তেঁতুলের নাম শুনে, ঘ্রাণ শুকে মুখে পানি আসেনাই এমন মানুষের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। তেঁতুল খুবই লোভনীয় টক ফল। অনেকেই একবার খাওয়া শুরু করলে, বন্ধ করতে চায় না। কাঁচা তেঁতুল খেলে দাঁত-জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে আসে। ফলে পরমুর্হর্তে অন্য খাদ্য গ্রহণ করতে গেলে দাঁত শিরশির করে। মজাদার ফল মিষ্টি তেঁতুল
তেঁতুল এমন এক ফল যা ছেলে-বুড়ো সবার পছন্দ। বাংলাদেশী তেঁতুল বেজায় টক। কিছু তেঁতুল এমনতর টক, মুখে ঢুকালে মুখমণ্ডলের চামড়া পর্যন্ত গুটিয়ে আসে। সেটাকে বাঘা তেঁতুল বলে। গলায় চুলকানি হয় এমন সবজির তেজ দমন করতে বাঘা তেঁতুলের জুড়ি নেই। সেজন্য বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “যেমনি বুনো ওল, তেমনি বাঘা তেঁতুল”।
আরো পড়তে পারেন…
- দুনিয়ার ফণীমনসা জাহান্নামের যাক্কুম
- পাঁদেরা লতা যখন গন্ধভাদুলি
- চোতরা পাতার ফাতরামি
তেঁতুলের ইংরেজি নাম Tamarinds. প্রাচীন কালে মনে করা হত তেঁতুল যৌনশক্তির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এখন দেখা যায়, তেঁতুল ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, লোহা, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনের আধার। আয়ুর্বেদ ও ইউনানি শাস্ত্রে তেঁতুলের ব্যবহার ব্যাপক। ভারতের দাক্ষিণাত্যে প্রতিদিনকার নিত্যনৈমিত্তিক তরকারীতে তেঁতুল অন্যতম মসল্লা হিসেবে ব্যবহার হয়।
তেঁতুল নিজে টক কিন্তু লবণ, মরিচ, সরিষা যোগে কাচা টক-ফলের ভর্তা উপাদেয় করতে তেঁতুল ব্যবহারের জুড়ি নেই। বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে তেঁতুল জন্মালেও অর্থকড়ি ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়নি। পেশাদারী পন্থায় এখনও ব্যাপক চাষ হয় না। মধ্যপ্রাচ্যের শপিং মলগুলোতে টনে টনে তেঁতুল বিক্রি হয়। উৎকৃষ্ট আচারের অন্যতম উপাদান তেঁতুল, তাই গৃহীনিদের কাছে এর কদর সবসময় সমান।
তেঁতুল শুধু মানুষেরাই পছন্দ করে এমন নয়। এটি বানর, শুকুর, হাতি ও হরিণের অন্যতম প্রিয় খাবার। তেঁতুল গাছে চড়ে বানর যথেচ্ছ পরিমাণ তেঁতুল নষ্ট করে আর নিচে বানর ও শুকর চোখ বন্ধ করে পতিত তেঁতুল পচপচ করে খেতে থাকে। হাতির গুষ্টি তো তেঁতুল গাছে পাশে পাহারা বসায়! উপায় না পেলে গাছ ধাক্কাতে থাকে, যেন একটি তেঁতুল ঝরে পড়ে। মজাদার ফল মিষ্টি তেঁতুল
ও হ্যাঁ! আমি বলছিলাম মিষ্টি তেঁতুলের কথা। এই তেঁতুলের মিষ্টির বর্ণনা কখনও লিখে প্রকাশ করা যাবেনা। আমি নিজে একবার বড় এক প্যাকেট মিষ্টি তেঁতুল শেষ করে ভেবেছিলাম সম্ভবত এত মত আরো পাঁচ প্যাকেট খাওয়া যাবে। না এগুলো বাংলাদেশের তেঁতুলের কড়া টকযুক্ত নয়। হালকা টক, খুবই সুস্বাদু, যত খাওয়া হয় মুখের তৃপ্তি মরে না। যে ব্যক্তি একবার এই মিষ্টি তেঁতুল খেয়েছে, বাকী জীবনে সে আর কখনও টক তেঁতুল, মুখে নেবার ইচ্ছে করবে না।

ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়ায়, ইন্দোনেশিয়ার কিছু অঞ্চলে মিষ্টি তেঁতুলের আবাদ হয়। আমি সেখানকার কিছু মানুষের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, তাদের জলবায়ু ও আমাদের জলবায়ু প্রায় একই। বাংলাদেশেও মিষ্টি তেঁতুলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। জলবায়ুর প্রভাবে, কয়েক প্রজন্মের পর মিষ্টি তেঁতুল আবারো টক তেঁতুলে পরিণত হতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের সদুত্তর পাইনি।
মধ্য প্রাচ্যের শপিং মলে এই তেঁতুলের বিপণন ভাল। সারা বছরই এদেশে পাওয়া যায়। তবে নিশ্চিত হতে পারিনি যে, এর বিচি থেকে চারা গজানোর সম্ভাবনা আছে কিনা। তেঁতুল যেমন মূল্যবান ফসল এর বিচিও কিন্তু মূল্যবান। ঔষধি কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি ফ্রাই করেও খাওয়া যায়। আমাদের দেশে তেঁতুল, বরই, জাম বিচি খাওয়ার প্রচলন নেই। পৃথিবীর বহু দেশেই এসব ফ্রাই করে বাদামের মত খাওয়া হয়।


Discussion about this post