দুনিয়ার প্রায় সকল পুঁজিবাদী-বস্তুবাদী সরকার গুলোর একটাই চরিত্র। তারা চায় তাদের দেশের তরুণ-তরুণীরা প্রেম, আনন্দ, গান, তামাশা আর রঙ্গিন পানিয় নিয়ে মত্ত থাকুক। তরুণেরা যাতে এ’কাজে উৎসাহ বোধ করে সেজন্য লেখক, গায়ক, নায়ক, নাট্যকার, সাহিত্যিক, আলোচক, লেখক বৃন্দ থেকে কিছু মানুষকে তারকা খ্যাতি দিয়ে প্রসিদ্ধ করে তুলে এবং তাদের মাঠে নামিয়ে দেয়। এরাই তরুণদের মাঠে ব্যস্ত রাখে, উৎসাহ দেয় এবং রঙ্গিন স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাবনার পথ দেখায়।
একটি সরকারের কাছে এ ধরনের গুণী ব্যক্তিদের কদর ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশী। এমনকি কখনও একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর চেয়েও মূল্যবান হয়ে উঠে। কেননা তারাই তো, জনগোষ্ঠীর বিশাল সংখ্যক তরুণদের ব্যস্ত রেখেছে। এতে করে সরকারের রাষ্ট্র-ঘাতী দুর্বলতা, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, লুটপাট, অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মত সক্রিয় মানুষ আর ময়দানে থাকেনা। তাছাড়া ওসব স্বপ্ন দেখা তরুণদের মধ্য থেকেই কিছু সংখ্যক কে বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের মত করে নেওয়া হয়।
তরুণ সমাজের চারিত্রিক অধঃপতন হলেও সুবিধাবাদী সরকার গুলো বেশীমাত্রায় সুযোগ পায়। এসব সরকারের ভিতরে ঢুকে নীতিকথা বলা মানেই, নিজের বিপদ ডেকে আনা। সেক্ষেত্রে সরকার তার চলার পথে একমাত্র বাধা মনে করে নীতিবান নেতা ও নৈতিকতা সৃষ্টিকারী ধর্ম গুলোকে। বর্তমানে ইসলাম ধর্ম ব্যতীত আর কোন এমন ধর্ম নাই যারা রাষ্ট্রে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে। ইসলাম অনৈতিকতার প্রবল বিরোধিতাও করে। যার কারণে সর্বত্রই ইসলাম আক্রান্ত ও কোণঠাসা হয়। তাই ধর্মকেও কখনও গলায় লাগাম পড়ানোর দরকার হয়ে পড়ে। কথাটি ইসলাম ধর্মের জন্য বেশী খাটে।
এজন্য এমন ইসলামী ব্যক্তিত্ব দরকার, যার রয়েছে বহু মুখ, বহু চরিত্র ও কিছুটা ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা। যারা পরিবেশ ও পরিস্থিতির আলোকে ধর্মের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে দিতে পারে। সংগঠিত জনগোষ্ঠীকে সংশয়-সন্দেহে নিমজ্জিত করতে পারে। কিছু মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে চুপ থাকবে কিছু মানুষ প্রতিবাদী হয়ে তার শাস্তির দাবীতে উল্টো সরকারের কাছেই আবেদন করবে! এটাই তো সরকার গুলো চায়! তখন সরকারই প্রতিবাদী মানুষের ভাষা শুনবে, বিচারের ওয়াদা করবে, মীমাংসায় দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি করে ঘটনাকে জিইয়ে রাখবে। ধর্মীয় ব্যাপারগুলো এভাবে মোকাবেলা করা অনেক সহজ। সরকারের ভিতরে এধরনের ম্যাকানিজম রয়েছে, তাদের নীতিনির্ধারণী জ্ঞানী ব্যক্তিরা এসব ব্যাপারে খুবই পারদর্শী। এভাবেই বস্তুবাদী সমাজে সরকার গুলো দীর্ঘ সময় টিকে থাকে এবং জনগণকে বারে বারে ওয়াদা শুনে আশায় বসে থাকতে হয়।

Discussion about this post