– শিয়ারা মুসলমানদের এমন এক ক্ষত যার অবস্থান ইহুদিদের পরেই
– ইরান, ইরাক, বাহরাইন, আজারবাইজান, লেবানন, ইয়েমেনে শিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
– কুয়েত, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সউদি আরব, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশেও প্রচুর শিয়া রয়েছে।
– পৃথিবীতে একমাত্র শিয়ারাই সবচেয়ে বেশী উপদলে বিভক্ত সম্প্রদায়।
শিয়াদের উৎপত্তি
– ধরা হয় আবদুল্লাহ বিন সাবাহ এই মতবাদের অন্যতম উত্তরসূরি।
– তিনি জাতে ইহুদী এবং ইসলাম গ্রহণ করার ভান করেছিলেন।
– শান্ত পরিবেশকে গুলিয়ে ফেলার মত চৌকশতা ছিল তার চরিত্রে।
– নিজেদের মধ্যে অন্তদন্ধ, কলহ ও বিভেদ সৃষ্টিতে ছিল বেজায় পটু।
– মূসা ও ইউসা ইবনে নূন (আঃ) কে নিয়ে তিনি ইহুদীদের বিভক্ত করেছিলেন।
– তার সেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সুনিপুণ ভাবে মুসলিমদের মাঝেও চালিয়েছিলেন।
– তিনি কোন একটা দলের কল্যাণকামী সেজে, সেই দলের চূড়ান্ত অকল্যাণ সাধনে সিদ্ধহস্ত ছিলেন।
– যারা বিপক্ষে থাকে তাদের ক্ষতি তো হতই, উপরন্তু নিজেরাই কলহে লিপ্ত হত।
– এটা ঠিক আফগান-সিরিয়ায় আমেরিকার জঙ্গি দমনের মত ঘটনা, চোখ বন্ধ করে বোমা মার।
– শিয়া মরুক! সুন্নি মরুক! জন সাধারণ মরুক! জনম শত্রু শালার মুসলমানই তো মরল!
শিয়াদের বিকাশ
– ওসমান (রা) সময়ে আবদুল্লাহ বিন সাবাহ মদিনায় আসেন এবং ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
– আলী (রা) সময়ে তিনি আলীর পক্ষ হয়ে, সাধারণ মানুষদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন!
– আলী (রা) এ খবর জানতে পেরে তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন কিন্তু সে নির্দেশ কার্যকর হয়নি!
– তাকে বর্তমান ইরানে নির্বাসিত করেন পরবর্তীতে তিনি সিরিয়ায় গিয়ে ইসলাম প্রচার করতে থাকেন!!
– তার চাতুর্যতা মিশ্রিত ইসলাম প্রচার, উল্টো ইসলামকে ক্ষত-বিক্ষত করত, পরস্পর ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়াত।
– বর্তমানেও আমরা বহু ইসলাম প্রচারক দেখতে পাই, যাদের প্রচারে বিভেদ-বিদ্বেষের প্রসার ঘটে।
– এ ধরনের মানুষের কারণে বিরক্ত হয়ে, কুফার মসজিদে আলী (রা) খোতবায় বলেন, ইশ! তোমাদের সাথে যদি আমার কোন কালে পরিচয় না হত, তাহলে কতই না কল্যাণ হত।
শিয়াদের বিস্তার
– উমাইয়া গোষ্ঠীর মানুষেরা আলী (রা) থেকে ক্ষমতা হাতিয়ে নেন।
– সেই উমাইয়াদের একজন হোসাইন (রা) নির্মমভাবে হত্যা করেন।
– ইতিহাসে এই ঘটনাকে ‘কারবালা‘ বলা হয়।
– সারা দুনিয়ার মুসলমানদের কাছে এই ঘটনা মর্মান্তিক ও করুন দৃশ্যের অবতারণা করে।
– আব্বাসীয়রা কারবালার এই ঘটনাকে পূঁজি করে, উমাইয়াদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে থাকে।
– আবদুল্লাহ বিন সাবার জন্য সুযোগ আসে, তারাও বলতে থাকে, ফাতিমার (রা) পরিবারকে শাসন ক্ষমতায় নিযুক্ত করতে হবে। কেননা তারাই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত ও একাজের হকদার।
– বহু সাধনার পরে আব্বাসীয়দের হাতে উমাইয়াদের পতন হয়।
– আব্বাসীয়রা নিজের মত করে শাসন চালাতে থাকে কিন্তু ফাতিমার (রা) বংশধরেরা উপেক্ষিত হতে থাকে।
– অথচ আব্বাসীয়রা এই ঘটনাকে পূঁজি করে, মানুষ উসকিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।
– বিপরীতে ফাতিমা (রা) অধঃস্থন বংশধরদের সন্তানেরা যোগ্য, বরেণ্য, দ্বীনদার কিন্তু অবহেলিত হতে থাকে।
– এই প্রচারণা যার কানে গেছে, সেই প্রভাবিত হয়েছে, রাজধানী বাগদাদের বাহিরে এর প্রসারতা ছিল ব্যাপক।
– রাষ্ট্রের প্রতি এই ক্ষোভে সিরিয়া, মিশর, মরক্কোতে বিরাট আকারের কোন্দলে শিয়াদের নেতৃত্বে দল সৃষ্টি হয়।
– মিশরে ফাতেমী নামে আলাদা একটি শক্তিশালী শাসনের জন্ম হয়, আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয় তারাই প্রতিষ্ঠা করে।
– অন্যদিকে অযোগ্য, অথর্ব, আরাম-আয়েশে মত্ত আব্বাসীয় শাসকেরা এসবের ন্যুনতম মোকাবেলা করতে পারেনি।
– অধিকন্তু হালাকু খানের আঘাতে পুরো মুসলিম মিল্লাত প্রায় ধূলিসাৎ হয়ে যায় কিন্তু ফাতেমীরা টিকে যায়।
মধ্য যুগে শিয়াদের প্রভাব,
– সুলতানি আমলে বাংলা মুল্লুকে প্রচুর আরব মুবাল্লীগের আগমন ঘটে, মানুষ সঠিক ভাবে ইসলাম পালন করত।
– এর ধারাবাহিকতা দাউদ খান কাররানী পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আবার অন্যদিকে,
– সম্রাট বাবর মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, তার ছেলে হুমায়ুন শের শাহের কাছে ক্ষমতা হারায়।
– হুমায়ুন হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে পারস্যের সহযোগিতা নেয় এবং তাদের কৃষ্টি, ধর্ম চিন্তার প্রভাব বাড়ে।
– ফলে মোগলদের শাসন ব্যবস্থায় শিয়া চিন্তার প্রতিফলিত হবার সুযোগ পায়।
– তার ছেলে আকবর ছিল অশিক্ষিত, অধার্মিক ও ইসলাম বিদ্বেষী।
– তিনি ১৫৭৬ সালে সুন্নি শাসক দাউদ খান কাররানীকে পরাজিত ও হত্যা করে, নূতন এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
– সেই থেকে অগণিত মুসলমান শাসক আসলেও আওরঙ্গজেব, আহমেদ শাহ ও টিপু সুলতান ব্যতীত কারো হাতে ইসলামের খেদমত হয়নি।
– শেষাবধি নিজাম, আলিবর্দি খাঁ, মুর্শিদ কুলি খাঁ ও বাংলার শেষ নবাব সিরাজদৌলা সবাই শিয়া ধর্মমতের অনুসারী হিসেবে দুনিয়া ত্যাগ করেন!
– বাংলা মুল্লুকের মুসলিম কিংবদন্তি হাজি মুহাম্মদ মুহসিন, শিক্ষাবিদ মীর মোশারফ হোসেন এবং মীর জাফরের বংশধর সেনাপতি মির্জা ইস্কান্দর সহ অগণিত ক্ষমতাবান ব্যক্তি শিয়া ধর্মমতের অনুসারী ছিলেন!
মোর্দাকথা,
– শিয়াদের গুণকীর্তন ও উচ্চ মার্গের কাহিনী বলার জন্য লিখতে বসিনি
– বলতে বসেছি যাদেরকে আমরা নির্মূল করতে চাই, তাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা কতটুকু সেটা যাচাই করা।
– ইতিহাসে তাদের অবদান কেমন এবং সেটা কি কারণে সম্ভব হল, সেটায় মনোনিবেশ করানো।
– শুধুমাত্র আকিদার কথা বলে তাদের পরাস্ত করাটা বেকুপের চিন্তা হতে পারে দ্বিকবিজয়ী সেনাপতির নয়।
– সেটা সম্ভব হলে চৌদ্দশত বছরে হয়েই যেত।
বর্তমান ইসলামী চিন্তাবিদদের চোখে শিয়ারা দেখতে কেমন,
– শিয়াদের আকিদা খারাপ তাই, তাই তাদের কিছু ভাল কাজ থাকলেও তা ব্যর্থ ও অকার্যকর।
– আমরা সুন্নিদের আকিদা সঠিক ও সহিহ, ভুল-ভ্রান্তি কিছু থাকলেও আল্লাহ ক্ষমা করবেন।
– তাহলে তাদের আকিদা কেমন, কেন তারা বঞ্চিত?
– ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে বিবৃত এর জন্য অনেক কিতাবাদি রয়েছে, আছে প্রচুর শায়খ ও হাজারো ওয়াজ-নসিহত।
– ফেসবুক, ইউটিউবে প্রচুর আলোচনা রয়েছে, আর দিন দিন শিয়াদের সংখ্যা বাড়ছে।
– আমি ধর্মীয় আলেম নই, তাই ধর্মীয় দিকে গেলাম না, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণটা তুলে ধরেছি।
– কিছু শিয়াদের চরিত্র একেবারে সুন্নিদের কাছাকাছি, তাই অনেকে তালগোল পাকিয়ে ফেলে।
– কিছু শিয়াদের চরিত্রে মুসলমানদের ন্যুনতম কিছুই নেই, যেমন ইসমাইলীয়া সম্প্রদায়।
– তাদের প্রায় সবার কাছে ইসলামের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের সাথে বৈপরীত্য আছে, তাই তারা প্রকৃত মুসলিম নয়।
আমাদের ব্যর্থতা,
– কিন্তু মানতে কষ্ট হতে পারে কিন্তু করার কিছুই নাই,
– শিয়ারা দৃঢ়তাতে যতটা শক্তভাবে দেখাতে পারে, আমরা ভীরুতাকে ততবেশী প্রকাশ করি।
– যে ইরাক আমরণ তাদের সাথে লড়ল, শেষ সময়ে সাদ্দাম সাড়ে পাচঁশ বিমান ইরানকে দিয়ে দিল!
– সাদ্দামকে উসিকয়ে কুয়েত দখল করাল, আবার তারাই দু-জনের বিবাদ মীমাংসার নামে সমুদয় অর্থ হাতিয়ে নিল।
– আমরা আজো জানিনা সর্বশক্তি দিয়ে করা সেই লড়াইয়ে কেন ইরান-শিয়াদের পরাজিত করা গেলনা।
– মূলত আমরা যাকে বন্ধু বানিয়েছি, সেই মনস্তাত্ত্বিক ভাবে আমাদের ভয়কে বাড়ীতে তুলেছে।
– ফলে তারা দুজনই তোয়াঙ্গর হল, মাঝপথে ইরান লাভবান হল! এ খেলা কিভাবে চলছে?
– এসব প্রশ্ন তোলা এখন বড় বিপদজনক, কেননা এতে অযোগ্যতার ফিরিস্তি লম্বা হয়।
– শিয়াদের গুরু শুধু বক্তব্য দিয়ে যে জাতিকে জাগিয়ে তুলেছে, তার কাছাকাছি মানের বিশ্বনেতা কি আমাদের জন্মেছে?
– আমরা দু‘জন বাদশাহকে পেয়েছিলাম কিন্তু ধরে রাখতে পারিনি।
– তারপরও আমাদের অভিভাবক হয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তাদের প্রতি সবার আস্তা ছিল, আছে।
– কিন্তু আস্তা অনুযায়ী কেউ ভূমিকা রাখতে পারেনি, তারপরও মানুষ সন্তোষ চিত্তে মেনে নিয়েছে।
– আপনি সিনেমা হলের প্রসার ঘটাবেন, নাচওয়ালী বাড়াবেন! চুপ! একদম চুপ! এটা বিদ্রোহের নামান্তর।
– কিন্তু আমরা তো আপনার প্রতিই তাকিয়েই আছি, আপনি কবে হয়ে উঠবেন ঘুমন্ত মুসলিমের মুয়াজ্জিন।
– বলদর্পে, ঘৃণা বিস্তারে কোনদিন মতবাদ থামানো যায়না, বহু দৃষ্টান্ত আনা যায়।
– মতবাদ প্রচারে ধৈর্য, প্রজ্ঞা, দূরদর্শীতা, আন্তরিকতার সাথে ব্যাপক প্রচার করতে হয়।
– ইসলাম কিভাবে প্রচার হয়েছে, সে নজীর তো আমাদের সামনে রয়েছে।
– যাই হোক, প্রচার করে একজন শিয়া যদি কমাতে না পারি কিন্তু তাদের সংখ্যা বাড়াবো কেন?
ডিজিটাল যুগে শিয়া বাড়ার আলামত,
– বর্তমানে এই মানা না মানার মাঝেই শিয়া হবার বৈশিষ্ঠ লুকিয়ে।
– আপনি কোন শাসকের সমালোচনা করবেন, আপনি হবেন বিপ্লবী, হয়ে যাবেন শিয়া!
– আপনি কোন শায়কের সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন, তাহলেও শিয়া হয়ে যেতে পারেন।
– কিছু শায়খ আর শাসক মাসতুতো ভাইয়ের মত, সামান্য ভিন্নমত! সোজা শিয়া জাহান্নামে স্থান হবে।
– কিছু রাজনৈতিক দল পছন্দ করলেও, শিয়া হওয়া যায়। এতে শিয়ার মূল বিষয়বস্তু হাস্যকর হয়ে উঠে।
– প্রকৃত শিয়ারাও তাজ্জব হয়ে ভাবে দিন দিন এত শিয়া বেড়ে যাবার কারণ কি?
– ফেসবুকে মন্তব্য করে শুয়েছেন? সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনি ইতিমধ্যে শিয়া হয়ে গেছেন!

Discussion about this post