বাংলাদেশের প্রচলিত ভাষায় এটাকে ‘গিলা’ বলা হয়। কেননা এটাকে দেখতে অনেকটা মুরগীর গিলার মত দেখায়। আকারে, আয়তনে, বর্ণে দেখতেও মুরগীর গিলার মত। ইতিপূর্বে যে কোনদিন এই বীজ দেখেনি, সে যদি হঠাৎ এটাকে দেখতে পায়, তাহলে প্রথমেই মুরগীর গিলার কথাই মনে পড়বে। সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে এই বীজের নাম ‘গিলা’, নামটি যথোপযুক্ত হয়েছে। পৃথিবীর বৃহত্তম সিম ‘গিলা’
আরো পড়তে পারেন…
- জামাল গোটার তেলেসমাতি
- তিসি দানা তৈলের ডিব্বা
- খয়েরী গাছের ইতিকথা
একদা বাংলাদেশের বনে এটাকে দেখতে পাওয়া যেত। একদা ছোটকালে গহিন বনে ঘুরতে গিয়ে বিরাটকায় সিম সমেত এই উদ্ভিদের লতা দেখা পেয়েছিলাম। সম্ভবত সিমের মধ্যে এটাই এই পর্যন্ত বৃহত্তম লতা। এগুলো এক শক্ত ও মজবুত যে, এই লতা বেয়েই গাছের উপরে উঠা যায়। বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায় এই উদ্ভিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও মিরপুরের জাতীয় উদ্যানে এর চারা লাগিয়ে বংশকে জিইয়ে রাখা হয়েছে।
ইংরেজিতে এটাকে African dream herb এবং বৈজ্ঞানিক নাম Entada rheedii হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশের বাজারে যে সিম পাওয়া যায়, এটা সে গোত্রীয়। আকারে বিশাল বড়। আফ্রিকায় এটা বেশী পরিমাণ জন্মে থাকে এবং এক একটি সিমের উচ্চতা মানুষের বুক বরাবর হয়ে থাকে।
বিচির আকৃতি বড় আবার মুরগীর গিলার সাথে সাদৃশ্য আছে বলে অনেকেই এটাকে ঘর সাজানোর জন্য ব্যবহার করত। পাহাড়ি রমণীরা গলা ও কানে লটকায়। ব্যতিক্রমী বলে অনেকেই এমনিতেই সংগ্রহ শালায় রাখে, টেবিলের কাগজ চাপা দিতে ব্যবহার করে। পৃথিবীর বৃহত্তম সিম গিলা
আফ্রিকাতে এটার বীজকে পানিতে ভিজিয়ে নরম করে, কুচি কুচি করে ভাজি করা হয়। তবে এটাতে ভেষজ গুন রয়েছে, তাই ইউনানি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটাকে ব্যবহার করা হয়। এর বীজের শাঁস জ্বর, ক্ষত ও চর্মরোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া গাছের অন্যান্য অংশ জন্ডিস, দাঁতের ব্যথা, আলসার ও মাংসপেশির সমস্যা নিরাময় করে।


Discussion about this post