আমার প্রিয় নাজিরহাট কলেজ সরকারী করণের অনুমতি পেল!নাজির হাটের অদূরেরই মাইজ ভাণ্ডার এবং আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বাবুনগর মাদ্রাসা সহ আরো কয়েকটি প্রসিদ্ধ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। এই জায়গাটি বহু কারণেই সেরা এবং আলোচিত। একদা নাজিরহাট কলেজের অবস্থান চট্টগ্রামের সকল বেসরকারি কলেজের মধ্যে সেরা ছিল।
এখানে সাইন্স পড়ার জন্যে দূরবর্তী জিলা গুলো থেকে ছাত্ররা আসত। সাইন্স ল্যাবের মধ্যে, চট্টগ্রাম সরকারী কলেজের পরেই ছিল এর অবস্থান। এ কারনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই কলেজে ছাত্ররা পড়তে আসত। বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, সন্দীপ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার, টেকনাফের ছাত্রদের খুব আধিক্য ছিল। নাজির হাট কলেজ প্রকৃতি নির্ভর। যার কারণে দূর দুরান্তের ছাত্ররা কলেজের দিঘী তুল্য বিরাট পুকুর, খেলার মাঠ, বাগান, গাছ-পালার সান্নিধ্য, একাকীত্ব মোছন করত।
নাজিরহাট কলেজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বহু আগেই তথা ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে রয়েছে কলেজের বিরাটকায় এলাকা এবং ছাত্রাবাস। প্রতিটি শিক্ষকের জন্যেই কলেজ ক্যাম্পাসে কোয়াটার আছে। এখানে আছে নাজিরহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়।
নাজির হাট এলাকার মানুষেরা অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল, ধনী ও শিক্ষানুরাগী। এখানকার মানুষ প্রায় প্রতিটি ঘরেই শিক্ষক রেখে সন্তানদের পড়া-শোনা করাতেন। নাজিরহাট কলেজের চারিদিকে পাঁচ বর্গমাইল এলাকায় ছাত্রদের লজিং থাকার বিরাট সুযোগ ছিল। ফলে হাজার হাজার দূরবর্তী ছাত্রদের এখানে থাকা-খাওয়ার সু-বন্দোবস্ত হত।
নাজিরহাট কলেজ একেবারে হাট-হাজারী ও ফটিকছড়ির সীমান্তে পড়েছে! ফলে কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায়, ফটিকছড়ি ও হাট-হাজারীর কেন্দ্রে আরো দুটো নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওগুলোর বয়স ও খ্যাতির দিক দিক থেকে নাজির হাট কলেজের পরে হওয়ার পরও, কেন্দ্রের অবস্থান হেতু ওগুলো আগেই সরকারী হয়ে যায়। তাছাড়া বাহ্যিক নানা ঘটনা-অঘটন কলেজটির জন্যে বুমেরাং হয়েছিল।
অনলাইনে বহু ঘাঁটাঘাটি করে বিস্তারিত প্রিন্সিপ্যালদের ধারাবাহিক তথ্য পাইনি! আমাদের তদানীন্তন প্রিন্সিপ্যাল জনাব খলিলুর রহমান মহোদয়ের মাথার উপরে কিছু তথ্য আয়না বাঁধাই করা ছিল। আমার স্মৃতিতে যতটুকু মনে পড়ে, এই কলেজের স্বল্পকালীন প্রথম প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন একজন ইংরেজ। দ্বিতীয় প্রিন্সিপ্যাল বর্তমান ভুজপুরের টি-আহমেদ (তোফায়েল আহমেদ, গোল্ড মেডালিষ্ট-কলিকাতা ইউনিভার্সিটি) এবং ১৯৬৬ সালের প্রথম ছাত্র-সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন মাওলানা আবুল হাশেম (প্রিন্সিপ্যাল নারায়নহাট মাদ্রাসা)।
-তথ্যগুলো স্মৃতি থেকে দেওয়া, আপডেট পাওয়া গেলে এখানে পরিবর্তন হবে
উল্লেখ্য ছাত্র শিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী সংঘর্ষ হয়েছে এই কলেজকে কেন্দ্র করে এবং এককভাবে ছাত্র শিবিরের সবচেয়ে বেশী ছাত্র শাহাদাত বরণ করেছে এই কলেজেই। নাসির বাহিনীর প্রধান নাসির তথা শিবির নাসিরের জন্ম হয়েছিল, এখানকার গোলযোগ পূর্ণ পরিবেশের মধ্য থেকেই। এবং গোপাল কৃষ্ণ মুহুরি নামে যে প্রিন্সিপ্যাল আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন, তিনি এই কলেজেরই শিক্ষক।
ফাইনালী এই কলেজের বহু ছাত্র পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অধ্যাপক, সচিব, ডাক্তার, অর্থনীতিবিধ, এমনকি ভিসি পর্যন্ত হয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা এই ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নাজির হাট কলেজকে সরকারী করণের অনুমতি প্রদান করেছেন। প্রধান উপদেষ্টাকে একরাশ শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন।


Discussion about this post