দুর্ভিক্ষ:
১৭৬৯ – ১৭৭৩ সালের ভয়ানক দুর্ভিক্ষের ফলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রায় এক কোটি মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। এই ভয়ানক দুর্ভিক্ষে সর্বত্রই জীবন যাত্রা, অগ্রযাত্রা সবই মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। পথে প্রান্তরে লাশ আর লাশে ভরপুর হয়েছিল। ইতিহাসে এই করুন দুর্ভিক্ষকে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল।
আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত:
শুধুমাত্র ৭৯ সালের ২৪শে আগস্ট সকালে রোমান সম্রাজ্যের অন্তর্গত বহুদিন আগে থেকেই মৃত; ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি বিকট গর্জনে জেগে উঠে। বিকট গর্জন আর ভয়ানক তাণ্ডব নিয়ে ভিসুভিয়াস কোটি কোটি টন ছাই আর পাথর নিয়ে আছড়ে পড়ে চারিদিকের জনপদের উপর। ভিসুভিয়াসের ভয়াবহতা এতই প্রবল ছিল যে, তার নিক্ষিপ্ত ছাই ও পাথর আকাশের মেঘের চাদর ভেদ করে ৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত উপরে উঠেছিল! প্রতি সেকেন্ডে ১৫ লক্ষ টন নিক্ষিপ্ত ছাই আর পাথরের আস্তরণে চিরদিনের জন্য চাপা পড়ে যায় পম্পেই আর হারকুলেনিয়াম নামক দুটো শহর! পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যায় এই শহর দুটো! কয়েকদিন ধরে ভিসুভিয়াসের চরিত্র ভাল ঠেকছিল না, তাই শহরের গরীব ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা আগেই পালিয়েছিল, তারপরও ১৬ হাজার সচ্ছল ও ধনী মানুষ, কোটি টন চাই-ভস্মের তলায় চাপা পড়ে সিমেন্টের মত সেঁটে গিয়েছিল।
বন্যা:
১৯৩১ সালে মধ্য চীনে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যায় পুরো দেশের অধিকাংশ জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১ লক্ষ ৭৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্লাবন সৃষ্টিকারী এই ব্যাপক বন্যাকে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহতম বন্যা হিসেবে ধরা হয়! এই বন্যায় পৌনে তিন কোটি থেকে চার কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়:
১৯৭০ সালের ১২ ই নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে সমগ্র বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে। এই ঝড়ে পুরো দক্ষিণাঞ্চল বিরান হয়ে পড়ে। ভোলায় প্রাণের স্পন্দন পাওয়া দুষ্কর ছিল ইতিহাসে এটাকে ভোলার ঘূর্ণিঝড় বা ভোলার সাইক্লোন বলে। মানব ইতিহাসের এই ভয়ানক দুর্যোগের কবলে পড়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়!
ভূমিকম্প:
১৫৫৬ সালের ২৩শে জানুয়ারি, এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে চীনের স্যানাক্সি রাজ্যের ৮৪০ কিলোমিটার ব্যাপী ৯৭টি প্রদেশের সর্বত্রই ধ্বংস করে দেয়। সারা দেশের বিশাল অঞ্চল জুড়ে এই ধ্বংস যজ্ঞ থেকে উদ্ধার করার জন্য মানুষ পাওয়া যায়নি। ইতিহাসে রেকর্ডের খাতায় এটিকে দুনিয়া কাঁপানো ভয়াবহতম ভূমিকম্পের তালিকায় আনা হয়েছে। আর এই ধ্বংসে শুধুমাত্র চীন থেকেই প্রায় ৮৩ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়।
সুনামি:
২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরের তলদেশে সংঘটিত ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামির কারণে সমগ্র এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চল লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ভারত মহা সাগরের বিপর্যয় কর পানির ঢেউয়ের থাবায় জাপান থেকে আন্দামান পর্যন্ত সর্বত্রই ধ্বংস আর মৃত্যুর বিভীষিকায়, দুই লাখ ত্রিশ হাজার মানুষ বেঘোরে প্রাণ হারায়!
১৩৪৬ – ১৩৫৩ সালের ভয়াবহতম প্লেগ রোগের আক্রমণে এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সমগ্র ইউরোপ মিলে তিন মহাদেশে এক সাথে কবরের নিস্তব্ধতা নিয়ে হাজির হয়েছিল। ইতিহাসে এটাকে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা কালো মরণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। কালো মরণের ছোবলে শুধুমাত্র ইউরোপ থেকে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ইতিহাসে কালো মরণ খ্যাত এই মারাত্মক ব্যাধি ইউরোপের জনসংখ্যা প্রায় খালি করে ফেলেছিল।
১৮৪৫ – ১৮৫২ সালে আলুর উপর ছত্রাকের আক্রমণে পুরো আইরিশ জাতি ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছিল! আলুর উপর নির্ভরশীল আইরিশেরা এই রোগ দমনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ইতিহাসের এই দুর্যোগকে ‘আলু দুর্ভিক্ষ’ বলা হয়ে থাকে। আলু দুর্ভিক্ষে শুধুমাত্র আইরিশ জাতির প্রায় দশ লক্ষ মানুষ অকালে প্রাণ হারায়।
খরা:
১৮৭৬ – ১৮৭৯ সালে চীনের নয়টি প্রদেশে মারাত্মক খরার কবলে পড়ে পুরো জনপদ পুড়ে বিরান হয়ে পড়ে। খরার কারণে খাদ্যের অভাবে মানুষ কীট পতঙ্গের ন্যায় মারা পড়েছিল! দুনিয়া কাঁপানো ভীতিকর এই খরায় প্রায় ৯০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ত্রিশ লক্ষ মানুষ অকাতরে প্রাণ হারায়।
‘ফ্লু’ ভাইরাস জ্বর:
১৯১৮ – ১৯২০ সাল এই দুই বছরে ফ্লু’তে (ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস) আক্রান্ত হয়ে পড়ে, সারা দুনিয়ার সাড়ে তিন কোটি থেকে সাত কোটি মানুষ। মতান্তরে শুধু ভারতেই আক্রান্ত হয় দশ কোটির মত মানুষ। দুনিয়া কাঁপানো জাতি বিধ্বংসী এই ‘ফ্লু’র আক্রমণে এক কোটি ষাট লক্ষ শিশু এবং বৃদ্ধ নির্মম ভাবে প্রাণ হারায়।


Discussion about this post