ইমানদার, মুমিন ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস আক্রমণ করবে না, এমন ওয়াদা আল্লাহ কোথাও দেননি! এসব ব্যক্তিদের শরীরে যদি মশা-মাছি বসে এবং কামড়িয়ে অতিষ্ঠ করে। ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গু হয়, তাহলে বুঝতে হবে করোনা ভাইরাসেও তাকেও ছাড়বে না।
রাসুল (সা) বহু সাহাবীরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে হাজারো সাহাবী ইন্তেকাল করেছেন। আইয়ুব (আ) পোকার সংক্রমণে কষ্ট পেয়েছেন। এটাই পৃথিবীর নিয়ম। সুতরাং অন্তরে মজবুত ইমান আছে বলে, কয়েকবার হজ করা হয়েছে বলে, পাঁচ ওয়াক্তের নামাজি বলে, কারো শরীরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবেনা, জীবন দিয়ে যাতে এমন বোকামির মাশুল যাতে না দিই।
ইসলামের সাথে দুনিয়া দারী সম্পর্কেও সতর্ক হওয়া প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরী। করোনা ভাইরাসে জনপদ বিপর্যস্ত, তাই না জেনে বেঘোরে প্রাণ হারানো কোন ইমানদার মানুষের কাজ হতে পারে না। এটা সম্পর্কেও সম্যক ধারণা রাখা জরুরী।
ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র অণুজীব। বাতাসে উড়ন্ত বালির চেয়েও লক্ষগুণ ছোট। তাই এটাকে খালি চোখে দেখা যায়না। ভাইরাস শুধুমাত্র জীবিত কোষেই আক্রমণ করে অর্থাৎ প্রাণী জীবিত থাকলেই ভাইরাস কাজ করতে পারে।
ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র অণুজীব। বাতাসে উড়ন্ত বালির চেয়েও লক্ষগুণ ছোট। তাই এটাকে খালি চোখে দেখা যায়না। ভাইরাস শুধুমাত্র জীবিত কোষেই আক্রমণ করে অর্থাৎ প্রাণী জীবিত থাকলেই ভাইরাস কাজ করতে পারে।
হাতের মধ্যে লাগলে, কাপড়ে লেগে থাকলে ভাইরাসের বাপের সাধ্য নাই মানুষকে কাবু করবে। তবে হাতের মাধ্যমে এই ভাইরাস একবার মুখে ঢুকে গেলে, সে সহজেই তার বেঁচে থাকার রাস্তা করে নেয়।
যেমন, করোনা ভাইরাস প্রথমে গলায় অবস্থান করে, তার উদ্দেশ্য গলার চামড়া খুঁচিয়ে তাজা কোষ বের করা। এটা করতে তার কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। একটি কোষ পেলেই তার খাদ্যের পালা শুরু হয়। এখান থেকেই তার কাজ শুরু।
সে জন্য অনেক অভিজ্ঞজন পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে বেশী করে গরম পানি পান করা হয় ও নাকের মাধ্যমে গরম বাষ্প ঢুকিয়ে করোনাকে শুরুতেই দুর্বল করে দেয়া হয়। অবশ্যই এটা যুতসই পরামর্শ।
করোনা ভাইরাস চামড়ায় লাগলে ক্ষতির কারণ হয়না, তাই সতর্ক হয়ে মৃত মানুষ নাড়াচাড়া করলেও ক্ষতির কারণ নাও হতে পারে। সমস্যা বাধে মানুষের অসতর্কতার জন্য।
সেই হাত যদি একবার মুখে যায় কিংবা চোখের তাজা অংশে লাগে তাহলে ক্ষতিকর হয়ে উঠবে। তাই হ্যান্ড গ্লাভস পড়তে হয়। নাক দিয়ে ঢুকেও ভাইরাস মুখ গহ্বরে পৌঁচে যেতে পারে, তাই মাস্ক পড়া হয়।
করোনা ছাড়াও, দৈনন্দিন জীবনে এ ধরনের পরিষ্কার মূলক ভাবে সতর্কতা থাকা ইসলামে ফরজ করা হয়েছে। ওজুর মূল উদ্দেশ্যই তো এটা।
ভাইরাস কতদিন বাঁচে?
এক বাক্যে বলা সম্ভব নয়। এটা প্রকৃতি, পরিবেশ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে। আবার কি ধরনের ভাইরাস তার উপর অনেকটা নির্ভর করে, কোন ভাইরাস কতদিন বাঁচে।
ভাইরাস কতদিন বাঁচে?
