অনেকে সন্তানকে শুধু বিদ্বান বানাতে চায় কিন্তুঘরের কাজে সামান্য সহযোগীতা হউক, এটা করেও সন্তানকে কর্মঠ বানাতে চায় না। চাকর-চাকরানী দিয়ে বাজারের থলে বহন করানো কিংবা রান্নাঘরে নিজের থালা-গ্লাসটি ধোয়ার মত কাজে সন্তানকে প্রশিক্ষিত করানোটাকে ছোটলোকি মনে করে।
তারা বুঝে না যে সন্তানকে চির জনমের জন্য পঙ্গু বানানো হচ্ছে। কাজ করালে সন্তানের স্বাস্থ্য যেমন কর্মঠ হয় মনও তেমন সতেজ থাকে। কর্মঠ মানুষের হৃদয়ে সাহস বেশী, চিন্তায় দৃঢ়তা বেশী। তারা বাঁচেও বেশী দিন। পৃথিবীর বেশীরভাগ কীর্তিই কোন এক কর্মঠ ব্যক্তির হাতেই সৃষ্টি হয়েছে। আগের দিনের সেনা বাহিনীতে যিনি বেশী কর্মঠ তিনিই সেনা প্রধান হতে পারতেন। কর্মঠ ব্যক্তিরাই রাজা হতেন। কর্মঠ-সন্তান
প্রবাদ কথায় আছে, এক সতীন তার ছেলেকে বালিতে খেলতে দিয়ে, সতীনের সম বয়সী ছেলেটিকে কোলে নিয়ে বসে আছে। সতীন পুত্রের প্রতি এমন উদারতায়, পাড়া মহল্লার মানুষ তার সুনাম ও সু-খ্যাতিতে পঞ্চমুখ। গোপনে খবর নিয়ে জানা গেল তিনি চান তার সন্তান কর্মঠ হয়ে বেড়ে উঠুক, তাই মাটির সাথে মিতালী করতে দিয়েছে। আর সতীনের ছেলে অকর্মণ্য হউক তাই তাকে সর্বদা কোলে তুলে রাখে। কর্মঠ-সন্তান
সারাজীবন দরিদ্রতার মাঝে বড় হওয়া, আমেরিকান যুবক ‘হেনরি’ কে উদ্দেশ্য করে মা লিখেছিলেন, “উত্তরাধিকার সূত্রে তোমার জন্য কিছুই রাখতে পারিনি। তবে আমি তোমাকে কর্মঠ হিসেবে গড়ে তুলেছি এবং দিয়েছি কাজ করবার বিপুল শক্তি। যা কোনদিন দাম দিয়ে কেনা যায়না”।
মায়ের এই কথায় হেনরির প্রবল আত্ম বিশ্বাস বেড়ে যায়, লেগে যান কাজে। তার হাতে সৃষ্টি হতে থাকে শিল্পকারখানা। অতঃপর Henry J. Kaiser মার্কিন মুল্লুকের চেহারা বদলিয়ে দেন। তাকে ঘোষণা হয় Father of Modern American Shipbuilding তথা আমেরিকার আধুনিক জাহাজ নির্মাণের পিতা।
আল্লাহ কর্মঠ মানুষকে ভালবাসেন। পৃথিবীর সকল নবী-রাসুলগন কর্মঠ ছিলেন। সে জন্য রাসুল সা দোয়া করতেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি অসহায়ত্ব, অলসতা, ভীতি এবং বার্ধক্যের নিষ্ক্রিয়তা থেকে”…..
যে সন্তানকে আজকে কর্মঠ বানানো হচ্ছেনা বার্ধক্যে সে সন্তানের কাঁধে পিতা-মাতাকে চড়তে হবে। যে সন্তান পাঁচ কেজি চাউল উত্তোলন করতে পারবেনা, বিপদের দিনে তার কাঁধে চড়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, কোনদিনই সে স্বাদ পূরণ হবেনা।
কাজ না জানা সন্তানের কাছে, অসুস্থ অবস্থায় এক গ্লাস পানি চাইলে, সে তিনটি গ্লাস ভাঙ্গবে কিন্তু কাজের কাজ হবেনা। সন্তান কর্মী হলে পিতা-মাতারই উপকার। তাই সন্তানকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মঠ, কাজের উপযোগী বানানো একান্ত কর্তব্য।


Discussion about this post