১৮৫৬ সালে জার্মানির নিয়াণ্ডারথাল নামক এক উপত্যকায় অবিকল মানুষের হাড়ের মত কিছু ফসিল পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা যায় এগুলো প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার বছর আগের। জার্মানির সেই উপত্যকার নামেই তাদেরকে ‘নিয়ান্ডারথাল’ প্রজাতির মানুষ হিসবে বিবেচনা করা হয়। যারা ১৭০ হাজার বছর আগে থেকেই পৃথিবীতে বসবাস করে আসছিল।
এই ঘটনার পরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, আরো ফসিল আবিষ্কৃত হয়! সে থেকে জীব বিজ্ঞানীদের চিন্তার মধ্যে নতুন ডাল-পালা গজাতে থাকে। বিজ্ঞানীরা দেখতে পায়, নিয়াণ্ডারথাল প্রজাতির মানুষের দেহ, বর্তমান সময়ের মানুষের মত হলেও, তারা কিন্তু বর্তমান সময়ের মানুষের মত কথা বলতে পারত না! তারা অন্যান্য প্রাণীদের মত শব্দ সংকেতের মাধ্যমে কিংবা ইঙ্গিতে একে অপরের সাথে ভাব বিনিময়ের দ্বারা জীবন পরিচালনা করত।
বিজ্ঞানীরা যেহেতু বলতে পারল নিয়ান্ডার থাল কথা বলতে পারত না, তাহলে বিজ্ঞানীদের প্রতি এই প্রশ্নও সৃষ্টি হয়ে যায় যে, তাহলে বর্তমান সময়ের মানুষ কিভাবে কথা বলা শিখল? এটার একটা ব্যাখ্যাও তারা দাঁড় করিয়েছে। Sapiens গ্রন্থেই বিজ্ঞানী Yuval Noah Harari উল্লেখ করেছেন যে,
“৭০ থেকে ৩০ হাজার বছর সময়ের মধ্যে মানুষের মগজে এক বুদ্ধিভিত্তিক বিপ্লব ঘটে যায়! সৃষ্ট বিল্পবের এই কারণটি একেবারেই অজানা। তবে অধিকাংশই এই থিউরীতে একমত যে, এটা ছিল মগজের মধ্যে একটি Accidental Genetic Mutations Change তথা ‘দুর্ঘটনা জনিত জেনেটিক পরিবর্তন’!
মানুষের মগজের এই অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ফলে, তাদের মধ্যে চিন্তার ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। অধিকন্তু একে অপরের সাথে যোগাযোগের নতুন মাধ্যম হিসেবে, তাদের মত করে একটি নতুন ভাষারও সৃষ্টি হয়ে যায়”
Sapiens : A brief History of Humankind, Page-21
উপরোক্ত কথাটি প্রমাণিত বিষয় নয়। এটা বিজ্ঞানীদের একটি থিউরিই মাত্র। আর থিউরির মানেই হল, বিষয়টি এখনও প্রমাণিত হয় নি। কেননা মানুষ কিভাবে কথা বলা শিখল, বিজ্ঞানের ভাষায় বিষয়টি বুঝার জন্য, আপাতত এই থিউরির চেয়ে সুন্দর কোন জবাব বিজ্ঞানীদের কাছে নেই!
তবে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য, তাদের জীবন পরিচালনায় অভূতপূর্ব সফলতার পিছনে, কথা বলা কিংবা ভাষার একটি বিরাট গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে; বিজ্ঞানীরা সে বিষয়টি প্রমাণ করতে পেরেছে। বিশ্ব সভ্যতার আজকের সময়ের মানুষের যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, তা মানুষ কবে থেকে কিভাবে, কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পেয়েছে? সে সব তথ্যাদি আজো প্রমাণিত হয় নি।
পরবর্তীতে আমরা গুরুত্বপূর্ন নজীর দেখতে পাব যে, মানুষ কিভাবে কথা বলতে শিখল এবং কথা বলতে পারাটার মাধ্যমে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হল।


Discussion about this post