ফেসবুক সহ গণমাধ্যমে সক্রিয় আছি বহু বছর ধরে। এই সময়ের মধ্যে বহু ধরনের বন্ধুদের রুচি, অভিরুচি, মনন সম্পর্কে ধারণা হয়েছে। ফেসবুকের বন্ধু সমাচার এর এই পর্বে আমার মত অনেকেই মানুষের এই বিচিত্র স্বভাবের সাথে পরিচিত হয়েছেন। এ ধরণের বন্ধুদের কিছু পরিচিতি তুলে ধরা হলে ব্যাপারটি বুঝতে সহজ হবে। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আমার কিছু পয়েন্ট তুলে ধরলাম। পাঠকেরা ইচ্ছে করলে নিজের পয়েন্ট যোগ করতে পারেন এবং আমরা নিজেরাও এই লিস্টের কে কোন কাতারে আছি সেটাও বের করা সহজ হবে।
আরো দেখুন…
- ছাগলে সর্বস্বান্ত মরুর পাগল
- ত্রিভুবন বলতে কি বুঝায়
– কিছু বন্ধু আছে তারা শিখার উদ্দেশ্যে পড়ে এবং ভাল পোষ্ট ও ভাল লেখকের সন্ধানে থাকে।
– কিছু বন্ধু আছে তারা শুধু মন্তব্য পড়তে ভালবাসে, এদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।
– কিছু বন্ধু প্রতিমন্তব্য ও ঝগড়া-ফ্যাসাদের মন্তব্য পড়তে ভালবাসে।
– কিছু বন্ধু তত্ত্ব তালাশে মত্ত থাকে, যাতে তারা তার চেয়েও ভাল পোষ্ট লিখতে পারে।
– কিছু বন্ধু অন্যের পোষ্ট থেকে ধারণা নিয়ে, নিজে কিছু যোগ করে নতুন পোষ্ট বানায়।
– কিছু বন্ধু অন্যজনের লিখা থেকে কাট এন্ড পেস্ট মেরে নিজের নামেই চালিয়ে দেয়।
– কিছু বন্ধু আছে, অন্যের লিখা নিজের টাইমলাইনে প্রকাশ করে কিন্তু মূল লেখকের নাম উল্লেখ করেনা।
আরো বন্ধু আছে… ফেসবুকের বন্ধু সমাচার
– কিছু বন্ধু আছে পোষ্টে কমেন্ট লাইক কিছুই করেনা। কখনও মুখোমুখি হলে বলে আপনার পোষ্টটি খুবই ভাল লেগেছে। ওর মৌখিক মন্তব্যের মাধ্যমে বুঝা যাবে যে, তিনি রীতিমতই তার পোষ্টে নজর রাখেন।
– কিছু বন্ধু আছে যারা শুধু পোষ্টের মধ্যে কি কি দোষ আছে, সেটা বের করে ধরিয়ে দিবে? এটার দ্বারা তিনি বুঝাতে চান যে, তোমার চেয়ে ধারালো দার্শনিক বাজারে আছে।
– কিছু বন্ধু আছে তারা শুধু শব্দ ও বাক্যের ভুল ধরিয়ে দিবে। এই কাজের লক্ষ্য হল, এটা বুঝানো যে, পোষ্ট দাতার পাণ্ডিত্যের মধ্যেও দুর্বলতা আছে।
– কিছু বন্ধু আছে জীবনে কোনদিন মন্তব্য করেনা, লাইক দেয়না। কোন তথ্য সম্পর্কিত পোষ্ট হলে, উনারা হাজির হয়ে যান এবং শক্ত কথায় লেখার দলীল খোঁজ করেন! এটা দ্বারা তিনি লিখকের লেখার পরিশীলতাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করতে চায়।
– কিছু অভিজাত বন্ধু আছে, তারা শুধু নিজের পোষ্টেই অন্যের উপস্থিতি আশা করে কিন্তু সে কোথাও মন্তব্য করেনা।
– কিছু বন্ধু আছে তারা মন্তব্য করেন বটে তবে তা বন্ধুদের প্রোফাইল ও পদবী দেখে। তার চেয়ে নিচের প্রোফাইলের কারো মন্তব্য আসলেও তিনি উত্তর দিবেন না। এরা হল এরিস্টোকেটেট ফেসবুকার!
