষয়ক বিশ্বাসটিকেই ভুল বলে দাবী করেছেন।
– কেননা মানুষ বলতেই থাকবে, ঈমাম মাহদী তো মরেই গেল তবুও ঈসা (আ) এলোনা! এতে তার দাবীর অসাড়ত্ব ফুটে উঠবে।
আগের আসমানি কিতাবের সাথে কাদিয়ানীদের চরম বৈপরীত্য
– নবীগণ যে অঞ্চলের মানুষ, তারা যে ভাষায় কথা বলতেন, ইতিপূর্বের সকল আসমানি কিতাবগুলোই সেই ভাষাতেই নাজিল হয়েছে। যাতে করে মানুষদের সহজবোধ্য ভাষায় তা বুঝাতে পারে।
– যবুর, তাওরাত, ইঞ্জিল, কোরআন নাজিল হয়েছে সে অঞ্চলের মানুষের মুখ নিসৃত স্থানীয় ভাষায়।
– যবুর-আরামীয়; তাওরাত-হিব্রু, ইঞ্জিল-সুরিয়ানী এবং কোরআন-আরবী ভাষায় নাজিল হয়। সবগুলোর মধ্যে কোরআনই হল সবচেয়ে বড় ও অবিকৃত গ্রন্থ।
– আকারে ছোট কিতাব গুলোকে বলা হয় সহিফা। এগুলো যে এলাকায় নাজিল হয়েছিল, মানুষের স্থানীয় ভাষাও তাই ছিল।
– আবার নবীদের নামগুলো এমন হত, যে নামগুলো ইতিপূর্বে কারো বাচ্চার জন্য কেউ রাখেনি বরং এই নতুন নাম শুনে, মাহাত্ম্য বুঝার জন্য মানুষ একটু চিন্তা করত।
পূর্বের আসমানি কিতাবের সাথে কাদিয়ানীদের ধারনার বৈপরীত্য
– গোলাম আহমেদ কাদিয়ানী ভারতের যে স্থানে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেখানকার স্থানীয় ভাষা পাঞ্জাবী/উর্দু।
– সেখানে কেউ আরবী ভাষায় কথা বলেনা এমনকি জন্মগত ভাবে আরবী কেউ বুঝেও না।
– তাহলে সেখানে যদি একটি আসমানী কিতাব নাজিল হবার দরকার হতোই, তাহলে সেটা উর্দু কিংবা হিন্দিতেই হতো।
– কোন মানসে গোলাম আহমেদ কাদিয়ানীর মাধ্যমে হিন্দুস্থানে আরেকটি আরবী ভাষার কোরআন নাজিল হলো?
– যুক্তির খাতিরে ধরা গেল, যেহেতু আরবী ভাষায় কাদিয়ানী কোরআন নাজিল হয়েছে, সেহেতু তার প্রথম হকদার আরব দেশের আরবীভাষী মানুষ।
– সেটাকে আরবীভাষী মানুষদের সামনে উপস্থাপন না করে, হিন্দিভাষী ভারতীয়দের দেবার জন্য কেন তিনি বাছাই করলেন?
– তার দাবী মতে এটা যেহেতু সহিফা বা আসমানি কিতাব; তাহলে অতীতের ধারাবাহিকতা হিসেবে এই সহিফার আরেকটি নাম হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল।
– সেটার জন্য নুতন আরেকটি নাম না হয়ে, সেটার নামও হুবহু কোরআন হল কেন? আল্লাহর কি নাম পেতে সমস্যা হয়েছিল? নাউজুবিল্লাহ।
– এ ধরনের হাজারো প্রশ্নের কোন উত্তর নাই, কোনদিন সুরাহা হয়নি বা পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে।
কোরআন বুঝা ও ব্যাখ্যার মাঝে বৈপরীত্য
– পবিত্র কোরআনের সুরা সফে একটি উদ্ধৃতি আছে যে, আল্লাহ ইঞ্জিলে বলেছেন, ঈসার পরে আরেকজন নবী আসবেন যার নাম ‘আহমদ‘।
– কাদিয়ানীদের দাবী সেই আহমদ হলেন এই “গোলাম আহমদ!”
