শিক্ষার মূল উপাদান তিনটি। এক, ব্যবহারিক জীবনে বুৎপত্তি লাভের জ্ঞান অর্জন। দুই, মানবিক গুণাবলী অর্জন। তিন, আত্মা তথা প্রাণের বিকাশ সাধন। এই তিনটি উপাদানের সম্মিলিত বৈশিষ্ট্য অর্জন করার নামই শিক্ষা লাভ।
ইংরেজ মহাকবি মিল্টন Body, Mind & Soul এর পরিশুদ্ধিকেই শিক্ষা বলেছে। একই ভাবে কোরআনের পরিভাষায়ও এই তিনটি উপাদানকেই শিক্ষার মূল বস্তু বলা হয়েছে।
যদি একটি সাদামাটা প্রশ্ন তৈরি হয়; আমরা বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়র গণ্ডি পার হওয়া পর্যন্ত কতটুকু শিক্ষা লাভ করি? তাহলে তার সোজা-সাপটা উত্তর হবে মাত্র এক ষষ্টমাংশ!
হয়ত ভাবছেন এটা কিভাবে সম্ভব! ধরুন প্রতিটি বিষয়ে দুই নম্বর করে ধরা হল। তাহলে তিনটা বিষয়ে মোট ছয় নম্বর হয়। প্রতিটি মানুষই ‘মানব’, মানবের দায়িত্ব কি? এই মানবিকতার উৎকর্ষ কিভাবে হবে সেটার কোন থিউরি ও প্যাকটিক্যাল ক্লাস বিদ্যালয়ে হয়না তাই পুরো দুই মার্ক চলে গেল! সেভাবে আত্মার পরিচয় ও তার পরিশুদ্ধি নিয়ে কোন পাঠ বিদ্যালয়ে পড়ানো হয় না সুতরাং কাটা পড়ল আরো দুই নম্বর।
ব্যবহারিক জীবনে বুৎপত্তি অর্জন করে কিভাবে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, একাউন্টেন্ট হতে হয়, সেটা নিয়ে বিদ্যালয়ে জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশই পড়ানো হয়। বাকীটা নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে পরিপূর্ণ করতে হয়। সেখান থেকেও চলে গেল এক মার্ক। সুতরাং প্রমাণ হল, মানুষের জীবন গঠন করার জন্য যে ছয়টি পয়েন্ট দরকার তার পাঁচটিই বিদ্যালয়ের সিলেবাসে অনুপস্থিত থাকে।
বর্তমানে শিক্ষাটা একটি অবশ, একমুখো ও একদেশদর্শী শিক্ষায় পরিণত হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের বিবেকে মানবিকতার বিকাশ ও কর্মে আত্মার অবদান অন্তঃসার শূন্যই থাকে। ফলে সার্টিফিকেট ধারী এসব শিক্ষিতদের হাত থেকে জাতি কিঞ্চিৎকর কল্যাণকর উপকার পায়না। বরং এসব শিক্ষিতদের হাতে দেশের ব্যাংক, বীমা, ব্যবসায়ে ডাকাতি হয় কলমের প্যাচে। ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা লুণ্ঠিত হয় দেশপ্রেমের অভাবে। নিজ দেশের গরীব অসহায় মানুষের সম্পদ লুট করে, অন্যদেশে চতুর্থ শ্রেণির মর্যাদা নিয়ে চিরস্থায়ী বসবাসের চিন্তা করে; লোভ আর হীনমন্যতার কারণে। নিজ দেশের জননেতার মর্যাদাকে লাথি মেরে অন্য দেশের চাকরের মত করে বসবাসকে গৌরব জনক মনে করে। এসবই বিদ্যা-শিক্ষার পঙ্গু বিন্যাসের কারণেই হয়।
একটি জাতি তার নিজস্ব শিক্ষায় যখন গৌরব করার উপাদান না পায়, তখন সে গোলামি করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে। ফলে ১৮ কোটি বাঙ্গালী আজ আটার কোটি গোলামে পরিণত হয়েছি।

Discussion about this post