আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, “আমি নবী (সাঃ) -কে বলতে শুনেছি, ভাল স্বপ্ন আল্লাহ্র পক্ষ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে খারাপ লাগে, তা হলে সে যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তখন সে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং এর ক্ষতি থেকে আশ্রয় চায়। কেননা, তা হলে এটা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না”।
আবু সালামাহ (রাঃ) বলেন, ‘আমি যখন এমন স্বপ্ন দেখি যা আমার কাছে পাহাড়ের চেয়ে ভারি মনে হয়, তখন এ হাদিস শোনার ফলে আমি তার কোন পরোয়াই করি না’। বোখারী-মুসলিম।
দুঃস্বপ্ন শক্তিশালী মানুষকে কাহিল ও সাহসী মানুষকে হিম্মত-হারা করে দেয়। অতীত ইতিহাসে বহু ঘটনাই স্বপ্নের সাথে সম্পর্কিত; অনেক রাজা-বাদশাহ শুধুমাত্র দুঃস্বপ্নের কারণ উৎঘাটনে ব্যর্থ হয়ে, প্রতিনিয়ত দুঃচিন্তায় তার শাসন কর্তৃত্ব হারিয়েছে! একজন উজির বা মন্ত্রীর যে মর্যাদা স্বপ্নের ব্যাখা করতে পারে এমন ব্যক্তির সম্মান-মর্যাদা আরো বেশী হত। নবী-রাসুলদের শয়তান প্ররোচনা করতে পারে না, সেজন্য নবীরা যা স্বপ্নে দেখতেন তা সত্য ঘটনাই দেখতেন।
আল্লাহ যাকে প্রজ্ঞা দেন তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারেন। ইউসুফ (আঃ) কে আল্লাহ প্রজ্ঞাবান বলেছেন। বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম ইবনে শিরিন (রহ) মুহূর্তেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারতেন। ইতিহাসে খুবই চিত্তাকর্ষক ও যুগান্ত সৃষ্টিকারী স্বপ্নের কিছু ব্যাখা করে তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন। যুগে যুগে তো আর ইমাম শিরিনের মত ব্যক্তি আসবে না! তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বপ্নের বস্তুগত দর্শন টা মুমিন-মুত্তাকীদের জানিয়ে দিলেন। তাই দুঃস্বপ্ন দেখে না ঘাবড়িয়ে, তিনবার থুথু ফেলে, আল্লাহর নিকট সাহায্য ও ক্ষমা চেয়ে নিত্যকার দিন চালু করা উত্তম। অন্য আরেকটি হাদিসে বাম দিকে থু থু নিক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া মুত্তাকী ব্যক্তিদের তো হতাশ বা ঘাবড়ানোর কিছু থাকেনা; কেননা তারা জীবিত থাকলেও নিরাপদ, মৃত্যুর পরেও নিরাপদ!

Discussion about this post