দোয়া পড়া ছাড়া কোন খানা খেলে, সে খাদ্যে শয়তান ভাগ বসায়। সে জন্য যে ঘরে দোয়া পড়া ছাড়া খাওয়া হয়, সেখানে শয়তান হৃষ্টপুষ্ট হয়। কেউ দোয়া পড়তে ভুলে গেলে, খাওয়ার পরেও যদি নির্দিষ্ট দোয়া পড়া হয় তাহলে শয়তান ইতিপূর্বে খাওয়া খানা বমি করতে বাধ্য হয়। জিন-শয়তান-মানুষ
তাই সর্বদা দোয়া-কালাম পড়া, আল্লাহর জিকির করা মানুষগুলো শয়তানের চক্ষুশূলের মত। শয়তান এই একটি মাত্র জায়গায় নিজের ভাগ্যকে দোষ দেয় যে, ‘আমার কপালে একজন মুত্তাকী মানুষ জুটে দুনিয়ার প্রাপ্তিকে করছে বিষময়’!
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ঘরের খাদ্য দ্রব্য বিসমিল্লাহ বলে ঢেকে রাখার জন্য বলেছেন। ঢাকনার অভাবে প্রয়োজনে একটি কাটি দিয়ে হলেও পাত্র ঢাকতে বলেছেন; যদিও কাটি কখনও পাত্রের মুখ বন্ধ করতে পারেনা। রাত্রে খাবারের পর আ-ধোয়া খাদ্য পাত্র রাখতে নিষেধ করেছেন।
আল্লাহর পক্ষ হতে, এসব উপদেশ শুধুমাত্র শয়তানকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যেই! শয়তানকে মানুষ দেখতে পায় না, তাই সে কিভাবে বঞ্চিত হয়, সেটা মানুষ জানেনা। ফলে ওহি জ্ঞানের সাহায্য নিতে হয়। ওহীর জ্ঞান রাসুলদের মাধ্যমে আসে। আমরা এসব মুহাম্মদ (সাঃ) থেকে শিখেছি।
যেখাকোরআনে অপচয় কারীকে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে। কেননা অপচয় মানেই অগণিত শয়তানের রিজিকের ব্যবস্থা হওয়া। অপব্যয়ী আর অপচয় কারীর জন্য শয়তানের আশীর্বাদের শেষ নাই। তাই যার আয়ে যত বেশী শয়তান আহার করবে, তার রিজিকে তত বেশী পরিমাণে বরকত কমতে থাকবে। বরকতের মূল মন্ত্র এখানেই লুকিয়ে থাকে!
ব্যাপারটিকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে বুঝানোর জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘বরকতের আশায় খাদ্য যাতে পুরাটাই চেটে খায়। এমনকি নিজের আঙ্গুলে লেগে থাকা খাদ্য কণা যদি নিজের খেতে ইচ্ছে না করে, তাহলে যেন অন্যকে দিয়ে আঙ্গুল চাটিয়ে নেওয়া হয়’। অপচয়ী নয় এমন এক মিতব্যয়ী সাহাবীর ঘটনা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে।
এক সাহাবী নিজের সম্পদ উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ায় বিরক্ত হয়ে, রাসুল (সাঃ) কে অনুরোধ করেন, যেন তিনি তাঁর সম্পদ কমে যাবার জন্য দোয়া করেন। রাসুল (সাঃ) বললেন, তুমি আজ থেকে ঘোড়ার পিটে বসে খাবে। কিছুদিন পরে সাহাবী একই অনুযোগ। রাসুল (সাঃ) আবারো একই পরামর্শ। সাহাবী বললেন, তিনি তো সেই থেকে ঘোড়ার পিটে বসেই খেয়ে চলেছেন! রাসুল প্রশ্ন করলেন, যে সব খাদ্য মাটিতে পড়ে যায়, সেগুলো কি কর? তিনি উত্তর দিলেন, সে গুলো সংগ্রহ করে, পরিষ্কার করে আবারো খেয়ে ফেলেন!
রাসুল (সাঃ) হেসে বললেন, তোমার থেকে সম্পদ কোনদিনই কমবে না, এটাই আল্লাহর ফয়সালা। সেই সাহাবী ছিলেন ওসমান (রাঃ)। লক্ষণীয় ব্যাপার, সাহাবী ঘোড়ার পিটে বসে খেলে খাদ্যের অপচয় ঘটবে এতে করে তাঁর রিজিকে বরকত হানি হবে, ফলে তিনি অভাবী হবেন।
তাই প্রাত্যহিক দোয়া আমাদের মুখস্থ রাখা, অর্থ-জ্ঞান অর্জন করা এবং যথাস্থানে তা জিকির করা আল্লাহর গোলামীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুখের জিকির নয়! হৃদয়ের অনুভূতি আর নিজের চরিত্র দিয়ে জিকির করতে হয়। যেভাবে জিকির করেছেন রাসুল (সাঃ) অগণিত, বেশুমার সাহাবীরা। জিন-শয়তান-মানুষ

Discussion about this post