মানবজীবনে কোন মানুষকে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে বলা হয়, অমুক ব্যক্তি নিজে খুব ভালো কিন্তু তার সহযোগী ও বন্ধু-বান্ধব জুটেছে খারাপ! অর্থাৎ এই ইনি ভাল মানুষ থাকতেন যদি না ওনি তার সাথে মেলা-মেশার সুযোগ না হত। ব্যাপার খানা মোটেও তাই নয়। এটা বাস্তবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
মূলত, প্রতিটি ব্যক্তি নিজে যেমন, তার বন্ধু জোটে ঠিক তেমনি! একজন সৎ মানুষের সাহচর্যে, কখনও খারাপ মানুষ আসলে বেশী সময় সে তার সাথে ঠিকে থাকতে পারে না। অনুরূপ, অসৎ উদ্দেশ্যে কর্মরত একজন দুষ্কর্ম-শীল মানুষের সাথে হঠাৎ সৎ ও সম্ভ্রান্ত মানুষের বন্ধুত্ব হয়ে গেলেও তা বেশী সময় টিকে থাকতে পারে না। অসৎ মানুষ প্রকৃতিগত ভাবে অসৎ মানুষদের কাজ-কর্মের প্রতিই আগ্রহী হয়। আর সৎ মানুষ সর্বদা পরিছন্ন ও ঝামেলা মুক্ত কাজই পছন্দ করে এবং গরীব হওয়া সত্ত্বেও তারা সৎ মানুষের কাজ ও লক্ষ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
আল্লাহর একটি স্বতন্ত্র ও স্থায়ী বিধান হল, তিনি খারাপ নিয়ত ও খারাপ আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী মানুষকে তিনি কখনো ভাল সঙ্গী যুগিয়ে দেন না। তার ঝোঁক ও আগ্রহ অনুসারে তিনি তাকে খারাপ সঙ্গীই জুটিয়ে দেন। সে যতই দুষ্কর্মের নিকৃষ্টতার গহ্বরে নামতে থাকে ততই জঘন্য থেকে জঘন্যতর মানুষ ও শয়তান তার সহচর, পরামর্শদাতা ও কর্ম সহযোগী হতে থাকে।
মনোবিজ্ঞানীদের চিন্তা মতে, মানুষ মানুষকে পছন্দ করে তাদের মানসিকতার মিল থাকার জন্যই। মন ও ইচ্ছার মিলই হল এখানে প্রধানতম উপকরণ। একজন মানুষ ব্যক্তি হিসেবে কেমন সেটা বিশ্লেষণ করতে কারো কষ্ট হলে; তিনি কেমন মানুষদের সাথে চলাফেরায় পছন্দ করেন, তিনি বন্ধু হিসেবে কাদের পছন্দ করেন, সেটা অবলোকন করলেই চলবে! সেসব মানুষের প্রকাশ্য চরিত্রই হল এই মানুষটির আভ্যন্তরীণ লুকিয়ে থাকা চরিত্র। বস্তুত কেউ কাউকে খারাপ করতে পারেনা, মানুষ নিজ দায়িত্বেই নষ্ট হয়!

Discussion about this post