– কিছু বন্ধু আছে তারা শুধু লাইকের আশায় পোষ্ট লিখে। তাদের পোষ্ট গ্রুপে প্রকাশিত হবার পর যদি লাইকের স্বল্পতা থাকে, তখন এডমিনের সমালোচনা করে। নিজের দুর্বলতার বিশ্লেষণ করেনা।
– ফেসবুকের কিছু বন্ধু নিজের পরিচিতি কঠোরভাবে গোপন করে অন্যকে বন্ধুত্বের জন্য নোটিশ পাঠায় কিন্তু সে তার পরিচয় প্রকাশ করতে চায় না!
– কিছু পুরুষ বন্ধু খুব চালাক, তারা মহিলাদের নামে পোষ্ট দেয় কিন্তু Gender settings এ গিয়ে His কে Her করার কথা বেমালুম ভুলে যায়!
আরো বন্ধু আছে… ফেসবুকের বন্ধু সমাচার
– কিছু বন্ধু আছে যারা শুধু পোষ্টের হেডিং দেখেই মন্তব্য করে।
– কিছু বন্ধু আছে, যারা অন্য বন্ধুদের মন্তব্যের মাধ্যমেই মূল লেখার ভাব বুঝতে চেষ্টা করে।
– কিছু বন্ধু আছে সবার মন্তব্যের উত্তর দেয়।
– কিছু বন্ধু আছে তারা তারকাময় খ্যাতিমান ব্যক্তির পোষ্টেই শুধু লাইক দেয়।
– কিছু বন্ধু শুধু ভিডিও দেখতে ফেসবুকে আসে।
– কিছু বন্ধু নাটক দেখার জন্যই ফেবুতে আসে।
– কিছু বন্ধু মহিলাদের ছবি দেখতেই ফেসবুকে ঢুঁ-মারে।
– কিছু বন্ধু নিজের ছবি পোষ্ট করে মজা পায়।
– কিছু বন্ধু নিজের স্ত্রীর ছবি দেখিয়ে মজা পায়।
– কিছু বন্ধু পরিবার ও সন্তানদের পোষ্ট দিয়ে মজা পায়।
– কিছু বন্ধু ফেসবুক বড় বিপদের জিনিষ বলে প্রচার করে।
– কিছু বন্ধু ফেসবুক থেকে সিরিয়াল ভাল বলে প্রচার করে।
– কেউ ফেসবুকে ময়দানে অন্যের ইজ্জতের বারোটা বাজায়।
– কেউ ফেসবুককে প্রতিবাদের ময়দান হিসেবে চিনে।
– কেউ চিনে সদুপদেশ ও নসিহতের খোলা ময়দান হিসেবে।
শেষ কথা হল, ফেসবুকের বন্ধু সমাচার
– এই ফেসবুক ও বাকি যোগাযোগ মাধ্যম গোয়েন্দা সংস্থার কাজকে বহুলাংশে কমিয়ে দিয়েছে।
– ফেসবুকের কল্যাণে সারা দেশে কণ্ঠ শিল্পী বেড়েছে,
– বেড়েছে অভিনেতা-অভিনেত্রীর সংখ্যা।
– এর কল্যাণে গায়িকারা, নায়িকাদের মত নাচতে বাধ্য হয়েছে।
– অনেক অপরাধী শনাক্ত করা ও তাদের গতিবিধি বুঝা সহজ হয়েছে।
– ফেসবুক যেমন সমাজ জীবন উসকিয়ে দিয়ে অসহিষ্ণু করে তোলা যায়।
– ফেসবুক তেমনি সমাজের অনেক বাজের মানুষের পরিচিতি প্রকাশ করে।
– এটাকে যথাযথ ব্যবহার করতে না পারার কারণে বহু সম্মানী মানুষ হাস্যপদ হয়েছে।
– এটাকে ব্যবহার করেই অনেক টাউট, বাটপার, মূর্খ মানুষও খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করেছে।

Discussion about this post