তিসির নাম শুনে নি এমন মানুষ হয়ত দেশে পাওয়া যাবে না। তবে তিসি উদ্ভিদ দেখেনি এমন অনেকই আছে। তিলের সাথে তিসির যেন একটা আত্মীয়তা আছে। তিলের অভাবে অনেকেই তিসিকে ব্যবহার করে থাকেন। তিসি বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্মে। সরিষার ক্ষেতে যখন ফুল ফুটে, তখন সারা বিল হলুদ হয়ে যায়। তিসির ফুল ফুটলে সেভাবে সারা ক্ষেত হালকা নীলাভ হয়ে যায়। বাতাসে আন্দোলিত তিসির কাণ্ড অপূর্ব সুন্দর লাগে। বাতাসে দোল খাওয়া তিসি ফুলের উপরে ভ্রমরা হামলে পড়ার দৃশ্য খুবই নান্দনিক। যেন ভ্রমরা জোড় করেই তিসি ফুলকে চুম্বন করছে। তিসি দানা তৈলের ডিব্বা
আরো পড়তে পারেন…
- খয়েরী গাছের ইতিকথা
- ক্যালাবাস অদ্ভুত অত্যাচার্য ফল
- বাথুয়া : লড়াকু উদ্ভিদের উপকারিতা
তিসির ইংরেজি নাম Linseed. আরবিতে বলে “কাতান”। তিসি গাছকে আরবিতে ‘বজরুল কাতান’ এবং ফার্সিতে ‘তোখমে কাতান’ উর্দুতে ‘আলসী’ এবং সংস্কৃত-হিন্দীতে ‘অতসী’ বলা হয়। এ থেকেই বুঝা যায়, এটি প্রায় সর্বত্রই পরিচিত একটি উপকারী উদ্ভিদ। তিসির ফুল সকালে ফুটে এবং বিকালে ঝরে যায়। গোটা আকৃতির ফল হয়। সে ফলের ভিতরে থাকে তিসি বীজ বা দানা। এটা তো দানা নয়, রীতিমত তৈলের ডিব্বা!
প্রাচীন কাল থেকেই, চিকিৎসা বিজ্ঞানে তিসির বহুল ব্যবহার ছিল। পিত্তজ্বর, উদরাময়, চর্মরোগ, হাঁপানি, উদরস্থ বায়ুর প্রকোপ কমানো সহ নানাবিধ রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হত। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এসবের বিকল্প ঔষধ আমার কারণে আর তিসিকে ঔষধ শিল্পে তেমন আর ব্যবহার করা হয় না। তবে,
তিসির তৈল মাথার চুল কালো করা, মাথা ঠাণ্ডা করা, শরীরে মালিশ করা, শিশু চামড়ার যত্নে আজো ব্যবহার হয়ে আসছে।
আরো গুরুত্বপূর্ণ কথা, তিসি এখন নিরাপদ ও লাভজনক ভোজ্য তৈল হিসেবে দিনে দিনে সর্বত্রই কদর বাড়ছে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে তিসির বীজে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আঁশের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। রক্তের কোলেস্টেরল দমাতে ওমেগা-৩ এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটির উপস্থিতি আছে তিসির দানায়! ওমেগা-৩ এর গুণাবলি লুকিয়ে থাকে মাছের তৈলে। এটাই তিসিতে আছে! ফলে সারা দুনিয়ায় তিসি চাষের গুরুত্ব বাড়ছে।


Discussion about this post