ভদ্রলোকের ছেলের মুখে তাজা গালি শুনে তাজ্জব বনে গেলাম! তিনি যথেষ্ট লজ্জিত হলেন। লজ্জিত হবারই কথা, তার প্রফেশন, সামাজিক পরিচিতি, বন্ধু সার্কেল যে মর্যাদার তার সাথে খাপ খায়না ছেলের এমন গালির কসরত!
প্রশ্ন করলাম, ছেলে এমন গালি শিখল কোথা থেকে?
কি জানি! আমরা তো এমন কারো সাথে চলি না যারা গালাগালি করে! উত্তর দিলেন এভাবে।
কৌতুকচ্ছলে বললাম, ‘আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন, সন্তান স্বপ্নের মাধ্যমেই এই গালি শিখে’?
ভদ্রলোক হেঁসে বললেন, ‘কিছু অসৎ সঙ্গীই এর অন্যতম কারণ হতে পারে’।
বললাম, ‘অসৎ সঙ্গ ছাড়ানো কিন্তু পিতা-মাতারই দায়িত্ব’।
তিনি বললেন, ‘সেটা কিভাবে সম্ভব! এসব সঙ্গদোষ সৃষ্টি হচ্ছে স্কুলের সহপাঠী থেকেই’। স্কুলটাই খারাপ, সব থার্ড ক্লাস টাইপের মানুষের সন্তানে স্কুল পরিবেশ গিজ গিজ করছে। কদাকার করে ছাড়ে। তারপরও স্কুলটা বদলাতে চাচ্ছি না কেননা নতুন স্কুলে গেলে যে, আবার নতুন সঙ্গ দোষ সৃষ্টি হবেনা সেটার গ্যারান্টি কি।
বললাম, ঠিকই তো। তাহলে ছেলের পিছনে নিজেই লেগে থাকুন, বুঝাতে থাকুন, হয়তোবা কাজে আসতে পারে।
বললেন, চেষ্টার তো ত্রুটি করছিনা। আগে এসব বিব্রতকর পরিস্থিতির কথা কেউ জানত না। যেমন, আজকে আপনিই শুনে ফেললেন। তাই ইজ্জত রক্ষা নিয়েই ভাবছি।
ঘটনাক্রমে কিছুদিন তাদের পরিবারের কাছাকাছি থাকার দরকার পড়ল। তাঁর দৃষ্টিতে আমার মত সজ্জন মানুষ পেয়ে তিনি বেজায় খুশী। আমি তো আরও দুই ধাপ বেশী খুশী। তার মত রুচিশীল একজন মানুষকে নিকট প্রতিবেশী হিসেবে কে না চায়!
একদিন তিনি উত্তেজিত, চরম ভাবে উত্তেজিত! এটা মানুষের সমাজ, ঘরোয়া পরিবেশে উত্তেজিত হতেই পারে! তিনি ঘরের ভিতরেই স্ত্রী-পুত্র কারো সাথে বিতণ্ডায় লিপ্ত। নিজের ঘরের ভিতরে স্ত্রী-পুত্রের সাথে পিতা উত্তেজিত হলে, অন্যজন কিভাবে খবর নিতে পারে; সে করণীয় নিয়ে ভাবছি। ঠিক এই মুহূর্তে কি করা যায়, সে প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।
বিভ্রান্তিতে আছি। গায়ে পড়ে দরজায় টোকা মারব। শান্ত হতে বলব। নাকি সান্ত্বনা দিব? আমিও করিডোরে পায়চারি করছি আর ভাবছি। এমনি সময় দরজার দিকে আগ বাড়াতে গিয়ে শুনতে পেলাম, সেই ঐতিহাসিক বিশ্রী গালি। ভুল শুনেছি বলে মনে হল, কান পাতলাম! তওবা, তওবা, এটা তো গালিই! ভদ্র মানুষের মুখে এই রুচিহীন বাক্য মোটেও মানানসই নয়! মাথা ঘুরিয়ে উঠল, চিন্তা করলাম কয়েকদিন আগেই যেন এ বাক্য কারো মুখে শুনেছিলাম!
নিজের মাথার মগজ যেন আমার অনুমতি ব্যতিরেকেই, তথ্য তালাশে ব্যস্ত হল। এমনি সময় মনে পড়ে গেল! আরে এই গালি বাক্যতো সে দিন তার ছেলের মুখেই শুনেছিলাম! আর পিতা বলেছিল, স্থূলের সহপাঠী থেকেই ছেলে এসব শিখেছে। আজকে দেখি পিতার মুখেই নিদারুণ গালির, বাহারি বাক্যে শোভা পাচ্ছে! কানকে বিশ্বাস করতে পারলাম না।
পরদিন পিতাকে বললাম, আপনার ছেলে তো, স্কুল থেকে গালি শুনে না, তার কাছে গালি আসে আসমান থেকে!
তিনি খুবই আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করলেন, বলুন বলুন কোথায় তাকে ধরতে পারলেন। আমিতো বড় লজ্জায় আছি!
বললাম, আর লজ্জায় পড়তে হবেনা, আপনার ছেলে গালি স্কুল থেকে শিখে না, পরিবেশ থেকেও শিখে না। অন্যের নামে বদনাম দিয়ে চললে শুধরানো যায় না। ছেলে গালি শিখে আপনার মুখ থেকেই। আমাকে আপনার দিকেই আঙ্গুল তুলতে লজ্জায় মরছি!
(জীবন থেকে নেয়া)
Discussion about this post