– অথচ সকল বিশ্ববাসী বুঝে সেই আহমদ হলে মুহাম্মদ (সা) কেননা তাঁর আরেকটি নাম “আহমদ” আরববাসী তাঁকে আহমেদ বলেও ডাকতেন।
– কৌতূহলের ব্যাপার হল, আরব দেশে আহমেদ, মোহাম্মদ নামগুলো নতুন ভাবে সৃষ্টি হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা) জন্মের আগে কেউ এই নাম রাখেনি কিংবা এমন নামের কথা কেউ শুনেনি।
– ওদিকে গোলাম আহমদের জন্মের আগেই এ ধরনের লাখো আহমদ ইতিমধ্যেই জন্ম নিয়েছিল। কোরআন আসার পরে এটা আর নূতন নাম থাকেনি যে, তিনি আলাদা সম্মান দাবী করতে পারেন।
– নবীদের যে নামের সিলসিলা এখানেও একটা ঘাপলা আছে, যা পরিষ্কার নয়।
– কোরআনের একটি আয়াতে মোহাম্মাদ কে (সা) খাতামুন নাবিয়্যিন তথা নবুয়ত আসার পথকে সিলগালা করা হয়েছে; এমনটি বলা আছে।
– গোলাম আহমেদ সেটাকে ব্যাখ্যা করেছে এই বলে যে, মোহাম্মদ (সা) নবী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার জন্য সিল দেওয়া হয়েছে।
– চৌদ্দশত বছর ধরে কোটি কোটি মুসলমান বুঝল এক ব্যাখ্যা আর গোলাম আহমেদ বুঝেছেন ভিন্ন কিছু। কে ভুলের মধ্যে আছে সেটা বলাই বাহুল্য।
কাদিয়ানীদের স্বাতন্ত্র্য জীবন ধারা
– তাদের নবীর আনিত কিতাবের নাম ‘কোরআন‘।
– সেটা প্রায় দশ হাজার আয়াত বা লাইনের সমষ্টি।
– এটা কোরআনের চেয়েও বহু বড়, আর সহিফা হবার তো সুযোগই নাই কেননা সহিফার আকৃতিই হল ছোট।
– তার নতুন কোরআনে আগের কোরআনের কথা রাখা হয়েছে যেগুলো তাদের জন্য সুবিধা হয়।
– এবং নিজেদের মত কিছু কথা বাদ দিয়ে, কিছু নতুন কথা ঢুকানো হয়েছে।
– কমানো-বাড়ানোর এই কাজকে তিনি আল্লাহ প্রদত্ত ওহি হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন।
– মুসলমানেরা প্রতিদিন পাঁচবার ‘সালাত’ তথা নামাজ আদায় করে
– কাদিয়ানীরা তাদের নিজেদের প্রার্থনার নাম দিয়েছে ‘সালাত’ হিসেবে!
– মসজিদে সকল শ্রেণির মানুষ নামাজ পড়তে ঢুকে। সেখানে একজন ইমাম থাকে, তিনি নামাজ পড়ান।
– ইমাম না থাকলে উপস্থিত কাউকে ইমাম বানিয়ে নামাজ আদায় করা হয়। কিন্তু কাদিয়ানীদের মসজিদে বাহিরের কেউ ইমাম হতে পারে না কেননা তাদের পড়াতে আলাদা কিছু আছে।
– সকল কাদিয়ানীরা মুসলমানদের মসজিদে নামাজ পড়তে পারে কিন্তু কাদিয়ানী মসজিদ সকলের জন্য উন্মুক্ত নয়।
– কাদিয়ানীদের কবরস্থান আলাদা, তাদের সম্প্রদায়ের মানুষদের সেখানে কবর দেওয়া হয়। অন্য সাধারণ মুসলিমদের সেখানে কবরের অনুমতি নাই।
– মক্কা, মদিনা ও বায়তুল মোকাদ্দেস মুসলমানদের জন্য পবিত্র স্থান। এখানে বেশী সওয়াবের আশায় মুসলমানেরা যায়।
– কিন্তু কাদিয়ানীরা এবাদত করতে যায় ভারতের গুরুদাশ পুরে। যেখানে গোলাম আহমদের জন্ম হয়েছে।
– মুসলমান হজ্জ করে মক্কায় গিয়ে, বেশী সওয়াবের জন্য মদিনায় যায় কিন্তু কাদিয়ানীরা মক্কায় হজ্জ করেনা অধিকন্তু ভারতের গুরুদাশ পুরে গিয়ে তাদের মত করে প্রার্থনা করে আর সেটাকে বলে আল্লাহর এবাদত ও নবীর জেয়ারত।
– মুসলমানেরা যে সব ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করে যেমন, আল্লাহ, রাসুল, কোরআন, হায়াত, মউত, ফেরেশতা, রোজা, ঈদ, হজ্জ, যাকাত; কাদিয়ানীরাও একই পরিভাষা ব্যবহার করে কিন্তু সেখানে তারা তাদের নিজস্ব চিন্তা ও নিয়ম ঢুকিয়ে তাদের মত পালন করে।
