এ ধর্মকে মাজুসী বা জরথুস্ত বলা হয়। এ ধর্মে নারীর অবস্থা আরো শোচনীয়। নারী কোনদিন স্বর্গে যেতে পারবে না। পৃথিবীতে কোন ভাবে টিকে থাকার জন্য নারীকে কোন পুরুষের মাধ্যমে সন্তান ধারণ করাই হল তার কাজ! পৃথিবীতে নারীর একমাত্র পাওনা হল যে, সে কোন পুরুষের মাধ্যমে মাতৃত্ব লাভ করার সুযোগ পেয়েছে! (ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির স্বামী মাজুসী ছিলেন।)
নারী ঋতু-বর্তী হলে, তার সূর্য দেখতে মানা! পুরুষের সাথে কথা বলতে পারবেনা, পবিত্র আগুনের দিকে তাকানো যাবেনা! পানিতে নামা নিষেধ, কোন কুমারী মেয়ের সাথে ঘুমাতে পারবে না। খাবারের পাত্র সরাসরি হাতে না ধরে, হাতে হাত মোজা ও শরীরে কাপড় পেঁচিয়েই, খাবারের পাত্র ধরতে হবে!
নারীদের ঋতু কাল হল পাপ-কাল, প্রতি মাসের পাপ মোচনের জন্য এই ঋতুকাল তাদের কপালে আসে! সন্তান হলে নারী ভয়ানক অপবিত্রা হয়। তখন তার ঘরের বাহিরে আসা নিষেধ। মাটিতে পা রেখে মাটিকে অপবিত্র করা চলবে না। কাঠের পাত্র ধরা যাবে না, সহ নানাবিধ যত সামাজিক আইন ছিল পারসিক ধর্মে তা কঠোর ভাবে নারীদের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল!
বাজে যৌনাচার ছিল তাদের পারসিক ধর্মের জীবন যাত্রার ভূষণ। সম্রাট পারভেজ নারী ভোগের জন্য বার হাজার নারীকে বিয়ে করেন। স্বামীরা নারীকে যখন তখন তালাক কিংবা হত্যা করার অধিকার স্বীকৃত ছিল। পূর্ণ কর্ম হাসিলের জন্য, নিজের স্ত্রীকে অন্য জনের ভোগের জন্য বিলিয়ে দেওয়াটা স্বামীর অধিকার ছিল, এখানে নারীর কোন ইচ্ছা-অনিচ্ছার কিছু আসে যায় না।
পারসিক ধর্মে নারী বিক্রয়যোগ্য, হস্তান্তর যোগ্য এবং নারীরা হল সকল পাপের উৎস। নারীরা কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, সেটা জনগণের তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। কেউ কোন নারীকে একা নিজের দখলে রাখতে পারবেনা। নারী পাওয়া মাত্রই তাকে ব্যবহার করা; সৎ বোন, সৎ মাকে ভোগ করা সন্তানের এবং ভাগিনী-ভাতিজীকে ভোগ করা চাচা-মামাদের অধিকার হিসেবে স্বীকৃত ছিল! পারস্য সম্রাট শাহ কাবাদ এই ধর্মকে বাইজান্টাইন সম্রাজ্যের সর্বত্র ছিটিয়ে, দেশের যুবক ছেলেদের, নারীদের বিরুদ্ধে হিংস্রতার সহিত লেলিয়ে দেন।


Discussion about this post