ধরুন, কোন বাড়ীতে হিন্দি সিনেমার গান, বাংলা ডিজের আসর বসে আবার সে বাড়ীতে নামাজী আছে, হাজী সাহেবও থাকেন! এই ধরনের পরিবেশে জিন শয়তান আর ফেরেশতার উপস্থিতি নিয়ে কেমন হিসাব হতে পারে? চলুন বিষয়টি একবার দেখে নেই। ঘরে জিন-শয়তানের আশ্রয়
উত্তর হল, এধরনের পরিবেশে শয়তানেরই জয় জয়কার হবে। কল্যাণের ফেরেশতারা সেখানে থাকার খুব কমই সুযোগ পাবে। ফেরেশতাদের কাছে রাখার জন্য পুরো পরিবেশটাই তাদের পক্ষে হতে হয়। নতুবা তারা থাকেন না।
বিপরীতে শয়তান তো মসজিদের নামাজে গিয়েও সমস্যা করে। ভাল খারাপ উপভয় পরিবেশে সে সুযোগ বানিয়ে নেয়। সেজন্য আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘ইসলাম মানতে গেলে পরিপূর্ণ দাখিল হতে হয়’।
কোন ঘরে যদি নামাজ পড়া হয়, কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। ঘরের মালিক যদি পরহেজগার হয়। তাতে শয়তানের গায়ে আগুন লেগে যায়। কেননা এসব কাজে রহম ও সংরক্ষণকারী ফেরেশতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে এবং শয়তানের জন্য জায়গাটি সংকোচিত হয়।
সে পালাতে বাধ্য হয়। মূলত মানুষ তার নিজের চরিত্র, খাসিয়ত, ইচ্ছা আর অভিলাষ দিয়েই শয়তান কিংবা ফেরেশতাদের কাছাকাছি করার সুযোগ করে দেয়। এজন্য মানুষের কর্মই শতভাগ দায়ী।
দুটি উদাহরণ দিলে খুবই পরিষ্কার হবে ব্যাপারটি
জিব্রাইল (আঃ) রাসুল (সাঃ) কে একদা কথা দিয়েছিলেন যে, আগামীকাল সকালে আবার আসবেন। তাই রাসুল (সাঃ) আগে থেকেই পরিপাটি হয়ে জিব্রাইলের জন্য অপেক্ষায় রইলেন। সকাল গিয়ে বেলা দুপুরের দিকে, তখনও জিব্রাইল (আঃ) দেখা নাই! রাসুল (সাঃ) ভাবলেন, এটা কেমন কথা! মহান ফেরেশতা কথা দিয়ে ভুলে যায়! একথা ভাবনায় তিনি বাড়ির বাহির হওয়া মাত্রই জিব্রাইল (আঃ) এসে হাজির।
রাসুল (সাঃ) অনুযোগ করলেন, আপনার না সকালে আসার কথা? উত্তরে জিব্রাইল (আঃ) বললেন, এসেছিলাম সকালেই কিন্তু যার ঘরে কুকুর থাকে আমরা সেখানে যাই না। রাসুল (সাঃ) জলদি নিজের ঘর তল্লাশি করে দেখলেন, তাঁর ছোট্ট কুটিরে কোন ফাঁকে এক কুকুর নিশ্চিন্তে ঢুকে, আরামে ঘুমাচ্ছে!
এক্ষেত্রে জিব্রাইল (আঃ) তাঁর ঘরেই ঢুকেন নাই কিংবা কোন কৌশলে নবীকে সংবাদ টি জানায়ও নাই। তাই বুঝা যায়, ঘরে পরিবেশ না থাকলে, সেখানে ফেরেশতা যায় না। সে দোষটা ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছায় হোক!
মানুষের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পিঁয়াজ-রসুন। রাসুল (সাঃ) পিঁয়াজ-রসুন অপছন্দ করতেন কিন্তু তিনি এগুলো উম্মতের জন্য হারাম করেন নাই। একদা তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বন্ধুদের নিকট অর্থাৎ ফেরেশতাদের নিকট এসবের ঘ্রাণ অপছন্দ, তাই তিনি খান না’। এখানে নবী (সাঃ) তাঁদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেই এসব খাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। সাধারণ মানুষদের অনেকে যেভাবে সমন্বয় করে চলতে আগ্রহী, আল্লাহর রাসুল (সা) এখানে সেটা করেন নি।
তিনি ফেরেশতাদের বন্ধুত্বকে সুযোগ বানিয়ে দুটোকে এডজাষ্ট করতেও চায় নি। তিনি জানেন, পরিবেশ থাকলে তারা আসবে, আর না থাকলে আসবেনা! তাই তিনি নিজেই পরিবর্তন হয়েছেন, ফেরেশতাদের রুচির পরীক্ষা না করে তাদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
সুতরাং বুঝা গেল নিজের ঘরকে আল্লাহর রহমত দিয়ে পরিপূর্ণ করতে চাইলে নিজের ইচ্ছা-অভিলাষের সাথে লড়তে হয়। গায়ে পড়ে শয়তান ঘরে আসলেও, রহমতের ফেরেশতারা গায়ে পড়ে আসেনা বরং তাদেরকে নিজের ঘরের মেহমান বানতে হয়। ওদের মেহমান বানাতে গেলে তাদের পছন্দনীয় জীবন গ্রহণ করতে হয়। তারা বাহিরে দাঁড়িয়ে কখনও বলবে না যে, আপনার ঐ সমস্যা, তাই ঘরে আসলাম না।
ফলে নিজেকে পরিবর্তন করার কোন বিকল্প নাই। এতে সামান্য পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। পুরোপুরি বদলে যেতে হয়। নতুবা নিজের জীবনের চৌহদ্দির মধ্যে শয়তানের আনাগোনাই বেশী হতে থাকবে। অন্যদিকে নিজে যতবড় নামাজি হউন না কেন ও যত বেশী বারের হাজি হবেন না কেন, তা স্বত্বেও নিজের ঘরে শয়তানের প্ররোচনা সমান তালে চলবে। ঘরে শয়তানের বন্ধুত্ব নিয়েই দুনিয়া ত্যাগ করা লাগবে।


Discussion about this post