একটি গান সারা ভারতের কত মানুষকে ঈমান হারা করেছে তার হিসেব করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। গানের সুরের প্রতি পাগল মানুষেরা অত ভিতরে গিয়ে তল্লাশী করার মনোবৃত্তি সম্পন্ন নয়।
সুর ও তাল সুন্দর লাগলে, মুখস্ত করে নিজেরা গায়। অধিকন্তু এমন প্রসিদ্ধ গানের সুর নকল করে ইসলামী গান বানানোর মত বেকুব ব্যক্তিদের অভাবও মুসলিম সমাজে কম নয়। এটি সেই ঐতিহাসিক, গান আপনারা নিশ্চয়ই
“দুমা দাম মাস-কালন্দর,আলী দ্যা পেহলী নাম্বার,দুমা দাম মাস-কালন্দর,সাকি শাহ-বাজ কালন্দর,ও লাল মেরী পাট রাখিও ভালা….
সারা ভারত বর্ষ কাঁপানো এই গানের কথার গভীরে যাবার আগে চলুন দেখি গাছনে অর্থের মধ্যে কি বলা হয়েছে,
আমার প্রতিটি দম বাবা তোমার জন্য,
সর্বাগ্রে আলীর অবস্থান আমার হৃদয়ে,
আমার প্রতিটি দম তোমার উৎসর্গে নিবেদিত,
হে মহান দরবেশ,
তোমার লাল কাপড়ের আবরণে আমি সদা নিরাপত্তা পাই…
এই গানটি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র সারা জাগানো গান। অনেকে অর্থ না জানলেও গুন গুন করে নিজের অজান্তে গেয়ে উঠে। শত বছর ধরে এই গান গেয়ে, নিজেকে জাহির করেনি, এমন সেরা শিল্পী ভারতে পাওয়া দুষ্কর।
উইকিপিডিয়ার মতে গানটি রচিত হয়েছে ত্রয়োদশ শতকে। মূলত গানটি রচিত হয়েছিল, লাল শাহবাজ কালন্দর (১১৭৭-১২৭৪) নামের এক দরবেশের সৌজন্যে। তিনিও কবি ছিলেন। তার প্রকৃত নাম ছিল ‘সাইয়িদ ওসমান মারভান্দি’।
তিনি সর্বদা গায়ে একটি লাল চাদর পরে ঘোরাফেরা করতেন বলে তাতে ‘লাল দরবেশ বলা হতো’। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সবচেয়ে বেশী আলোচিত দরবেশ তিনি। তার দরগাহের সামনে, বিশাল আকৃতির ঢোল-তবলা বসিয়ে নারী-পুরুষ সবাই উদ্দাম নৃত্য করে।
যাকে হালকায়ে জিকির হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে রক্ষিত ঢোল গুলো এত বিরাটকায় যে, পুরো একটি গরুর চামড়া দিয়ে ঢোলের ঢাকনা বানানো হয়েছে। আমাদের দেশের প্রায় সকল দরগাহে ওরশের সময় এখান থেকেই বহু গায়কেরা এসে থাকে।
এই দরগাহে প্রতিবছর নতুন গান বানায়। টিভিতে শো করে, নিত্য নতুন সুরের দরবারী গান বানানোর জন্য যথেষ্ট খ্যাতি আছে এদের। পাকিস্তানের বিখ্যাত গায়ক নুসরাত ফতেহ আলী খান, লাল দরবেশের জন্যে কাওয়ালী গেয়েই ভারতীয় উপমহাদেশে খ্যাতি পেয়েছিলেন!
সে হিসেবে এই লাল দরবেশ যে, কত মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন তার হিসেব কে নেবে। ইসলাম ধর্মের নামেই মূলত এসব আয়োজন করা হয়! ইসলামকে ভালবেসেই মানুষ তার দরগাহে যায়। উপরোন্তু যারা এসবের পৃষ্ঠপোষক, তারা চড়া গলায় নিজেদের সুন্নি দাবী করে!
ভারতীয় উপমহাদেশে সম্ভবত তিনিই একমাত্র ব্যতিক্রমী দরবেশ যাকে কেন্দ্র করে ওরসও হয় আবার পূজাও হয়!
হিন্দুরা তাকে চিনে “জুলেলাল” বা লাল চাদরের সাধক হিসেবে। যার ছবি পোষ্টেই দেওয়া হয়েছে। সিন্দু প্রদেশের পাকিস্তানী হিন্দুরা তার মূর্তি বানিয়ে পুজা করে থাকে!
লাল শাহবাজ কালন্দর সম্পর্কে জানা যায়, “তিনি উপকারী মানুষ ছিলেন এবং প্রচুর কারামতের দেখিয়েছেন।” যদিও এমন কারামতের কথা ভারতীয় উপমহাদেশের সকল দরবেশের ক্ষেত্রে লাগিয়ে দেওয়া হয়।
দুনিয়ায় সংঘটিত সকল ঘটনার ইতিহাস তথ্য আকারে লিপিবদ্ধ থাকলেও, কোন কারামতেরও ঐতিহাসিক কোন সাক্ষি কিংবা দলীল থাকেনা!
লাল দরবেশ দুনিয়াতে বেঁচে নেই কিন্তু তার দরগাহ লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে পথভ্রষ্ট করার এক সূতিকাগার। দুমা দুম মাস্কালান্দার এই গান গাইলে একজন মুসলমানের ইমান নষ্ট হবে, এমনকি বিশ্বাস করে গাইলেও ইমান হারা হবে।
এটা বুঝার মত জ্ঞান কি তাদের আশের পাশের আলেমদের নেই? অবশ্যই আছে শুধু মাত্র অর্থের লোভে চোখ বন্ধ করে রাখে। অথচ এই গানের তাল দিয়েই ছয়শ বছর ধরে কত মুসলমানের ইমান হারানো হয়েছে তার হিসেবে মেলা ভার। এই দরবেশের পক্ষে এ ধরণের আরো বহু গান রয়েছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়।


Discussion about this post