আয়েশি ভঙ্গিতে দাঁত খেলাল করছিলেন আর মৌন ভঙ্গিতে বলছিলেন তার হজ কাফেলা এজেন্সিতে টাকার ধার্যটা একটু বেশীই।
তারপরও তিনি হাজি সংকুলান করতে পারেন না। প্রতিবছরই এটা বাড়ছে। দেশের গণ্যমান্যদের ঠেলাঠেলি তার এজেন্সিতে লেগেই থাকে।
তাই তাকে প্রতিবছরই তার হজ্জ কাফেলায় ছোট খাট একটা হাজি জটের সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। তিনি একজন পীরের প্রধান খলিফাও বটে।
পীর চোখ বন্ধ করা মাত্র খেলাফত তার হাতে ছুঁই ছুঁই করছে। তাই মুরিদ দের কাছেও তার পরিচিতিও অনেক। যদিও ধনী মুরিদেরাই এই সুযোগ পেতে পারেন।
আপনার এজেন্সির এই মহা সাফল্যের কারণটা কি? একটু খুলে বলবেন কি?
অবশ্যই বলব, এটা তো লুকানোর কোন ব্যাপার নয়। আমার প্রতিষ্ঠানের সুন্দর ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত তদারকি আর হাজিদের খেদমত প্রাপ্তির মাধ্যমেই লুকায়িত আছে এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য। তার মধ্যে যেগুলো না বললেই নয়।
– হারামের পাশের বড় হোটেলের কোন এক তলায় সারা বছরে জন্য, তিনি বিলাসবহুল হোটেল এপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছেন।
– তাই তার এজেন্সির সবাইকে সর্বদা হারামের নামাজে জামাতে গিয়ে ঠেলাঠেলি করতে হয় না!
– তার এপার্টমেন্টেই নামাজ পড়তে পারে, নামাজের সালাম ফিরালেই কাবা নজরে আসে।
– উঠতে, বসতে, শুইতে, চলতে, ফিরতে সর্বক্ষণ কাবার প্রতি দৃষ্টি রাখার সুবিধা।
– ঘরে বসেই, পবিত্র হারামের সকল জামাতে নামাজ, রমজানে বিতর পড়ার অপূর্ব সুবিধা।
– একান্তে দোয়া করার জন্য, এটা একটা বিরাট সুযোগ।
– সর্বদা জমজমের পানি পানি পানের পর্যাপ্ত সু-ব্যবস্থা।
– মদিনাতেও সমান সুযোগের আবাসন ও য়াতায়াতের ব্যবস্থা।
– এই শহরে দেশীয় খানা খাওয়ার বড় অসুবিধা, আশে পাশের সবই বিলাতি খানায় ভরপুর।
– তাই তিনি দেশীয় খাদ্য তথা, সাদা ভাত, পানি ডাল, ইলিশ মাছ, আলু-বেগুন ভর্তা, তাজা গোশত, ছোট মাছের ব্যবস্থা রাখেন।
– হাজিরা মন পুরে, পেট ভরে খেতে পারেন।
– বিকালে চা, সুপ, চণা-পেয়াজি অর্থাৎ বাংলাদেশী নাস্তার দারুণ ব্যবস্থা।
– তাছাড়া মক্কা-মদিনার কোন স্থানে দাড়িয়ে, কিভাবে মোনাজাত করলে জীবনের আজে-বাজে সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়, তার খবর তো আমরা জানিই।
– সেখানে তাদেরকে আরামের সহিত নিয়ে যাই এবং গুনাহ মাফের রাস্তা দেখিয়ে দেই।
– আমিই সর্বদা গুনাহ মাফের দোয়া করে থাকি। সবাই আমার মোনাজাতে খুশী হয়।
– যারা একবার আমার হজ কাফেলায় এসেছে, তারাই খুশীতে প্রচার করতে থাকে।
– আমার কাফেলায় দেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা হজ করেছেন নাম শুনলে বেহুশ হবেন।
শুনে আশ্চর্য হলাম, দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কাছে কিভাবে মানুষের কাছে আধ্যাত্মিকতা পরাজিত হচ্ছে। পার্থিব এই প্রেরণা, পবিত্র শহর মক্কা-মদিনার উপকণ্ঠে গিয়েও পৌঁছেছে। আর এ সবের ব্যাখ্যা ও ব্যবস্থা করে দিচ্ছে যারা, তারা পীর-আলেম হিসেবেই মানুষের কাছেই সমাদৃত!


Discussion about this post