এক বাক্যে বলা সম্ভব নয়। এটা প্রকৃতি, পরিবেশ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে। আবার কি ধরনের ভাইরাস তার উপর অনেকটা নির্ভর করে, কোন ভাইরাস কতদিন বাঁচে।
ঠাণ্ডা জনিত ভাইরাস সাত দিন, ফ্লু ভাইরাস চব্বিশ ঘণ্টা, কিছু ভাইরাস আছে মাত্র পাঁচ মিনিট বাঁচে। ধাতব বস্তুর পিঠের উপর যতদিন বাচতে পারে, কাপড়, তুলা বস্ত্র কিংবা টিস্যুর মধ্যে তাদের জীবন আরো সংকীর্ণ হয়ে যায়। ফ্লু ভাইরাস টিস্যুর মধ্যে সর্বোচ্চ পনের মিনিট পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
গাছের পাতা, তাজা সবজির উপরে আমরা ভাইরাস সংক্রমণ দেখে থাকি। গাছের প্রাণ আছে বলে ভাইরাস তাকেও খায়। যেহেতু ভাইরাস সর্বদা প্রাণের উপর নির্ভরশীল, তাই তাকে মেরে ফেলাটা একটু কঠিন।
গাছের পাতা, তাজা সবজির উপরে আমরা ভাইরাস সংক্রমণ দেখে থাকি। গাছের প্রাণ আছে বলে ভাইরাস তাকেও খায়। যেহেতু ভাইরাস সর্বদা প্রাণের উপর নির্ভরশীল, তাই তাকে মেরে ফেলাটা একটু কঠিন।
কেননা ভাইরাস মারতে গিয়ে আবার প্রাণের ক্ষতি হতে পারে। ক্ষুদ্র অণুজীব বলে তার হায়াত ও বেশী নয়, মরে জলদি তাই বংশবৃদ্ধিও করে জলদি। ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে।
তবে এসবকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমাদের দেশের স্কুল-কলেজের বিজ্ঞানের পাঠ্য বইতে এ সম্পর্কিত পড়া আছে। ছাত্ররা এ ব্যাপারে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল।
সাথে সাথে সমাজ সচেতন ব্যক্তিদেরও এ ব্যাপারে জ্ঞান থাকা দরকার। যারা ওয়াজ নসিহত করেন, তাদের কাছে এ ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে আরো বেশী উপকার পাওয়া যাবে।
একটি উদাহরণ দেই, ভাইরাস সংক্রমণের কারণে, আমাদের চোখ কখনও গরম হয়। দু’চোখ লাল হয়ে উঠে, চুলকাতে থাকে।
একটি উদাহরণ দেই, ভাইরাস সংক্রমণের কারণে, আমাদের চোখ কখনও গরম হয়। দু’চোখ লাল হয়ে উঠে, চুলকাতে থাকে।
কারণ মানুষের তাজা চোখের জীবিত কোষে ভাইরাস সংক্রমণ করেছে। ভাইরাস মানুষের চোখে বসে তার বাচ্চা জন্মাচ্ছে, বুড়ো ভাইরাস মরে যাচ্ছে। পাশাপাশি অবস্থান করা অসতর্ক অন্যদেরকেও এটা আক্রমণ করে।
এটার ঔষধ হিসেবে চোখে মলম লাগানো হয়। আমাদের অনেকের ধারণা এটা ঔষধ! মোটেও না! এই মলম দিয়ে চোখের উপর একটি কৃত্রিম পর্দা ফেলে দেওয়া হয়।
ফলে বাহির থেকে নূতন ভাইরাস যোগ দিতে পারে না এবং মলমের কারণে চোখের উপরে ভাইরাসের নর্তন-কুর্দনের সুযোগও কমে যায় এবং নূতন ভাবে বংশবৃদ্ধির ধারা রহিত হয়ে যায়।
এতে করে ভাইরাসের সংখ্যা লোপ পায়। আরো সহজ কথায় বলতে গেলে, ভিতরের বয়স্ক ভাইরাস নতুন করে জন্ম দিতে না পারুক এবং বয়স ফুরিয়ে ধ্বংস হউক অধিকন্তু বাহির থেকে নূতন ভাইরাস যেন যোগ দিতে না পারুক। এটাই হল ভাইরাসের চিকিৎসা।