– ফলে একজন সাধারণ মুসলমান লেখাপড়া ও অধ্যবসায় ব্যতীত এসব পার্থক্য বুঝেতে পারেনা। তারা সহজ সরল মনে কাদিয়ানীদেরকেও ইসলামের প্রকৃত অনুসারী মনে করে। কেননা
– তারাও আল্লাহর কথা বলে, কোরআনের কথা বলে, এবাদতের কথা বলে, হজ্জের কথা বলে কিন্তু তারা যে মক্কার বদলে মানুষকে ভারতের পাঞ্জাবে নিয়ে যাবে, সেটা বরাবর গোপনই থেকে যায়।
– স্পষ্টত তাদের এই কাজকে মুসলমানেরা দুর্বিসন্ধি, হঠকারিতা, পরিকল্পিত দুষমনি ছাড়া আর কীইবা ভাবতে পারে।
– একই নাম দিয়ে, ইসলামের মূলে ঢুকে, প্রকৃত অনুসারীদের বিপথগামী ও লক্ষ্যভ্রষ্ট করাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে মুসলমানেরা মনে করে।
– সে জন্য পৃথিবীর বহু দেশে কাদিয়ানীদের কাফির তথা বিদ্রোহী বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং বাংলাদেশের মুসলমানেরা বারবার দাবী তুলছে তাদের অমুসলিম সম্প্রদায় বলে ঘোষণা করার।
– পৃথিবীতে আর একটি ধর্মও এমন নেই, যার গায়ে পড়ে ঝগড়া লাগানোর মত তথ্য উপস্থাপন করে।
– বাংলাদেশে আরও বহু ধর্মমত আছে, যারা বিনা বিপত্তিতে নিজ নিজ ধর্মের বানী প্রচার করে।
– এটা ঠিক কাকের বাসায় ঢুকে তার ডিম ফেলে দিয়ে কোকিলের ডিম পারার মত ঘটনা। এই শত্রুতামূলক চরিত্রের কারণে কেয়ামত পর্যন্ত কাক ও কোকিলের কোনদিন বন্ধুত্ব হবেনা।
– কাদিয়ানীদের কেও মুসলমানদের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, নতুবা কোন অবস্থাতেই সহবস্থান কিংবা বন্ধুত্ব কষ্টসাধ্য হয়ে থাকবেই।
এসব সমাধানে মূল করনীয়
– কাদিয়ানীদের মতে তাদের নবী যেহেতু আলাদা, তাই তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম কোরআন রাখতে পারবে না। বাইবেল, বেদ, ত্রিপিটকের মত আরেকটি ভিন্ন নামে চিহ্নিত করতে হবে।
– যেহেতু তাদের মতবাদ ভিন্ন, সেহেতু তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ বলা যাবেনা। গির্জা, প্যাগোডা, মন্দিরের মত ভিন্ন নাম একটি নাম দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে। এবং নিশ্চয়ই সেটা যেন আরবী ভাষায় না হয়ে হিন্দি ভাষায় হবে হবে।
– তাদের মৃতদের স্থানকে সাধারণ মুসলমানের মত কবরস্থান বলতে পারবে না। শ্মশান, সিমেট্রির মত করে আরেকটি নামেই ডাকা যাবে। কি নামে ডাকা হবে সে সিদ্ধান্ত তারাই নিতে পারে।
– তারা নিজেদেরকে মুসলমান বলবে না। মূসা (আ) অনুসারী ইয়াহুদী, ঈসার (আ) এর অনুসারী নাসারা‘র মত করে, তাদের নবীর সাথে মিলিয়ে একটি ভিন্ন নামে পরিচিত নিতে হবে।
– আল্লাহ, রাসুল, ফেরেশতা, কবর, জিয়ারত, সালাত, সাউম এ ধরনের কোন আরবী প্রতিশব্দ ব্যবহার করতে পারবে না।
– এসবে পরিবর্তন আনলে তাদের সাথে পৃথিবীর কোন মুসলমানেরই ধন্ধ হবার কথা নয়। তারা বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম দেশেই নিজ ধর্ম-মতবাদ পেশ করতে পারবে নির্বিঘ্নে।
কথা হল অন্য ধর্মের মাথা ফাটাতে, সুচিন্তিত ভাবে, পরিকল্পনার সহিত, শুরুতে যে ধর্মের জন্ম দেয়া হয়েছে। তারা কি এই শর্ত মানবে? যদি মানে তাহলে তো তাদের ধর্মের কোন অস্তিত্বই থাকেনা। লেখক নিজে যতটুকু লিখা পড়া করেছে সেই পূঁজি দিয়ে বুঝা যায়, সম্ভাবনার পরিমাণ এক হাজার ভাগের এক ভাগও নয়।
