হরিতকী- দেশের আশ্চর্যতম মহৌষধ

hartaki tree
অনেকেই হরিতকী নাম শুনেছেন কিংবা শুকনো হরিতকী দেখেও থাকবেন কিন্তু খুব কম সংখ্যক মানুষই আছেন, যারা হরিতকীর গাছে দেখেছেন। হরিতকী ফল দেখতে খেজুরের মত এবং দুই পার্শ্ব চাপানো। নামে ফল হলেও এই ফলের প্রতি কারো আগ্রহ তেমন একটা থাকেনা। এমনকি কাক, কাঠবিড়ালির মত সব ফল খাওয়া প্রাণীও হরিতকীর প্রতি কোন আগ্রহ দেখায় না। এটা খেতে বিস্বাদ, কিছুটা তিতা ও কষা ধরনের। তবে কেউ যদি একবার এই গাছের দ্বারা উপকার পেয়ে বসে, তাহলে সে চাইবে তার স্বপ্নের বাগানে শুধু হরিতকীই থাকুক। অর্থাৎ হরিতকীর ভিতরে লুকিয়ে থাকে প্রচুর ভেষজ গুন।হরিতকী- দেশের আশ্চর্যতম মহৌষধ
 
hartaki fruitহরিতকীকে ইংরেজিতে বলে Terminalia chebula. গাছটি অনেক বড় হয়। এই গাছে প্রচুর পরিমাণ হরিতকী হয়। এটার অন্যতম সেরা গুন হল এটি ব্যকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জনিত রোগের ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকরী ঔষধ। পরজীবী বিনাশ করতে এর কোন জুড়ি নেই। রোগ প্রতিরোধে প্রতিষেধক হিসেবে বেজায় কার্যকর। এই গাছের ছাল, ফুল, পাতা, বাকল সবই ঔষধি গুন সম্পন্ন। ফলে এই গাছে পোকার ও প্রাণীর আক্রমণ হয়না তেমন একটা। ঔষধি গাছের বাতাসও ঔষধি গুনে ভরা থাকে তাই এই গাছের নিচে বসলে নিঃশ্বাস পরিষ্কার হয়। বায়ু আরামদায়ক। একদা যাদের অনেক ভূ-সম্পত্তি থাকত তাদের বাগানের একটি হরিতকীর গাছ অবশ্যই থাকত। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে হরিতকীর বহুবিধ ব্যবহার আছে, ফলে তাদের কাছে রয়েছে এর যথেষ্ট চাহিদা। বর্তমান বাজারে হরিতকীর বহু-ধরণের প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়। এর আচার মুখে স্বাদ ফিরিয়ে আনে।
 
চলুন হরিতকীর গুনাগুণ সম্পর্কে জানি।
 
– কাশি ও শ্বাসকষ্টে হরিতকী খুবই কার্যকর।
– যকৃত, প্লীহা, বাতরোগ ও মূত্রনালির অসুখেও বিশেষ উপকারী।
– ফলের রস জ্বর, কাশি, হাঁপানি, পেট ফাঁপা, ঢেকুর উঠা বন্ধ করে।
– গলার স্বর বসে গেলে হরিতকির রস পান করলে স্বর স্বাভাবিক হয়।
– পিত্ত বেদনায় সামান্য গাওয়া ঘিয়ের সঙ্গে হরিতকী গুঁড়া সেবন করতে হয়।
– ঘন ঘন পানির তৃষ্ণা কিংবা বমি বমি ভাব কাটাতেও হরিতকী ব্যবহৃত হয়।
– চোখের রোগের ক্ষেত্রে হরিতকী ছেঁচে পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি দিয়ে চোখ ধুতে হয়।
– হরিতকী ফল হৃদরোগ, বদহজম, আমাশয়, জন্ডিস এবং ঋতুস্রাবের ব্যথায় খাওয়ানো হয়।
– রক্ত অর্শে আখের গুড়ের সঙ্গে হরিতকী গুঁড়া মিশিয়ে খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই সুফল পাওয়া যায়।
– আধুনিক ভেষজ চিকৎসকেরা ফুসফুস ও শ্বাসনালী-ঘটিত রোগে হরিতকী বহুল ব্যবহার করে থাকেন। 
– অর্শ রোগে হরিতকী চূর্ণ তিন থেকে পাঁচ গ্রাম পরিমাণ ঘোলের সঙ্গে একটু লবণ মিশিয়ে খেলে সেরে যায়।
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *