রমজান শেষ পর্যায়ে। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, রমজানে শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়; যাতে করে মানুষ তার শয়তানি অভ্যাসটাকে প্রাকটিসের মাধ্যমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে এবং রমজান পরবর্তী দিনে নিজেকে নতুন মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিত করতে পারে। মানুষ যখন নিজেই শয়তান হয়
আরো পড়তে পারেন…
- ইসলামী চেতনায় ভাস্কর্যের অবস্থান
- একটি নিঃশ্বাসের মূল্য কত
- সেই সাংবাদিকতা গেল কই
আমাদের জানা উচিত যে, সে সব এমন কি অভ্যাস; যা মানুষকে শয়তানে পরিণত করে? এবং রমজানই একমাত্র উসিলা যার দ্বারা মানুষ সে সব অভ্যাসকে পরিবর্তন করতে পারে।
বাড়ীতে কুকুর রাখা হলে, সে সবার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে। আগন্তুককে কামড়াতে চায়। কিন্তু কুকুরকে বেঁধে রাখা হলে, তার ঘেউ ঘেউ কমে না এবং কামড় দেবার প্রবণতা হারিয়ে ফেলে না। এখন কেউ যদি গায়ে পড়ে কুকুরের কাছে ঘেঁষে ইতরামি করে, কুকুরের গলায় বন্ধন থাকা স্বত্বেও, সে কুকুর থেকে আগন্তুক রেহাই পায় না। বিষয়টা অনেকটা সে ধরনের।
মূলত, শয়তানের কাজ খুবই সীমাবদ্ধ এবং মানুষের কাজ অনেক বিস্তৃত। শয়তান মানুষের অন্তরে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে, সে মানব মনে কু-ধারণা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে ক্ষিপ্ত করে তুলতে পারে। দু’পায়ের মানুষের এমন চরিত্র দেখে অন্য মানুষ বলে উঠবে, ‘সে একটা অমানুষ’! চলুন, এভাবে অমানুষ হবার কয়েকটি তথ্য সম্পর্কে জেনে নেই।
১. রাগ সৃষ্টি করা শয়তানের অন্যতম কাজ। রাগী মানুষ সকল স্থানে ঝগড়ার অন্যতম কারণ। রাগী মানুষের শেষ জায়গা হল, জাহান্নম। একমাত্র মুত্তাকী মানুষই রাগ সংবরণ করতে পারে। এটি একটি আল্লাহ প্রদত্ত গুণাবলী। যা মানুষ ইচ্ছে করলে অর্জন করতে পারে। শয়তান রাগকে বদরাগে পরিণত করে। রোজার পরেও যদি বদরাগ থাকে, তাহলে বুঝা যাবে, সে রোযা তার কাজে আসেনি।
২. লোভ সৃষ্টি করাও শয়তানের অন্যতম একটি কর্মকাণ্ড। মানুষ নিত্য-নৈমিত্তিক লোভে পরে এবং তার খেসারত দিতে থাকে। মানুষ নিজে সংবরণ করলেও শয়তান মনের মধ্যে নিত্য নতুন ধান্ধার পদ্ধতি জিইয়ে রাখে। মুত্তাকী মানুষ কখনও লোভী হয়না। লোভ তাকে প্রলোভন দেখাতে পারে না।
৩. হিংসা শয়তান ও কুকুরের অন্যতম হাতিয়ার। হিংসের কারণেই শয়তানের করুণ পরিণতি হয়েছে। হিংসুক মানুষ ভাল মন্দের পৃথক করতে পারে না। তার হাত ধরে ঘটতে যাওয়া কাজটির দ্বারা তার অধঃপতন হতে পারে, এটা নিশ্চিত জানা স্বত্বেও হিংসুক তার কাজ বন্ধ করতে পারে না। মুত্তাকী মানুষের অন্তরে হিংসা তো দূরের কথা, দানা পরিমাণ কণাও বাসা বাধতে পারে না।
৪. কু-ধারনা সৃষ্টি করাই শয়তানের সফল কাজের অন্যতম। মানুষের অন্তরে কু-ধারণার প্রভাব দারুণ কার্যকর। বেশীরভাগ মানুষ তার সকল কার্যক্রমের সূত্রপাত করে কু-ধারণার মাধ্যমে। এই অভ্যাস মানুষকে সদা বিতর্কপ্রিয় করে তুলে, অন্যকে হেয়, ছোট করা ও তুচ্ছ-তামাসার অভ্যাসে গড়ে তুলে। একজন মুত্তাকী মানুষ এই অভ্যাস থেকে সদা মুক্ত থাকে।
৫. প্রবৃত্তিকে উসকে দেওয়া। মানব জীবনের এটাই একমাত্র রাস্তা যা দিয়ে শয়তান মহারাজার মত ক্ষমতাবান। শয়তান নিজেই বলেছেন, “কোন স্থানে একাকী যদি নারী-পুরুষ একত্রে থাকে, তাহলে উভয়ের মনের ভিতরে ঢুকে একটি বাজে কথার ওকালতি শুরু করে। উভয়ের মনে একটি কথারই চালাচালি শুরু করে দেয়, যতক্ষণ না তারা সে কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, ততক্ষণ সে এটার পিছনেই লেগে থাকে”
শয়তানকে কিছুই করতে হয়না। মোবাইল, মিডিয়া দিয়ে অশ্লীল অডিও, ভিডিও দেখার জন্য উৎসাহিত করতে থাকে; যতক্ষণ না তারা সে কাজে চূড়ান্ত আসক্ত হয়ে উঠে। একাকী স্থান, একটি মোবাইল, কিছু দুর্জন বন্ধু মানুষকে অতল গহ্বরে ফেলে দিতে পারে। এই পরিবেশ পরিস্থিতি শয়তান তার কাজ সফল ভাবে করতে পারে। মানুষ যখন নিজেই শয়তান হয়
কিন্তু যিনি পবিত্র রোজার মাধ্যমে নিজেকে নিরেট ভাল মানুষে পরিণত করতে পেরেছে। আগের বদ অভ্যাসগুলো ত্যাগের মাধ্যমে নিজেকে পরিশীলিত করে তুলতে পেরেছেন, তিনি কিছুটা তাকওয়া অর্জন করতে পেরেছে বুঝা যায়। এমন ব্যক্তিরাই রোজার কল্যাণ দ্বারা সফল ও শয়তানের কর্মকাণ্ড থেকে কিছুটা নিরাপদ দাবী করতে পারে। রোজা তার জন্যই উপকারী হয়েছে বলে ধরা যাবে।