সুতরাং কেলেঙ্কারি করে দেশ ও সমাজে টিকে থাকার জন্য, কাদিয়ানীদেরকে বরাবরই প্রশাসন ও পরাশক্তির দ্বারস্থ হতে হয়।
পুনশ্চ: এই প্রতিবেদন শিক্ষা লাভের জন্য লিখা হয়েছে। তাই আপনার সুচিন্তিত বিজ্ঞতা পূর্ন মতামতকে অভিনন্দন জানানো হবে। আঘাত, কটূক্তি, বিশ্রী মন্তব্য মুছে দেওয়া হবে।
গোড়ার কথা : কাদিয়ানীদের শক্তির উৎস
– ভারতে মুসলমানদেরকে পরাভূত করতে না পারার কারণ অনুসন্ধান করার জন্য তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার স্যার উইলিয়াম হান্টারকে দিয়ে একটি কমিশন গঠন করে।
– হান্টার কমিশন দীর্ঘদিন ভারতে থেকে যাচাই-বাছাই বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের নাম হান্টার কমিশন রিপোর্ট।
– হান্টার ভারতীয় মুসলমানদের সংস্কৃতি, ধর্ম, আকিদা সব অবলোকন ও বিশ্লেষণ করেন এবং স্পেশালী “দ্যা ইণ্ডিয়ান মুসলমানস” নাম ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি বই রচনা করেন।
– সে বইতে, মুসলমানদের পরাভূত করতে না পারার অনেক গুলো কারণের মধ্যে, অন্যতম দুটো কারণকে উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে।
– তার একটি হল, মুসলমানদের ধর্মীয় আকিদা ও কুরআনের বর্ণিত জিহাদের প্রেরণা।
– মুসলমানদের আকিদা বরবাদ হলে পরকাল নষ্ট হবে এবং জিহাদের প্রেরণা নষ্ট হলে, দুনিয়াতে তাদের গোলাম বানানো যাবে।
– সেই বইতে মুসলমানদের নিকট থেকে কিভাবে জিহাদের প্রেরণা নষ্ট করা যায়, সে ব্যাপারে খোলামেলা পরামর্শ আছে।
– মুসলমানদের আকিদা-বিশ্বাসকে কিভাবে বিভ্রান্ত করা যাবে সে ব্যাপারেও বিস্তর কথাবার্তা আছে।
– তারই আলোকে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় মুসলমানদের নিয়ে আলাদা করে ভাবতে বাধ্য হয় এবং নতুন নতুন প্রজেক্ট হাতে নেয়।
কোরআনে বর্ণিত জিহাদের প্রেরণা ও আকিদা বিশ্বাস
– জিহাদের কথা কোরআনের বহু জায়গায় আছে তাই এটা ফরজ তথা অবশ্য পালনীয়।
– জিহাদ মানে যুদ্ধ নয়, সর্বাত্মক প্রচেষ্টা (যুদ্ধ অর্থ কেতাল) যেমন নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করার কথা আছে।
– যারা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে, দুনিয়াতে তারা সর্বদা অকূতোভয়ী, সাহসী ও সদা জয়ী।
– তাই জিহাদের প্রেরণাটাই মূল সমস্যাটা হিসেবে ধরা হয়। তারপরও তা দমানো যাবে, পথ বাছাই করা হয় দু‘টি।
– জিহাদকে অনাবশ্যক কিংবা ভয়ে পরিণত করতে হবে এবং জিহাদকে যুদ্ধ/সন্ত্রাসের মত রূপ দিতে হবে।
– যাতে করে আক্রমণ-আগ্রাসন চালানো যায়, আবার ধর্ম যুদ্ধের নামে কেউ সংঘটিত হতে না পারে। তাই,
– জিহাদ থেকে মানুষকে ভুলিয়ে রাখার জন্য ইসলামের ভিতরে উপদল সৃষ্টির চিন্তা করা হয়।
– কোরআন থেকে জিহাদ সম্পর্কিত কথাগুলো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
– এটা সহজ সাধ্য নয়, তবে নতুন করে একজন নবী আসলে এবং সাথে একটি নতুন কোরআনের ব্যবস্থা হলে ব্যাপারটি খুবই সহজ হয়ে যায়।
– আবার সেই কোরআন স্থানীয় ভাষায় হলে চলবে না, একেবারে খাঁটি আরবীতে হওয়া লাগবে।
– এই কাজের দায়িত্ব নেবার জন্য তাদের অধীনে চাকুরী-জীবী একজনকে পাওয়া গেল।
– তাকে নতুন নবী বানিয়ে এবং সাথে একটি আসমানী কিতাবের ব্যবস্থা করা হয়, যার নাম কুরআন! নতুন কোরআন নয় হুবহু একই নামের আরেকটি কোরআন!
