Tipu vai
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি
No Result
View All Result
নজরুল ইসলাম টিপু
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি
No Result
View All Result
নজরুল ইসলাম টিপু
No Result
View All Result

লেজ সংক্রান্ত ন’লেজ (লেজ সংক্রান্ত রম্য রচনা) নজরুল ইসলাম টিপু

জানুয়ারি ১৭, ২০১৬
in রম্য রচনা
2 min read
0

হয়ত বলবেন, লেজ নিয়ে টানাটানির কি দরকার? সেটা নিয়েও লেখালেখি হয় নাকি? শুনলে তো তাজ্জব হবেন একথা যেনে যে, জগত বিখ্যাত জীব বিজ্ঞানী ডারউইন তো তার জীবনের একটা বিরাট সময় তো শুধু লেজের পিছনেই দিয়েছেন! তিনি বহু বছর গবেষণা ও বিশ্লেষণের পর আবিষ্কার করেন যে মানুষেরও এক সময় লেজ ছিল! অর্থাৎ মানুষের আদি পুরুষ ছিল ‘বানর’। বাঁদরামি কমাতে কমাতে, তথা কালের আবর্তনে সবাই হয়েছে মানুষ। আজ যারা বানর হিসেবে দুনিয়াতে বসবাস করছেন, তাঁরাও কয়েক কোটি বছর পরে মানুষ হবে! 

না, আমার বিষয় কিন্তু এই খ্যাতিমান বিজ্ঞানীকে নিয়ে কাটা ছেড়া করা নয়। বরং তার চিন্তা, গবেষণা ও সৃষ্টিকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমিও ধরে নিয়েছি যে একদা মানুষের লেজ ছিল। তাহলে মানব জীবনের অদেখা চিত্র কেমন হত, তারই ছবি আকা হয়েছে এই লিখায়।


মানুষ আর বানরের মাঝে শুধু দৃশ্যমান তফাৎ হলো মানুষের লেজটি খসে গিয়ে দেহাকৃতি হয়েছে বড়, গায়ের সমুদয় লোম ঝড়ে গিয়ে মাথায়, মুখে, ঠোটে, বগলে ও আরে নিচের বিশেষ গিয়ে আটকে আছে। মানুষের চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে, তারা গাছ-পালা ছেড়ে মাটিকে বরণীয় করেছে। বিজ্ঞানী ডারউইন উপরোক্ত কথার ভিত্তি তৈরির জন্য বছরের পর বছর উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিশাল অঞ্চল চষে বেড়িয়েছেন শুধু প্রমাণ আর উপাত্ত সংগ্রহের জন্য।


প্রয়াত বিজ্ঞানীর চিন্তার সাথে বাক বিতণ্ডায় না গিয়ে কিছুক্ষণের জন্য একটু চিন্তা করুন। যদি মানুষের লেজখানি না খসত তাহলে তাদের আজকের এই সমাজে চলতে ফিরতে কতরকম সুবিধা-অসুবিধা হত! মানুষের একখানি লেজ সমাজের কি বিচিত্র ধরনের পরিবর্তন করত। 


একটু ব্যাখ্যা দিলে পাঠকেরা আমার সাথে একমত না হয়ে পারবেন না। চিন্তা করে দেখুন, লেজযুক্ত ব্যক্তিকে রাস্তায় চলাফেরা করার সময় এক হাতে টস্‌লাইট অন্য হাতে লেজের মাথা ধরে চলাচল করতে হত। নতুবা লেজে রাস্তার সমূদয় কাদা-বালি লেগে, নিজের এবং অন্যের গায়ে লেগে তা নতুন মুছিবত তৈরি করত। গাড়ীতে বসার জন্য সিটে প্রশস্ত যায়গার প্রয়োজন হত, নতুবা লেজ মুচড়িয়ে কোলের উপর রেখে যাত্রার কাজ সারতে হত। বাসের কনট্রাকটরকে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে বলতে হত, ভাই নিজ নিজ লেজ ঠিক করেন, জুতার চাপে লেজে ব্যথা পেলে ড্রাইভার কে নালিশ করতে পারবেন না। 


