মানুষ ব্যতীত পৃথীবিতে কেউ কথা বলতে পারে না! মানুষের কথা বলার যোগ্যতার কারণে পৃথিবীতে শিল্প, সাহিত্য, কলা, সংস্কৃতির বিকাশ হয়েছে।
একজন মানুষ তার মনের কথা লিখনীর মাধ্যমে অনাগত হাজার বছরের মানুষের জন্যে রেখে যেতে পারে। এই সুযোগ আর কেউ পায়নি। মানুষের এমন যোগ্যতা অর্জনকে বিজ্ঞানীরা বলেছেন Accidental Genetic Mutations Change.
কথা বলতে পারাটাই যেখানে মানুষের শ্রেষ্ঠতম যোগ্যতার অন্যতম একটি দিক। সেটা কিভাবে মানুষ পেল, সে ব্যাপারে পবিত্র কোরআন বিজ্ঞানীদের ব্যাখার সাথে পরিষ্কার দ্বিমত পোষণ করেছে!
মহান আল্লাহ বলেছেন, মানুষের কথা বলতে পারাটা, হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন দুর্ঘটনার বিষয় নয় বরং পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মানুষকে বৈশিষ্ট্য-গত ভাবেই কথা বলার যোগ্যতা দান করা হয়েছে। এটা সৃষ্টির মধ্যে ব্যতীক্রম এবং সৃষ্টিকুলের মধ্যে অতীব আশ্চর্যজনক ঘটনা। স্বয়ং আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন,
“পরম করুণাময় আল্লাহ। যিনি কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনিই মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কথা বলা শিখিয়েছেন” আর-রাহমান ১-৪
মানুষের কথা বলতে পারাটা একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটার বিশদ ব্যাখা জেনে বর্তমানের বিজ্ঞানীরা বিস্ময়ে হতবাক। কিন্তু কিছুকাল আগেও মানুষ জানত না, কথা বলতে পারার মধ্যে এমন কি অর্ত্যাচার্য ব্যাখা লুকানো আছে!
এসব প্রশ্ন উত্থাপনেরও হাজার বছর আগেই, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ জানিয়ে দিলেন, মানুষকে কথা বলার শক্তি প্রদান আল্লাহর কুদরতের একটি অন্যতম নিদর্শন।
মহান আল্লাহর দাবীর কথার বাচন ভঙ্গিগুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন,
“তিনি মানুষকে কথা শিখিয়েছেন”! এই কথাটির আগের লাইনে শোনানো হয়েছে যে, তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন অতঃপর এসেছে কথা বলা শিখানো সর্ম্পকিত বাক্য! অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টিশৈলীটাই কথা বলার মত উপযোগী।
মানুষের মত দেখতে আরো বহু প্রাণী দুনিয়াতে থাকলেও তারা কথা বলতে পারে না! কথা বলার জন্যে যেমন সৃষ্টিকাঠামো দরকার, তেমন সৃষ্টিশৈলী শুধুমাত্র মানুষকেই দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে আমরা নিয়াণ্ডারথাল মানুষ সর্ম্পকে কিঞ্চিত ধারণা দিয়েছিলাম।
সামনের দিকে আরো তথ্য দেওয়া হবে। তবে তাদের দেখতে মানুষের মত মনে হলেও, তাদের সৃষ্টিশৈলীর সাথে ও মানুষের কাঠামোর কিছুটা অমিল আছে। সেই অমিলগুলোই বিবেচনার ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামনের দিকে আমরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দেখতে পাব, মানুষের সৃষ্টিশৈলী জগতের অন্য সকল কিছুর চেয়ে কত ব্যতিক্রম ও সংবেদনশীল এবং এক মহা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মানুষকে বানানো হয়েছে।
তাইতো স্পেশালী মানুষকে বানানো হয়েছে, কথা বলার যোগ্যতা দিয়েছে। যে যোগ্যতা নিয়াণ্ডারথাল প্রজাতির মানুষের ছিল না। ফলে তারা মানুষ ছিলেন না, যদিও তাদের কঙ্কালে মানুষের সাদৃশ্য ছিল। যেমনটি আছে হনুমান, শিম্পাজির।


Discussion about this post