– বিদঘুটে হলেও একজন উর্দুভাষী ব্যক্তিকে দিয়ে, হিন্দুস্থানের মাটিতে একটি আরবী কোরআন নাজিল করানো হয়।
এ ব্যাপারে কাদিয়ানী আহমদিয়াদের বক্তব্য কি?
– কাদিয়ানীদের কোরআনে, জিহাদ নিয়ে কোন কথাই রাখা হয়নি অধিকন্তু তারা সর্বদা এই বিষয়ের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
– মূলত জিহাদের কথা মোছতে গিয়ে, তাকে ঠিকমত সন্নিবেশ করতে গিয়ে তার আয়াত সংখ্যা ১০ হাজার পেরিয়েছে।
– তারা মানুষদের কে আহবান করে “এসো ভাল মানুষ হই”, “এসো ভাল মুসলমান হই”। কৌশলে বুঝানো হয় মুসলমানদের মধ্যে যারা প্রতিবাদী তারা ভাল মানুষ তো নয়ই ভাল মুসলমানও নয়!
– গোলাম আহমেদ নিজেই বলেছেন যে, ‘আমি জিহাদের বিরুদ্ধে এত লিখেছি যে, সে সব যদি জমা রাখা হত, তাহলে ৫০ টি আলমারি লাগত হেফাজতের জন্য’।
– ইংরেজদের পক্ষ হয়ে থাকার জন্য গোলাম আহমেদ তার অনুসারীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
– “শুন, ইংরেজদের রাজত্ব তোমাদের জন্য একটি বরকত এবং খোদার তরফ হইতে তাহা তোমাদের জন্য ঢাল স্বরূপ। অতএব তোমরা নিজেদের জান প্রাণ দিয়া ঢালের যত্ন কর, হেফাজত কর, সম্মান কর। আমাদের বিরোধী মুসলমানদের তুলনায় তারা হাজার গুনে শ্রেষ্ঠ”। তবলীগে রিসালাত, ২য় খণ্ড, ১২৩ পৃষ্ঠা।
– এ ধরণের অগণিত উদাহরণ দেওয়া যাবে যে, কাদিয়ানীরা মূলত ইসলামের স্পিরিট বরবাদ করার জন্যই ব্রিটিশের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে।
– ব্রিটিশ সরকার, ইসলাম প্রচারের জন্য বিবিসি‘র স্যাটেলাইট চ্যানেল ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন।
– সেখানে নাম হল ইসলাম প্রচার কিন্তু প্রচার করে কাদিয়ানী মতবাদ। পরিষ্কার দিনের আলোতে ঘটা এসব কাজ কর্ম থাকার পরও তারা দাবী করে মুসলমান।
– কাদিয়ানীদের ধর্মীয় হেড কোয়ার্টার ব্রিটেনে!! ব্রিটেনে লাখো লাখো মুসলমান বাস করে। তারা নিজ দায়িত্বে সে দেশে বহু মসজিদ বানিয়েছে। সে সব মসজিদেও কাদিয়ানীরা নামাজ পড়তে যায়না।
– বাংলাদেশে তাদের সমস্যা আছে বুঝা গেল, ব্রিটিশে তো সেই সমস্যা নাই, সেখানে বসেই কেন সমস্যা সমাধান করেনা।
– আসল কথা হল সমস্যার সমাধান নয়, তাদের মূল লক্ষ্যই হল ইসলামের আকিদা-বিশ্বাসকে নষ্ট করা এবং সে জন্য তারা মোটা অংকে অর্থ সহযোগিতা পায়। এবং
– ব্রিটিশের পারিতোষিক পেয়ে, কাদিয়ানীদের হয়ে কথা বলার জন্য বহু বুদ্ধিজীবীদের তারা লালন করে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তাদের আধিপত্য
– ব্রিটিশ ভারতে কাদিয়ানীদের ছিল রমরমা আধিপত্য, কেননা তখন শাসন ক্ষমতা ছিল ব্রিটিশের হাতে।