চোর-ডাকাতের জন্য নতুন ফৌজদারি দণ্ডের কারণে পূর্ণ লেজ কিংবা লেজের কিয়দংশ কেটে ফেলার দণ্ড জারী হত। সন্ত্রাসীরা হুমকি দিত টাকা না দিলে তোমার বাবাকে আর লেজ নিয়ে বাজারে চলাফেরা করতে দেব না। ক্লাসে স্যারেরা বলত সবার লেজ টেবিলের উপর রাখ, নোংরা লেজ নিয়ে ক্লাসে আসার কারণে এই লেজের উপরেই আবার সপাং সপাং করে বেত মারা হত। লেজের খুঁত ধরে দুষ্ট লোকেরা ব্যঙ্গ করতো, এই লেজ নাইয়ার ছেলে যায়রে। অপরাধী ছেলে পিটুনি থেকে বাঁচার জন্য বলত বাবা এবার তোমার লেজে পরি, এযাত্রায় আমাকে মাফ করো। 


হঠাৎ দুষ্ট বন্ধুরা পিছনে এসে চিৎকার দিয়ে ভয় লাগানোর পরিবর্তে লেজ ধরে হেঁচকা টান মারত। ঈদের বাজারে গেলেন তো আরো সমস্যা, ভীরের ভিতর থেকে নিজের শরীর খানি কোনমতে উদ্ধার পাওয়ার পর দেখা গেল, লেজখানি উদ্ধার হয়নি, বরং তা ভিড়ের মধ্যে আটকে আছে। অমনি চিৎকার জুড়লেন ভাই আমার লেজ ছাড়েন, লেজ ছাড়েন। 


পাগলা কুকুরের ভয়ে পালাতে যাচ্ছেন? জুতা বগলদাবা করার আগে প্রথমে লেজ বগলদাবা করুন, তারপর দিন ভোঁ দৌড়! তবেই রক্ষা, নতুবা এই লেজের কারণেই কুকুর মালিশ হয়ে আহত লেজ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হত। গাছে উঠলেন তো দেখা গেল, ভয়ার্ত মৌমাছি কিংবা রাগান্বিত ভীমরুল লেজের উপর চড়াও হল, লেজ বাঁচাতে গিয়ে হাত ছেড়ে দেওয়ার ফলে, গাছ থেকে কত মানুষের পতন হত তার হিসাব রাখাও দায় হত! মায়েদের বাচ্চার বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হত। মল-মূত্র পরিষ্কারে তাদের সদা সতর্ক থাকতে হত, আধুনিক মায়েরা বাচ্চার লেজের গোরা থেকে নখ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে শুকনা লেদী সাফ করতে হত!


এই লেজ দিয়ে শুধু যে, অসুবিধা হত তাই নয়, সুবিধাও অনেক আদায় করা যেত। ধরুন এই লেজ যদি ম্যারাডোনা কিংবা পেলের মত ব্যক্তিরা পেতেন তাহলে বিপক্ষ দল কি পরিমাণ গোল হজম করতে হত? তার হিসেব রাখা দায় হত। গোল পা দিয়ে হল, নাকি লেজ দিয়ে হয়েছে, এ সিদ্ধান্তে সময় লাগল। উইকেট কিপার বল খালি হাতে ধরেছে, নাকি হাতে-লেজে মিলিয়ে ধরেছে সে সব সিদ্ধান্ত নিতে নতুন আম্পায়ারের প্রয়োজন হত। 


যা হোক, লেজ থাকলেই তো আর হলনা, মানুষ তো আর ইতর প্রাণী নয় যে, তার লেজ সদা উলঙ্গ প্রদর্শিত হবে! মানুষের শরীরে লোম না থাকার কারণে তা দেখতে গুই সাপের চামড়ার মতো লাগত। সে জন্য বাহারি কোম্পানি গুলো তাদের নতুন পণ্য তৈরি করত। রঙ্গিন আলতা কিংবা মেহেদীর নতুন ব্যবহার শুরু হতো, ফ্যাশন শোতে সুন্দরী নারীরা লেজখানি বিভিন্ন আঙ্গিকে দুলিয়ে দুলিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখত। 


সেলুনে ডিসকাউন্ট হিসেবে শেভের সাথে লেজের মাথার চুল ফ্রি ছেঁটে দিত। বিউটি পার্লারে তো লেজ তথা টেইল ডিজাইনার হিসেবে বিউটি-শিয়ান দের মেলা কদর বাড়ত। ফ্যাশন হাউজ গুলো সিল্কের বা রেশমি কাপড়ের লেজ কভার তৈরি করতে ব্যস্ত থাকত। ঈদে-পূজায় টিভিতে এই লেজ কভারের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন আসত, বাচ্চার আবদার রক্ষা করতে পিতা-মাতার আরো কিছু টাকা লেজের পিছনে খরচ হতো। 


হবু প্রেমিক, প্রেমিকার লেজ দেখে আনন্দে গেয়ে উঠত “পড়েনা চোখের পলক, কি তোমার লেজের ঝলক”……। অভিমানী বউ স্বামীর লেজ খানা কোলে নিয়ে নাড়াচাড়া করে বলত, এত সুন্দর লেজ দেখেই তোমাকে পছন্দ করেছিলাম। ভেবেছিলাম লেজ যেমন সুন্দর, মনও খরচের বেলায় তেমনি উদার হবে, এখন দেখি তুমি একটা কিপটে, আঙ্গুলের ফাঁকেও পানি পড়েনা। 


বেয়াই বেয়াইর সাহেবের লেজে হাত দিয়ে বলত, আমার বেয়াইর লেজখানা যেমনি সুন্দর, তেমনি গোছালো খুব ভাল মানিয়েছে কিন্তু। একজনের লেজের সাথে অন্যের লেজ পেঁচিয়ে হ্যান্ড সেকের মত টেইল সেকের তথা লেজ মোলাকাত সংস্কৃতি চালু হত। রাজনৈতিক বক্তারা মঞ্চ গরম করে বলত, প্রাণ যাবে যাক তারপরও বিরোধী দলের নিকট লেজ নোয়াব না। 


ডাক্তারেরা লেজে ইনজেকশন কিংবা ভ্যাকসিন দেওয়ার পদ্ধতি বের করত, পাতি নেতারা বড় নেতার লেজে চুমো দিত, পীর সাহেবেরা লেজের মাথা অনুসারীদের কপালে বা মাথায় লাগিয়ে আশীর্বাদ করত, দাদার মৃত্যুর পর নাতীরা দাদার লেজের মাথা এনথিক্স হিসেবে আলমারিতে রাখত। আরো অনেক ধরনের সুবিধাও হত যা লিখে শেষ করা যাবেনা। জ্ঞানী মানুষেরা এ ব্যাপারে বিস্তারিত আরো অনেক কিছু লিখতে পারবেন, যা হয়তো আমার পক্ষে এখানে সম্ভবপর হয়ে উঠেনি।


আবার চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা লেজ নিয়ে বলেন অন্য কথা, মানুষের আসলেই একখানা লেজ আছে। তবে তা মেরুদণ্ডের পিছনে একেবারেই শেষ মাথায়। আকৃতিতে একেবারেই ছোট এবং চামড়া দ্বারা আবৃত বলে কেউ তা দেখে না। মানুষ কঙ্কাল হলেই পরে এ লেজের আকার বুঝা যায় যে, মৃত ব্যক্তির লেজ কত বড় কিংবা কত লম্বা ছিল। 


মাইক্রো বায়োলজি আবিষ্কারের পর কিছু উৎসাহী পণ্ডিত বলে বসলেন আসলেই মানুষের লেজ আছে। কেননা শুক্রাণুর একটি সুস্পষ্ট লেজ বিদ্যমান, যার সাহায্যে সে স্থান পরিবর্তন করতে পারে, আর শুক্রাণু মূলত মানুষই। কেউ বলেন মানুষের জন্য লেজের আপাতত প্রয়োজন নাই বলেই, সেটাকে স্রষ্টা লুকিয়ে রেখেছেন, লেজের কাজ তো মানুষ হাত দিয়েই সেরে নিচ্ছে সে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে থেকেই। কিছু বিজ্ঞানীদের ধারনা মানুষের চরিত্রের পরিবর্তন তথা বাঁদরামির পরিমাণ কম হওয়ার কারণেই মূল লেজ খসে গিয়ে গোরায় এসে ঠেকেছে। সামান্য যেটা আছে সেটা তেমন উল্লেখ করার মত নয়। 


নিন্দুকেরা বলেন, এই সামান্য লেজের প্রভাবেই, কিছু মানুষের বাঁদরামির জ্বালায় আজ ভব-জগত অতিষ্ঠ প্রায়। পুরো লেজখানি যদি মানুষের পিছনে বহাল তবিয়তে থাকত, তাহলে এই দুনিয়ায় আর কাউকে বসবাস করতে হত না। লেজ না থেকেও মানুষ বাঁদরামি চরিত্র দিয়ে পৃথিবীকে যেভাবে ধ্বংস করছে ও বসবাসের অনুপযোগী করেছে। মানুষের জায়গায় আজ যদি প্রকৃত লেজ ওয়ালা বানর থাকত তাহলে হয়ত পৃথিবীর ক্ষতি এভাবে সাধন হতোনা।


এতক্ষণে হয়ত মানুষের লেজের বিস্তারিত গুনের কথা শুনে হয়ত হাঁপিয়ে উঠেছেন! আসলে হাঁপিয়ে উঠার কথা। লেজের পিছনে ছুটতে গিয়ে কত বিজ্ঞানী প্রয়াত হয়েছেন, তার কোন ইয়ত্তা নেই। তাদের প্রজ্ঞার তুলনায় আমাদের প্রচেষ্টা নস্যি মাত্র। 


তবে সুখের কথা হল লেজের কিছু ভাল গুণ ও উৎকৃষ্ট দিক ও আছে, যদি সে লেজ খানা থাকে কোন প্রাণী কিংবা জানোয়ারের পিছনে! দেখুন না টিকটিকির লেজখানি কিভাবে তাকে মহাবিপদ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। এই নিরীহ প্রাণীটির আক্রমণ প্রতিহত করার কোন সরঞ্জাম নাই। তাই যখন সে শত্রু  কর্তৃক আক্রান্ত হয়, তখন শত্রুর মুখে লেজখানি ধরিয়ে দিয়ে দেয় ভোঁ-দৌড়। অবশেষে শত্রু লেজ নিয়েই খুশি থাকা ছাড়া কোন উপায় থাকেনা। 


শৃগালের কাঁকড়া খুবই পছন্দ কিন্তু জলের কাঁকড়া স্থলের শৃগাল পাবে কিভাবে? এক্ষেত্রে শৃগাল নিজের মোলায়েম অথচ মজবুত লেজখানি কাঁকড়ার গর্তে ঢুকিয়ে দেয় এবং ঘন ঘন নাড়িয়ে কাঁকড়ার মেজাজ দেয় গরম করে। ফলে উত্তেজিত কাঁকড়া যখনই কামড় বসিয়ে দেয় শৃগালের লেজে, তখনই শৃগাল আস্তে করে লেজখানি উপরে তুলে আনে। কাঁকড়া কিছু বুঝে উঠার আগেই শৃগালের খাদ্যে পরিণত হয়।


বিড়াল শ্রেণীর প্রায় সকল প্রাণীই বাচ্চাই, মায়ের লেজ দিয়ে প্রশিক্ষণ নেয়, কিভাবে শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। মা বিড়াল বিভিন্ন কৌণিকে সোজা কিংবা উলম্ব ভাবে লেজ খানা নাড়াচাড়া করবে, আর শিশু বিড়াল তা প্রথম থাবাতেই তা ধরতে চাইবে। এই সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়েই বিড়াল ছানারা মা থেকে আলাদা হয়ে জীবন যাত্রা শুরু করে।


কুকুরের লেজ নাকি ১২ বৎসর চোঙ্গায় ঢুকিয়ে রাখলেও সোজা হয়না। জানিনা কোন বিজ্ঞানী কোথাকার ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষা সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করেছেন। শোনা কথায় কান না দিয়ে আসল কথা শুনুন। কুকুরের লেজও সোজা হয়! যখন সে কোন সবল কুকুরের বশ্যতা স্বীকার করে কিংবা কোন কুকুরকে সমীহ করে চলতে হবে, এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তেমন পরিবেশে কুকুরের লেজও একেবারে বাঁশের মত সোজা হয়ে যায়! যখন কুকুর স্বাধীনতা পায় কিংবা দেখে আপাতত কোন উপদ্রব নাই, তখনই তার লেজখানি বৃত্তাকারে ভাবে বাঁকা হয়ে যায়। মানুষের চেহারা দেখে তার মনের কথা বুঝা যায়, কিন্তু প্রাণীদের মুখ দেখে সচরাচর তার মনের অবস্থা আঁচ করা যায় না। তার লেজের প্রতি দৃষ্টিকে মনোনিবেশ করুন, দেখুন কেমন করে লেজখানি নাড়াচাড়া করছে, বিলক্ষণ অনুমান করতে পারবেন, সে কি চায়!


