
বৃদ্ধ বয়সে মানুষ অশীতিপর, ন্যূজ ও অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়ে। দেহ তাকে সহযোগিতা করে না, স্মৃতি তার সাথে প্রতারণা করে! ঘরের আচরণ বাইরে করে, বাইরের রাগ-গোস্বা ঘরে ঢুকায়। বৃদ্ধাবস্থার এই মুসিবত থেকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) সর্বদা পানাহ চাইতেন! এভাবে পানাহ চাইতে উম্মতকেও নির্দেশ দিয়েছেন। তাইতো পুরো দাঁড়ি-চুল সাদা হবার আগেই মহান আল্লাহ প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে দুনিয়া থেকে তুলে নিয়েছেন! একই দোয়া আবু-বকরর, উমর, ওসমান, আলী (রাঃ) মত সাহাবীরা আল্লাহর কাছে কামনা করতেন! আল্লাহ তাদেরকেও সম্মান সহকারে ৬৩ বছরের সময়কালের মধ্যেই দুনিয়া থেকে তুলে নিয়েছেন। বৃদ্ধ-বয়স
রাসুল (সাঃ) এর বয়সটাই আমাদের দেশের সরকারী চাকরীর উত্তম বয়স স্কেল হিসেবে বিবেচিত! আমাদের দেশের সরকারী চাকরীর বয়স ৫৯, মুক্তি-যোদ্ধাদের জন্যে ৬০ বছর; বিচারপতির বয়স ৬৫ ছিল; ৬৭ বছর করার কারণে, বিএনপি সরকারের পতন তরান্বিত হয়েছিল। তার মানে মানুষের বয়স কখনও একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়! কারণও আছে, ৬০ বছরের পর অনেকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন: ধৈর্য-সহ্য ক্ষমতা লোপ, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা দেখা দেয়। পাশাপাশি মানসিক চাপ মোকাবেলায় একেবারেই অক্ষম হয়ে পড়ে। বৃদ্ধ-বয়স
এই বয়সের পরে মানুষের শারীরিক এবং মানসিক সক্ষমতা দ্রুত কমতে থাকে। ফলে অতীতে ওনি যতবড় জ্ঞানী কিংবা ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হউন না কেন; এমন ব্যক্তিরা তড়িৎ সিদ্ধান্ত দিতে অপারগ হয়! পরিবর্তনশীল ঘটনার আধুনিক বিশ্লেষণ দিতে ব্যর্থ হয়! সকল সিদ্ধান্ত পুরানো ঘটনা কিংবা কাহিনী থেকে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে! দ্রুত পরিবর্তন ও পরিবর্ধনশীল সমাজের সমস্যা মোকাবেলা করা, সৃষ্ট নতুন জ্ঞানী-গুণীদের যোগ্য ও গুরুত্বপূর্ন মনে করে না! বরং এদেরকে ফেতনা ও আপদ মনে করে কৌশল খাটিয়ে দূরে ঠেলে রাখে! এবং নব্য ফেতনা রোধ করার দোহাই দিয়ে, তাদের স্থলে অতীত-মুখী কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করার জন্যে অধিকতর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পিছুপা হয়না।
বৃদ্ধরা অতীতকে আঁকড়ে ধরেই সম্মান কুড়াতে চায়, গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে চায়। বৃদ্ধদের কাছে তার লম্বা বয়স ছাড়া, নতুন দেরকে দেবার মত আর কিছুই থাকেনা। এটাই তার সর্বশেষ গ্রহণযোগ্য পুঁজি! কেননা তিনি ছাড়া অতীতে বেড়ে উঠা সম-কক্ষদের, কেউ এখন আর জীবিত নাই। বয়স কখনও নিজের জন্যে পরীক্ষা এবং অন্যের জন্যে উপদ্রবের কারণ হতে পারে। চলুন তাহলে রাসুল (সাঃ) এর শিখিয়ে দেয়া ভাষা থেকে আল্লাহর কাছে দোয়া করি এবং নিজের বয়স যেন, অন্য কারো জন্যে অস্বস্থি ও অকলণ্যানের কারণ না হয়, সেটাই কামনা করি…
“হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা, অতিশয় বার্ধক্য, গুনাহ আর ঋণ থেকে, কবরের ফিতনা এবং কবরের শাস্তি থেকে, জাহান্নামের ফিতনা এবং এর শাস্তি থেকে….!” বুখারি- ৬৩৬৮


Discussion about this post