– বলা হয়ে থাকে ব্রিটিশের প্ররোচনায় তাদের অধিনস্ত চাকুরীজীবি গোলাম আহমেদ দিয়ে ইসলাম ধর্মের মাঝে আরেকটি উপধর্ম সৃষ্টির চেষ্টা চালায়।
– ফলে ব্রিটিশেরা আজো তাদেরকে সকল প্রকার সহযোগীতা দিয়ে যায়।
– ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে গেলে, কাদিয়ানীরা বড় বিপদে পড়ে যায়। ভারত ও পাকিস্তানের দুই অংশে বিভক্ত হয়ে তারা ক্ষুদ্র দলে পরিণত হয়ে পড়ে।
– তাছাড়া ততদিনে কাদিয়ানীরা মুসলমানদের বিপক্ষে একটি শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দেশ স্বাধীন হলে আগে তাদের দফা রফা হবার আশংক্ষা সৃষ্টি হয়।
– ভারতীয় অংশের কাদিয়ানীদের জন্য তেমন একটা সমস্যা রইল না, কেননা সে দেশের নেতৃত্ব থাকবে হিন্দুদের হাতে। হিন্দু সরকার কাদিয়ানীদের ভাল পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।
– কাদিয়ানীরা প্রকৃত ইসলামের বিপক্ষ শক্তি বলে আজ পর্যন্ত ভারত সরকার কাদিয়ানীদের সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
– পাকিস্তান ভূখণ্ডে পড়া কাদিয়ানীদের রক্ষার্থে ব্রিটিশ এগিয়ে আসে।
– তারা খুব চতুরতার সাথে চৌধুরী স্যার জাফর উল্লাহ খানকে নতুন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বসিয়ে দেন।
– তিনি ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত, তুখোড় রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক এবং তার পিতা ছিলেন কাদিয়ানীদের প্রতি অন্ধ ও বিশ্বস্থ সেবক।
– মূলত জিন্নাহ‘র সাথে ব্রিটিশেরা যখন দেশ স্বাধীনের শর্ত নিয়ে আলোচনা করে, সে আলোচনার মধ্যেই জাফর উল্লাহকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার বিষয়টি সমাধা হয়েছিল।
– জিন্নাহ নিজেও অত ধার্মিক ছিলেন না, শিয়া মতবাদের বিশ্বাসী জিন্নাহ বরং সেকুলার চিন্তার মানুষ ছিলেন।
– তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রের ধন্ধ, মৌলিকত্ব নিয়ে ভাবা-ভাবির মত মানুষ তিনি ছিলেন না। তার সে সুযোগ ও ছিল না।
– অধিকন্তু শিয়া মতবাদের মানুষের জন্যে কাদিয়ানী কোন ফ্যাক্টর নয়। তাই এই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হয়নি।
– যারা ধর্ম ও রাজনীতিকে আলাদা করে দেখে, তাদের কাছে এই বিষয়টি কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা নয়।
– জিন্নাহ জাফর উল্লাহকে সহজে মেনে নিয়েছিলেন, কেননা জিন্নাহ’র মাথায় একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল।
– জাফর উল্লাহ ছিলেন ঝানু কূটনৈতিক এবং ব্রিটিশের রেল মন্ত্রী, অন্যদিকে কাদিয়ানীদের স্বার্থ রক্ষায় একনিষ্ঠ খট্টর।
– কাদিয়ানীদের হয়ে একজন জাফর উল্লাহ এত কাজ করেছেন, যা স্বয়ং গোলাম আহমেদ নিজেও করতে পারেন নি!