মাছ লেজের সাহায্যে গতি-প্রাপ্ত হয় ফলে পানিতে বিচরণ করতে পারে অনায়াসে। কাঠবিড়ালি ও ক্যাঙ্গারু” দৌড়ানোর সময় লেজ-দিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে। কাঠবিড়ালির লোমশ লেজখানা শীতকালে কম্বল, বর্ষায় ছাতা হিসেবেও ব্যবহার করে। বিভিন্ন গিরগিটি ও হনুমান লেজ দিয়ে গাছের ডাল শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে বসে থাকে কখনও বা মনের সুখে দোল খায়। বাঘ ও সিংহ শিকারের সঠিক মুহূর্ত ও মানসিক ভারসাম্য লেজের মাধ্যমে ঠিক করে। সকল প্রাণীই আবেগ, অনুভূতি, ভালবাসা, পছন্দ-অপছন্দ লেজ দিয়ে প্রকাশ করে। ভয়, আতঙ্ক, বিপদ, সতর্কতা প্রদান, সংকেত প্রদান ইত্যাদি বিষয়ও প্রাণীরা তাদের নিজের লেজ দ্বারা নিজস্ব অনুভূতির প্রকাশ করে।


পাখীদের ক্ষেত্রেও লেজের বাহারি ও চমৎকার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। সাধারণত পুরুষ পাখীরা মেয়ে পাখীদের চেয়ে বেশী সুন্দর। পাখীরা তাদের সুন্দরের প্রথম প্রকাশ ঘটায় লেজ দিয়ে। মোরগের লেজ না থাকলে তাকে মানানসই মনে হতোনা। পাখীদের মধ্যে প্রচুর পাখী এমন রয়েছে যারা তাদের লেজ দেখিয়ে স্ত্রী পাখিকে প্রলুব্ধ করে ও মন দেয়া নেয়া করে। স্ত্রী পাখি তার সঙ্গী বাছাইয়ে প্রথমেই পুরুষ পাখীর লেজের আকার আয়তন ও রঙ দেখে। ময়ূরের সুন্দর লেজ দেখে দর্শকেরা কতইনা আনন্দিত হয়, আসলে সে লেজখানা তার সাথী, স্ত্রী ময়ূরের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই মেলে ধরে এবং তাকে দেখায়। পুরুষ পাখীর লেজ সুন্দর এবং উজ্জ্বল না হলে সে মানসিক সুস্থতা পায়না। লেজ ও পালক অধিকতর আকর্ষণীয় করার জন্য সে ঠোঁট দিয়ে লেজের গোরায় ঠোকর মারে অনবরত। এতে লেজের পালক যে ঢিবি থেকে উত্থিত তা ছিঁড়ে যায়, ফলে ক্ষত থেকে নিজের শরীরের জমানো তৈল বের হয়। সে তৈল লেজ সহ সমস্ত’ দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তার পালকের মসৃণতা আসে এবং উজ্জ্বল হয় ফলে তা প্রেম নিবেদনের উপযোগী হয়।


লেজ ব্যতীত পাখীর জীবন কল্পনা করা যায়না। লেজ ছাড়া পাখি উপরে উঠতে পারেনা, উপরে যদি উঠল লেজ ছাড়া নিচে নামতে পারবেনা। কোন অবস্থাতেই সে শূন্যে ডানে কিংবা বামে ঘুরতে পারবেনা। লেজের সাহায্যে চিল প্রজাতির পাখিরা শূন্যেই হঠাৎ ড্রাইভ দিতে পারে, হঠাৎ গতিহীন কিংবা হঠাৎ ক্ষিপ্রগতি সঞ্চার করতে পারে। পতঙ্গের কোন লেজ নাই তার লেজের প্রয়োজনও নাই, তার দু-জোড়া ডানা আছে। একজোড়া দিয়ে উপরে উঠা-নামা করে, অন্য জোড়া ঠিক পাখির লেজের কাজ করে। আবার কিছু পতঙ্গ  আছে যাদের সু-দৃশ্য লেজ আছে।


