বাংলাদেশের সর্বত্রই প্রেম কাঁটার জন্ম হয়। এটাকে কোথাও চোরকাঁটা, ভাটুই, উলট লেঙ্গা বলা হয়। বৈজ্ঞানিক নাম Chrysopogon aciculatus। এই গুল্মটির ফুলের পিছনে একটি ক্ষুদ্র ঠ্যাঙ লটকে থাকে। বরশীর দাঁতের মত উল্টো খাঁজ কাটা থাকে। তাই কারো পোষাকে সামান্য ঘষা লাগলে খুব সহজেই কাপড়ে লটকে যায়। প্রাণীদের লোম ও পালকের ফাঁকে ঢুকে পড়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এই গুল্মের লক্ষ্য থাকে যাতে করে কারো গায়ে লটকে পড়ে বিভিন্ন স্থানে বংশ বিস্তার করতে পারে। সেই জন্য এই গুল্মের নাম প্রেম কাঁটা। যদিও এই প্রেম এক পক্ষীয় কিন্তু তার এই বিব্রতকর প্রেম মানুষ ও প্রাণীদের সামান্য সময়ের জন্য হলেও ভোগায়।
প্রেম কাঁটা একটি খরা সহনশীল আগাছা এবং সাধারণ মাটিতে বেশ ভালো জন্মে। তা স্বত্বেও অম্লীয় আর আর্দ্রতা যুক্ত মাটি জন্মানোর জন্য অতি উপযোগী। এটি খুব ঘন হয়ে মাটিতে শক্ত অবস্থান ধারণ করে। মাটির উপরে কার্পেটের মত পুরু আস্তর তৈরি করে। ফলে অন্য কোন ঘাস তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়াবার সুযোগ পায় না। এই গুল্মের ফুলে চাউলের মত ছোট্ট দানা হয়। সেই দানা কোথাও খসে পড়লে সেখান থেকেই বীজ ডানা মেলে। কার্পেটের মত হবার কারণে এই ঘাসের আস্তরণকে গোলাকার করে অতি সহজেই অন্যত্র বহন করা যায়। নতুন কোন মাঠে ঘাস আবাদ করার জন্য এই ঘাসের কোন জুরি নেই। তবে এই ঘাসটি একবার লাগালে তাকে নির্মূল করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। শরীরের মাংস থাকে না বলে কৃষি খামারের জন্য উপযোগী নয়। তবে আর্দ্র ও বেলে মাটিকে ধরে রাখার জন্য এই ঘাস খুবই উপযোগী।
আমাদের দেশে এটি অবহেলিত হলেও পৃথিবীর কোন কোন দেশে এটাকে ঔষধি ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফিলিপাইনে এটিকে নারকেলের চারা সৃষ্টিতে আচ্ছাদন হিসাবে ব্যবহার করে। গুয়ামে চোরকাঁটার অংশ ব্যবহার করে সুদৃশ্য টুপি ও মাদুর তৈরি হয়। এর রসে মূত্র বর্ধনের খাসিয়ত রয়েছে। প্রাচীন ভারতে পা ফোলা রোগ, ব্যথা নিরাময়ে এর বিচির এটেল আটা গুড়ো করে লাগানো হত।


Discussion about this post