রাষ্ট্রীয় অনুকম্পায় কাদিয়ানী সম্প্রদায়
– পাকিস্তান নামের দুই ডানা বিশিষ্ট নতুন একটি দেশের জন্ম হল।
– নতুন দেশ চালানোর জন্য হাজার হাজার নতুন সরকারী পদের সৃষ্টি হল।
– জাফর উল্লাহ খানের সহযোগিতায় দলে দলে কাদিয়ানীদের সরকারী চাকুরীতে ঢুকানো হল।
– ফলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের শুরুতেই বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে তারা দখল নেয়।
– সৌদি আরব কাদিয়ানীদের সে দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।
– দেখা দেখি অনেক মুসলিম দেশও একই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
– শুরুতে পাকিস্তানের পাসপোর্টে শিয়া, সুন্নি, কাদিয়ানী, বাহাই, ইসমাইলিয়া এসব বর্ণ লিখতে হত।
– ফলে বর্ণ হিসেবে কাদিয়ানী থাকলে মুসলিম দেশ সমূহে কেউ ভিসা পেত না।
– জাফর উল্লাহ নিজের প্রভাব খাটিয়ে, পাসপোর্ট থেকে সেই বর্ণ প্রথা বিলুপ্ত করে।
– ফলে কাদিয়ানীরা মুসলিম পরিচয় ধারণ করে সুবিধা নেয় কিন্তু তারা মুসলিমের বন্ধু নয়।
– দৃশ্যত তারা গোলযোগ করেনা, মারামারি করেনা এই বলে বুঝাতে চায় তারা নিরীহ।
– কিন্তু অন্যের পাতে ছাই দেওয়া, অন্যের বেশ ধারণ করে তথ্য সন্ত্রাস করা, আরো বড় অপরাধ।
– এই কাজে তারা সিদ্ধহস্ত। তাদের প্রচুর অনুসারী সরকারী বিভিন্ন গুরত্বপূর্ন পদে আসীন।
– তারা নিজেদেরকে ভাল ও সজ্জন মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয়। – আবার তেজোদীপ্ত আলেমদের বিরুদ্ধে কলকাঠি নাড়ে।
– চারিদিকে বড় পদে বসে থাকার কারণে তারা সহজেই রাষ্ট্রিয় আনুকূল্য হাতিয়ে নিতে পারে।
বাংলাদেশে তাদের অবস্থান
– কাদিয়ানের চেনা বড় দুষ্কর কেননা তারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবী করে, নাম, চেহারা সবই মুসলমানের মত।
– দিনে দিনে তারা সচিবালয় থেকে শুরু প্রশাসনের সর্বত্র আসন গেড়ে বসেছে।
– মিডিয়া থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এনজিও কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সফল ব্যবসায়ী মহল পর্যন্ত তাদের পাদচারণা আছে।
– তাছাড়া বিভিন্ন দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে আত্মীয়তা পেতে, তাদেরকে দিয়ে নিজেদের কথা বলায় কিংবা নিউট্রলাইজ করে ফেলে, যাতে নিজ ধর্মের পক্ষেও ভূমিকা না রাখে।
– তাদের পদবীধারী ব্যক্তিরা নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখে, গায়ে পড়ে কখনও বলেনা যে, সে কাদিয়ানী।
– এটা তাদের অন্যতম পলিসি কেননা এই পদ্ধতিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে নিজেদের স্বার্থে তড়িৎ খবরদারী করা সহজ।
– প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে কলকাটি নেড়ে প্রকৃত ইসলাম পন্থিদের ধোলাই দেওয়াটা সহজ হয়।
– ওরা বিএনপি, আলীগ, জাতীয় পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদেও বসে আসে।
– সকল দলের কাঁধে ভর করে নিজেরাই, তাদের দল চালায়
– ওরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করে থাকে।
– সুতরাং ওরা সংখ্যায় নগণ্য হলেও, ক্ষমতার পাওয়ারে ওরা বেজায় মজবুত।
চিনার উপায়
– ওদের মসজিদে গেলে তাদের পাওয়া যায় কিন্তু তারা দৃশ্যত নিরীহ প্রকৃতির হিসেবে উপস্থাপন করে।
– ইপিজেড এ আমার দুই জন সহকর্মীকে কাদিয়ানী হিসেবে চিহ্নিত করতে প্রায় দুই বছর লেগেছিল।
– ভাল বেতনে চাকুরী করে, হোটেলের দাওয়াতে গেলে আমার প্রায় সকল মুসলিম সহকর্মীকে অনায়াসে মদ পান করতে দেখতাম।