আসলে মূল কথা হল কার কাছে লেজ আছে কার কাছে নাই সেটা বিবেচ্য বিষয় হওয়ার কথা ছিলনা। খামাখা মানুষ বছরের পর বছর ঘুরাঘুরি করেছে। যার জন্য যেটা প্রয়োজন আল্লাহ তাকে সেটা দিয়েছেন। মানুষের যেমন লেজ থাকলে সমস্যা হত তেমনি পাখির লেজ না থাকলে সমস্যা হত। প্রাণীকুলের জীবন ধারণের স্থান, অবস্থা, প্রকার ও পদ্ধতির উপর নির্ভর করে আল্লাহ সবাইকে বিন্যস্ত করেছেন। 


পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, “যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতপরঃ তোমাকে সুবিন্যস্ত এবং সুষম করেছে” ইনফিতার ৭। 


এতে এ কথাই বুঝা যায় কোন কালেই মানুষের লেজ ছিলনা কিংবা লেজের প্রয়োজনও ছিলনা তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে সৃষ্টির দিন থেকেই লেজ বিহীন করেই তৈরি করেছেন ও পৃথিবীতে বিচরণ করতে দিয়েছেন। এটা তো গেল যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে তাদের উত্তর কিন্তু যারা আল্লাহতে বিশ্বাস নাই তাদের বেলায় কি হবে? এই উত্তরে তারা তো সন্তুষ্ট থাকতে চায় না! তাদের জন্যও আল্লাহর ঘোষণা এই , “তুমি করুণাময় আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন বৈসাদৃশ্য দেখতে পাবেনা, তুমি দৃষ্টি মেলে দেখ আমার সৃষ্টি নৈপুণ্যের দিকে, কোন ভুল দেখতে পাও কি? বারংবার তাকিয়ে দেখ তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে” মূলক ৩-৪। 


সুতরাং যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করেনা তাদের জন্যে এই চিরস্থায়ী চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই, তাদের উচিৎ এর মোকাবেলা করা। সুতরাং লেজবিহীন মানুষ দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি লেজওয়ালা পাখীও দেখতে সুন্দর, লেজযুক্ত মাছও সুন্দর। তাই আমাদের উচিত সৃষ্টির ভুলের সন্ধানে না ঘুরে, সৃষ্টির প্রতিটি  অবদানকে বিশ্লেষণ করা তবেই আমরা স্রষ্টাকে চিনব, তাঁর কাছাকাছি থাকতে পারব অতঃপর উপকৃত হবে মানব সম্প্রদায়।


পুনশ্চ: বিজ্ঞানী ডারউইন কে নিয়ে বিরূপ নয়। তিনি বিবর্তনের যে ধারার কথা বলেছেন, সেটা পৃথিবীর অন্য সৃষ্ট জীবের ক্ষেত্রে কিছুটা খাটে। বস্তুবাদীরা বলে মানুষের জন্ম অন্য দশ প্রাণীর মতই এবং তা পৃথিবীতেই হয়েছে। তাই ডারউইনও মানুষকেও একই কাতারে ফেলেছিলেন। মানুষ নিয়ে তার এই গবেষণা ব্যর্থ হবার মাধ্যমে সেই কথাটি প্রমাণিত হয় যে, অন্য প্রাণীর মত মানুষ পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়নি। তাকে পৃথিবীতে আনা হয়েছে…….
Previous Post

আমার মায়ের শিক্ষা ও একটি বে-আকল মুরগী নজরুল ইসলাম টিপু

Next Post

দাড়ি সমাচার

Discussion about this post

নতুন লেখা

  • জ্বালানী তেল যেভাবে তৈরি হয়
  • শাহ পদবীটা বিরাট অদ্ভুত
  • তীর তথা ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে বলিয়ান হতে স্বয়ং রাসুল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন।
  • তসবিহ দানা বৃত্তান্ত!
  • হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী দেওবন্দি ও বেরেলভী আকিদার সূত্রপাত

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় লেখা

No Content Available

নজরুল ইসলাম টিপু

লেখক পরিচিতি । গাছের ছায়া । DraftingCare

Facebook Twitter Linkedin
© 2020 Nazrul Islam Tipu. Developed by Al-Mamun.
No Result
View All Result
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি

© 2020 Nazrul Islam Tipu. Developed by Al-Mamun.