এ থেকে আমরা বুঝলাম, ভাইরাস গুলো আমরা মারতে পারিনি। বুদ্ধি খাটিয়ে তাদের বংশ বৃদ্ধিকে রহিত করেছি, নতুন আগন্তুকের পথ বন্ধ করেছি, তাদের খাদ্যের উপাদানে ঘাটতি ঘটিয়েছি।
এ থেকে আমরা বুঝলাম, ভাইরাস গুলো আমরা মারতে পারিনি। বুদ্ধি খাটিয়ে তাদের বংশ বৃদ্ধিকে রহিত করেছি, নতুন আগন্তুকের পথ বন্ধ করেছি, তাদের খাদ্যের উপাদানে ঘাটতি ঘটিয়েছি।
এভাবেই তারা ধ্বংস হয়েছে। হ্যাঁ, চোখে এসিড দিলে ভাইরাস মরে যেত! কিন্তু কার চোখ জোড়া ভাল থাকত? একইভাবে করোনা যদি পেটে যায়, পেটের এসিডে সেও মরে যায়। কিন্তু করোনা সমস্যা বাধায় ফুসফুসে।
কোন ভাবে সেখানে পৌঁছানো তার লক্ষ্য। তাই করোনার ক্ষেত্রেও মানুষের সচেতনতা প্রথমেই জরুরি। করোনা যাতে মুখের ভিতর দিয়ে শ্বাসনালী পর্যন্ত যেতে না পারে সে জন্যই যত সতর্কতা।
ডাক্তারদের পোশাকটি মূলত এই কাজটিরই আঞ্জাম দেয়। মৃত মানুষের লাশে হাত লাগলেও সেটা যাতে ভাল করে ধুয়ে ফেলি। হাত যথাযথ পরিষ্কার না করা পর্যন্ত মুখের কাছে না নেই। নাক বন্ধ রাখি। গরম পানি পান করি। ইত্যাদি
মানুষ মারা গেলে তার আত্মীয় স্বজন যেভাবে কান্না জুড়ে দেয়, প্রতীকী অর্থে, ভাইরাসেরাও সেই মানুষের জন্য সেভাবে কান্না শুরু করে।
মানুষ মারা গেলে তার আত্মীয় স্বজন যেভাবে কান্না জুড়ে দেয়, প্রতীকী অর্থে, ভাইরাসেরাও সেই মানুষের জন্য সেভাবে কান্না শুরু করে।
কেননা খাদ্যের অভাবে তাকে মরতে হবে। মৃত শরীরের ভাইরাসের যায়গা তখন ব্যাকটেরিয়া দখল করবে এবং মানুষের দেহ পচিয়ে ফেলবে। ব্যাকটেরিয়া মৃতদেহ খায়।
করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ভয়ে মৃত লাশ দাফনে অনেকের অনীহা দেখা যাচ্ছে। লাশ দাফনে করোনা ছড়াবার সম্ভাবনা যতটুকু তার চেয়ে শতগুণ বেশী সম্ভাবনা হাত-মুখ খোলা রেখে বাইরে চলাফেরা করায়!
আক্রান্ত মানুষ হাঁচি দিলে কিংবা কথা বললে মুখ নিঃসৃত বাতাস থেকে ভাইরাস হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেটা সুস্থ মানুষকে আক্রান্ত করবে।
এটা নিয়ে আমরা খুবই কমই ভাবছি। সে জন্য যোগাযোগ, জটলা, ঘেঁষাষেষি এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে।
ব্লিচিং পাউডার ভাইরাস ধ্বংসে খুবই কার্যকরী। মুহূর্তেই ভাইরাস মেরে ফেলে। লাশের খাটিয়ায় ব্লিচিং পাউডারের পানি দিয়ে ধুলে একদিনেই এই খাটিয়া বহুবার ব্যবহার করা সম্ভব।
ইসলামের পরিষ্কার পরিছন্নতাকে ইমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। হাঁচি দেবার সময় রাসুল (সা) মুখে হাত দিতে বলেছেন, যাতে নিজের রোগ বাতাসে না ছড়ায়।
নিজেরাই ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ অথচ সমস্যা বাধিয়ে সরকারী কাজকে বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। এটা নাম না ইসলাম পালন, না ইসলামের যথার্থ অনুসরণ।


Discussion about this post