– বিদেশীদের এই দাওয়াতে মদ থাকত, যার যত ইচ্ছা, ততটা টানার সুযোগ ছিল।
– তারপরও রমজান মাসে তাদের রোজা রাখা ও নামাজ পড়তে দেখতাম।
– এই দুই সহকর্মী কোন রমজানে নামাজ পড়ত না এমনকি ঈদের নামাজ ও না।
– সেই থেকে নামাজের জন্য দাওয়াত ও জোরাজুরি শুরু। অগত্যা নিজেদের পরিচয় দিতে বাধ্য হয়েছিল।
– যাই হোক, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সর্বদা কাদিয়ানীদের দিকে ঝুঁকে থাকে। কারণ
– মুখচোরা কাদিয়ানী কর্মকর্তাদের নির্দেশ অধীনস্থরা মানতে বাধ্য।
– সারা দুনিয়াতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এত আগ্রাসন চলে, তারা কখনও নিন্দা প্রতিবাদ করেনা।
আমাদের দেশে ওদের কিছু চরিত্র
– কিছু বর্ণচোরা মুসলমান দেখা যায়, যারা ইসলামের সমালোচনায় আগ্রাসী কিন্তু কাদিয়ানীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখে।
– বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের মুখ দিয়ে কাদিয়ানীরা তাদের দাবী দাওয়া তুলে ধরে, তাদের গুনকীর্তন করিয়ে নেয়।
– এমন কাজের আঞ্জাম দেবার জন্যে তারা মিডিয়ায় ঢুকে পড়ে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিজেদের করে নেয়।
– এরাও সব কাদিয়ানী, পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তারা নিজের পরিচয় আড়াল করে রাখে, যাতে কখনও প্রতিবাদ করা লাগলে যুতসই যায়গায় তা করা যায়।
– কোরআন-হাদিস দেখিয়ে বলা হয়, জিহাদি বই সহ গ্রেফতার! কিছু গণমাধ্যম কর্মী বড় অক্ষরে তা প্রকাশ করে প্রচারণা চালায়।
– অতি উৎসাহী এরাও কাদিয়ানী। অনেকে ভাবে আরে দূর এটা-তো রাজাকারের উপর দিয়ে গেল।
– কিন্তু রাজাকার চাদরের আড়ালে তারা আরো মারাত্মক হিংসাত্মক কাজ করে ফেলে।
– সে এক ঢিলে বহু পাখি মারার চক্করে, পবিত্র কোরআনকেও জিহাদী বইয়ের চাদর লাগানো হল।
– এদের অতি উৎসাহ পনার জন্য বিএনপি, আওয়ামীলীগ সরকারের নেতারা পর্যন্ত মাঝে মাঝে ভীমরতিতে পড়ে ভাবতে থাকে, প্রশাসনে এরা কারা?
– কাদিয়ানীদের কাছে কাছে দলের আনুগত্যের চেয়ে সম্প্রদায়ের আনুগত্যই প্রধান।
সমস্যা যত
– বিবিসি তাদের চ্যানেলে ইসলাম প্রচারের সুযোগ দিয়ে বুঝাতে চায় তারা ইসলামের প্রতি কতই না উদার।
– বস্তুত তারা ইসলামের নাম দিয়ে কাদিয়ানীদের মতবাদ প্রচারের সুযোগ করে দেয়।
– মুসলিম দেশের দুর্যোগে ব্রিটিশেরা যত সাহায্য দেয়, তাতে কাদিয়ানীদের অগ্রাধিকার দেয়।
– সাধারণ মানুষ কাদিয়ানী না চিনলেও তারা ঠিকই চিনে নিতে পারে, দুলাল মিয়ারা কে কোথায় থাকে।
রাজনৈতিক নেতারা সুরাহা করে না কেন?
– স্বার্থ-বাদী রাজনীতিতে ভোটের অংক একটা বিরাট সমস্যা হয়ে দেখা দেয়।
– এই টার্মে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ কথা তুলছিলেন যে, কাদিয়ানীদের মুসলমান হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তাদের ভোট ব্যাংক বাড়বে।
– অর্থ-বিত্ত স্বার্থের কাছে এদের কাছে ইসলাম, আল্লাহ, কোরআন এসব দ্বিতীয় সাড়ির বস্তু।
– অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরাও এই চিন্তার বাইরে নয়।
– তাদের সোজা-চিন্তা ভোটের অংকে কাজে আসলে ধর্মকে ওয়েলকাম নতুবা তা গোল্লায় যাক।
– বুড়ো হয়ে বেকার হলে তখন ধর্ম-কর্ম নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হবে।
– সে জন্য এসব সমাধানে কেউ হাতে দেয়না, ভোট নষ্ট হবে বলে ভাবতেও চায় না।
– তাছাড়া বিদেশী প্রভুদের একটি সার্বক্ষণিক চাপ উপেক্ষা করাটাও কঠিন।


Discussion about this post