কানাইডিঙ্গা হারিয়ে যাওয়া উদ্ভিদ

indicum.
বাংলাদেশের অঞ্চল ভেদে এটার বহু নাম রয়েছে। থনা, ঠনা, শোনা, সোনাল এসব বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাপ্ত নাম। এই গাছের কয়েকটি ফল গুচ্ছ আকারে ধরে। দুটি লম্বা ফালির মধ্যে এই বিচিগুলো সাজানো থাকে। বিচি গুলো কাগজের মত পাতলা। হালকা বাতাসের দোলায় দুর দূরান্তে উড়ে গিয়ে সর্বত্র বংশ বিস্তার করে। ফল শুকিয়ে গেলে ফালি দুটো আলাদা হয়ে ক্ষুদ্রকায় ডিঙ্গির আকার ধারণ করে। দুই মাথা চৌকা ও মাঝখানে প্রসস্থ হবার কারণে এটার সাথে ডিঙ্গির নৌকার চেহারার সাথে খাপ খায়। তাই এটাকে কানাইডিঙ্গা বলা হয়।
 
এর বৈজ্ঞানিক নাম, Oroxylum indicum আর ইংরেজিতে বলে Broken Bones Plant. এই নামের পিছনে কারণ কি তা জানা যায় না। তবে, ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই গাছের পাতা ও ফল পাটায় পিষে কাদা বানিয়ে সেটা হাড়ের ভাঙ্গা স্থানের উপর লেপটে দিত। এতে করে ভাঙ্গা হাড়ের মেরামত হত। এই চরিত্রের কারণে হয়ত গাছটির ইংরেজি নাম Broken Bones Plant হয়ে গেছে। আবার চিন্তাটি সঠিক নাও হতে পারে।
 
বাংলাদেশের সর্বত্র এই গাছটি জন্মাত। এই গাছের বহুবিধ উপকারিতার সবই আয়ুর্বেদ শাস্ত্র কেন্দ্রিক। ফলে এটি পরিপূর্ণ ঔষধি গাছ হিসেবেই চিত্রিত হয়েছে এবং কৃষি খামারে তেমন একটা জায়গা করে নিতে পারে না। থাইল্যান্ড, লাওসের মানুষের কচি কানাইডিঙ্গা ভাজি, ভর্তা বানিয়ে খায়। একটু তিতা হবার কারণে সর্বত্র সবজি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
কানাইডিঙ্গা আমাদের কাছে সাধারণ বুনোফুল হলেও গাছটি ঔষধিগুণে ভরা। এই গাছের ছাল, মূলের ছাল, ফল ও পাতা জন্ডিস, শরীর ব্যথা, অণ্ডকোষের সমস্যায় ওষুধ হিসেবে কাজে লাগে। জন্ডিসে ছাল বেটে গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে শরবত করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। শরীরে সাধারণ ব্যথায় শিকড়ের রস স্বল্পমাত্রায় সেবন করলে সেরে যায়। কুকুরের কামড়ে গাছের ছাল গোলমরিচসহ পিষে বড়ি বানিয়ে দৈনিক তিনটি খেলে এবং বাহ্যিক-ভাবে প্রলেপ দিলে ভালো হয়। অজীর্ণ, ডায়রিয়া, আমাশয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, ব্যথা, বাত-জ্বর, বাত, রসবাত ও কর্ণশূলে কানাইডিঙ্গার বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *