হায়দর সাহেবের সুদর্শন, গুণধর প্রবাসী ছেলেটিকে বিয়ে দিতে মেয়ে পাচ্ছেন না। তিনি এ গ্রাম ও গ্রাম চষে বেড়িয়েছেন একটি মেয়ের আশায়। নিজের স্ট্যাটাস অনুযায়ী কারো মেয়ে পছন্দ হলেই, মিষ্টি নিয়ে হাজির হন। মেয়ের পিতা-মাতা পাকা কথাও দেন। কখনও অপরিচিত যুবকের ফোন আসে, জনাব “আপনি আর সামনে এগুবেন না”। মেয়েটির সাথে আমার যোগাযোগ আছে, সে মেয়েই বলে দিয়েছে আপনাকে জানাতে”। স্কুল লেভেলের মেয়ে দেখতে গেলে এভাবে ছেলেরাই মেয়েকে উদ্ধার করে। আর কলেজ লেভেলের মেয়ে পছন্দ হলে, মেয়েরা সরাসরি নিজেই বলে; আপনি কষ্ট করে আর আমার পিতার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলবেন না, প্লিজ।
হায়দর সাহেব দেখলেন, যে মেয়ে পছন্দ হয়, সেটাই কোন না কোন ছেলের সাথে দায়বদ্ধ! অবশেষে তিনি উকিল ধরলেন। উকিল পাঁচ মেয়ের খবর দেওয়া বাবদ হাজার বিশেক টাকা পকেটস্থ করলেন। তবে লোকমুখে উকিল কর্তৃক সংগ্রহীত মেয়েদের দুর্নাম শুনতে শুনতে, সতী-পবিত্রা মেয়ে দেশে আছে কিনা এই পেরেশানিতেই তার প্রেশার বেড়ে গেল। যে সমজে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের সুযোগ নেই সেখানে তো মানুষের হাবিজাবি মন্তব্য মনের উপর প্রভাব সৃষ্টি করবেই। দেশে একেবারেই সঠিক মেয়ে নেই, এ কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। কিন্তু হাজারো সরিষা দানার মধ্য থেকে একটি মুলোর বিচি বাছাই করা, অনেক কষ্টের। হিসেব মিলাতে গিয়ে দেখলেন, এক ছেলের জন্য বউ দেখার পিছনে, শুধুমাত্র মন্তাজ সওদাগরের দোকান থেকে, তিন মাসেই লক্ষাধিক টাকার মিষ্টি গায়েব করেছেন। অবশেষে উপায়হীন পিতা, প্রবাসী ছেলেকে ধমক দিয়ে বললেন, দেশে আস নিজ দায়িত্বে কারো মেয়েকে বউ করে ঘরে আন। আমার দৃষ্টিতে যে মেয়ে ভাল, সে মেয়ে এখন দুনিয়াতে জন্মে না।
ইংরেজ কবি জন ডান আফসোস করে কবিতায় লিখেছেন, “তোমরা যদি আমাকে একজন সতী নারীর সন্ধান দিতে পার, তাহলে হাজার মাইল হেঁটে গিয়ে হলেও তাকে আমি কুর্নিশ জানাব”। তদানীন্তন ব্রিটিশ জাতির চরিত্রহীনতার লক্ষণ দেখে তিনি আতঙ্কিত চিত্তের উপরোক্ত মন্তব্য করেন। আজ জন ডানের মৃত্যুর শত বছর পর একথা প্রমাণিত হয়েছে যে, সেদেশে সতী নারী আসলেই দুর্লভ বস্তু। রাজকুমার চার্লসের সাথে ডায়নাকে বিয়ে করাতে গিয়ে রানী এলিজাবেথ পুত্র বধূর সতীত্ব পরীক্ষা করিয়েছিলেন! অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এখন আমাদের দেশের জনগোষ্ঠী কি সে দিকেই ধাবিত হচ্ছে। ভারতের বিশ্রী যৌন সংস্কৃতি, এখন আমাদের দেশের লেখাপড়া জানা মানুষের বড় প্রিয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
হিন্দি নাটক-সিনেমায় পরকীয়ার বিষয়টি একেবারেই খোলামেলা। এসব আলোচনা করতে চক্ষু লজ্জার প্রয়োজনীয়তা নাই। কিন্তু এই কাজটি ইসলাম ধর্মে মৃত্যুদণ্ড সমতুল্য অপরাধ। ইহুদী ও খৃষ্টানদের মাঝেও একই মানের শাসন ছিল। চরিত্রহীনতার সয়লাবে তারা আগেই বরবাদ হয়েছে। এখন এর প্রভাব সারা বাংলাদেশের সর্বত্র। আর এ জন্য ভূমিকা রাখছে মিডিয়া গুলো। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে তারা রংচটা ভাব দিয়ে উত্তম স্ট্যাটাস হিসেবে চরিত্র দিয়ে বাজার মাতিয়ে রাখছে। ফলে আগে ছেলে মেয়েদের প্রেমর কথা ফাঁস হলেই আত্মহত্যা করত। এখন নিজেদের ভিডিও স্ক্যাণ্ডাল ফাঁস হলেও, মিডিয়ার দিব্যি চেহারা দেখিয়ে হাসাহাসি করছে। এটা হল মানবাত্মার পতন, ইনসানের দেহে আর মানুষের আত্মা নেই।
ভারতীয় পুরাণের একটি কাহিনী। সুন্দরী ষোড়শী রমণী উলঙ্গ অবস্থায় রাজার দরবারে হাজির! লজ্জিত রাজা প্রশ্ন করেন, কি সমস্যা তার? কেউ জানেনা তার উত্তর! অবশেষে এক গুণীজন উত্তর দেন, দেশে সু-পুরুষের অভাব হয়েছে, তাই এই নারী উলঙ্গবস্থায় রাজার দরবারে হাজির হয়েছে….। বর্তমানেও ভারতের কৃষ্টি-সভ্যতা, সংস্কৃতি এর চেয়ে বিন্দুমাত্র উন্নত হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট দলকে চাঙ্গা করতে, মডেল কন্যা পূনম পাণ্ডে, ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সামনে উলঙ্গ হবার খায়েশ হয়েছিল। সে জন্য পূনম রাষ্ট্রীয় সুযোগ ও অনুমতির প্রত্যাশী! এটি ভারতীয় সংস্কৃতির একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ। ভারতের বাজে, বিশ্রী, অসভ্য সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। আমাদের জাতি গোষ্ঠী নিঃশেষ হবার আর কিছু বাকি নাই। যারা জাতিকে রক্ষা করবে, তাদের মাথা আগেই পচা শুরু হয়েছে। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতামত, যে জাতি যৌনতা নিয়ে যত বেশী বাড়াবাড়ি করে, সে জাতি তত তাড়াতাড়ি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। যদি কিছু ক্ষমতাশালী বিবেকবান, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী মানুষ এ কাজে ভূমিকা না রাখে, তাহলে জাতি বাঁচবে না; অচিরেই অধঃপতনের নিম্নদেশে তলানি হিসেবে তিথিয়ে পড়বে আমাদের জাতিসত্তা।


Discussion about this post